পঞ্চম শ্রেণির প্রথম কবিতা হল গল্পবুড়ো যেটি লিখেছেন কবি সুনির্মল বসু। এই কবিতাটি একটি মজাদার গল্পবলার ঘটনা বর্ণিত আছে যেখানে এক গল্পবলা বুড়ো মানুষ যিনি ছোটদের গল্প বলেন এক বিশেষ শর্তের মধ্য দিয়ে । নীচে তোমাদের জন্য কবিতা পাঠ করে দেওয়া হয়েছে, তোমাদের মোবাইলের বা কম্পিউটার এর সঠিক মাত্রায় সাউন্ড দিয়ে শুনতে থাকো । আর হ্যাঁ, সবুজ কালারের শব্দগুলির ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে, আরে “Explain” বটনে প্রতিটি অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা ও করে দেওয়া হয়েছে ।
Total Slides: 7
“গল্পবুড়ো”: এক শীতের সকালের আহ্বান
সুনির্মল বসুর লেখা “গল্পবুড়ো” কবিতাটি এক শীতের ভোরে শিশুদের জন্য রূপকথার জগত নিয়ে আসা এক বৃদ্ধ গল্পকথকের ছবি তুলে ধরে। কবিতাটির শুরুতেই দেখা যায়, উত্তুরে হাওয়া বইছে এবং এক থুথুড়ে গল্পবুড়ো সেই শীতের সকালে দ্রুত পায়ে হেঁটে চলেছে। তার কাঁধে একটি ঝোলা, আর মুখে “রূপকথা চাই, রূপকথা-” বলে চিৎকার। এই আহ্বানের মাধ্যমে সে ছোটোদের ঘুম থেকে উঠে তার কাছে ছুটে আসতে বলছে, কারণ তার ঝোলা বা তল্পিটি সাধারণ কোনো ঝোলা নয়, বরং কল্পনার এক আশ্চর্য ভান্ডার।

গল্পবুড়োর ঝোলার আশ্চর্য জগৎ
কবিতায় গল্পবুড়ো তার ঝোলার ভেতরের জিনিসপত্রের এক লোভনীয় তালিকা দেয়। সেই ঝোলা মন-ভোলানো গল্পে ভরা। তার মধ্যে রয়েছে দত্যি, দানব, যক্ষিরাজ, রাজপুত্র এবং পক্ষীরাজের মতো রূপকথার সব পরিচিত চরিত্র। শুধু তাই নয়, সেখানে রয়েছে মনপবনের দাঁড়, কড়ির পাহাড়, চোখ-ধাঁধানো মানিক-হীরা এবং ঝলমলে সোনার কাঠি। তেপান্তরের মাঠ থেকে শুরু করে হট্টমেলার হাট, সবকিছুই যেন তার সেই ছোট ঝোলার মধ্যে বন্দী হয়ে আছে। এমনকি কেশবতী নন্দিনীও সেই থলেতে বন্দী। এই জাদুকরী বর্ণনা শিশুদের কল্পনাকে উসকে দেয় এবং তাদের গল্প শোনার জন্য আগ্রহী করে তোলে।
গল্প শোনার শর্ত
তবে গল্পবুড়ো তার এই আশ্চর্য জগতের গল্প শোনানোর জন্য একটি শর্ত আরোপ করে। সে জানায়, এই কনকনে শীতের সকালে যারা তার ডাকে সাড়া দেবে না এবং ঘুম ছেড়ে উঠে আসবে না, তারা তার শত্রু। সেই অলস শিশুদের মূর্খতা ভাঙার জন্য সে তাদের কোনো রূপকথার গল্প শোনাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এই শর্তের মাধ্যমে কবি আসলে শিশুদের অলসতা ত্যাগ করে জ্ঞান ও আনন্দের জগতে প্রবেশ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। কবিতাটি রূপকথার প্রতি চিরন্তন আকর্ষণ এবং শৈশবের নির্মল কল্পনাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
