পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মজাদার কবিতা হল, দারোগাবাবু এবং হাবু । এই কবিতা থেকে প্রশ্ন-উত্তর ক্যুইজ এ সমৃদ্ধ আজকের এই পাঠ। আশাকরি, তোমারা খুব মজা পাবে।
আসলে কবিতাটিতে চারজন ভাই ও তাদের পোষা প্রাণী নিয়ে একই ঘরে থাকে । আর এই নিয়ে তৈরি হয় যত সমস্যা । আর হাবু থাকতে না পেরে চলে যায় দারোগা বাবুর কাছে । এসো কবিতাটি পাঠ করি আর প্রতিটি স্তবকের অর্থ, সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলির অর্থ ও সবশেষে একটি সুন্দর ক্যুইজ খেলি ।
Total Questions: 21
Total Marks: 28
Total Slides: 7
আশাকরি তোমরা এই কবিতাটি সুন্দরভাবে বুঝতে পেরেছ। তবুও আর একবার চোখ বুলিয়ে নাও দারোগাবাবু এবং হাবু গল্পের সারাংশ ও তথ্যগুলিতে ।
দারোগাবাবু এবং হাবু: এক মজাদার সমস্যার সম্মুখীন
ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের লেখা “দারোগাবাবু এবং হাবু” কবিতাটি হাস্যরসের মাধ্যমে একটি গুরুতর অথচ সাধারণ পারিবারিক সমস্যার কথা তুলে ধরে। কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্র হাবু, যে তার বাড়ির অসহনীয় পরিস্থিতি নিয়ে নালিশ জানাতে এক ভোরে কাঁদতে কাঁদতে থানায় হাজির হয়। হাবু দারোগাবাবুকে জানায় যে, তারা চার ভাই একটি মাত্র ঘরে থাকে এবং তার তিন দাদার পোষা জীবজন্তুর কারণে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

হাবুর অদ্ভুত নালিশ
হাবু তার অভিযোগ বিস্তারিতভাবে জানায়। তার বড়দা সাতটি বেড়াল পোষেন, মেজদা পোষেন আটটি কুকুর এবং সেজদা ঘরেই দশটি ছাগল বেঁধে রাখেন। এই বিপুল সংখ্যক পশুপাখির গন্ধে হাবুর প্রাণ যায়-যায় অবস্থা। তার মনে হয়, এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দিনরাত ভগবানকে ডাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ঘরের মধ্যে এতগুলো প্রাণীর দুর্গন্ধ তার কাছে এতটাই তীব্র যে, সে কেঁদে দারোগাবাবুর কাছে এর প্রতিকার চায়। হাবুর বর্ণনায় তার অসহায়ত্ব এবং কষ্ট স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা পাঠকের মনে করুণা জাগায়।
সমাধান এবং আসল রহস্য
সব শুনে দারোগাবাবু একটি অত্যন্ত সহজ এবং যুক্তিসঙ্গত সমাধান দেন। তিনি হাবুকে উপদেশ দেন ঘরের দরজা-জানলা সবসময় খোলা রাখতে, যাতে বদ্ধ দুর্গন্ধ বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে এবং ঘরে আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে। কিন্তু এই সহজ সমাধান শুনেই হাবু আরও বেশি মুষড়ে পড়ে। এখানেই কবিতার আসল মজা লুকিয়ে আছে। হাবু করুণ সুরে দারোগাবাবুকে জানায় যে, দরজা-জানলা খোলা রাখলে তার নিজের পোষা দেড়শোটি পায়রা উড়ে যাবে। এই চূড়ান্ত তথ্যটি প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে পুরো গল্পের মোড় ঘুরে যায়। পাঠক বুঝতে পারে যে, হাবু নিজে শুধু ভুক্তভোগীই নয়, সে নিজেও এই সমস্যার এক বিরাট অংশীদার। এই মজাদার সমাপ্তি কবিতাটিকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে এবং দেখিয়েছে কীভাবে মানুষ প্রায়শই নিজের দোষত্রুটি দেখতে পায় না।
দারোগাবাবু এবং হাবু কবিতার বিসয়বস্ত, ক্যুইজ ও পাঠ কেমন লাগলো তা অবশ্যই জানাবে কমেন্ট বক্স এ । আর হ্যাঁ, অবশ্যই ক্যুইজ টিতে রেটিং দিতে ভুলবে না ।
