ছাত্রছাত্রীরা, আজ আমরা এক অদ্ভুত আর জাদুকরী গাছের কবিতা পড়ব। কবিতাটির নাম ‘মায়াতরু’ আর এটি লিখেছেন কবি অশোকবিজয় রাহা। ‘মায়া’ কথাটার মানে হলো জাদু বা ভ্রম। আর ‘তরু’ মানে হলো গাছ। তাহলে, ‘মায়াতরু’ মানে কী দাঁড়াল? ঠিক ধরেছ, এক জাদুকরী গাছ! এই গাছটা কিন্তু সাধারণ গাছের মতো নয়। সে সময় আর আবহাওয়ার সাথে সাথে নিজের রূপ পাল্টে ফেলে।
এই কবিতার মাধ্যমে কবি আমাদের কল্পনা করতে শিখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, প্রকৃতির দিকে যদি আমরা একটু অন্য চোখে, একটু কল্পনার দৃষ্টি দিয়ে তাকাই, তাহলে একটা সাধারণ গাছও কত রহস্যময় আর জাদুকরী হয়ে উঠতে পারে। চলো, আমরা কবিতার গভীরে গিয়ে এই মায়াবী গাছটার সবকটা রূপ দেখে আসি। তোমাদের জন্য শেষে একটি মজার কুইজ এবং প্রতিটি লাইনের ব্যাখ্যাসহ একটি নলেজ স্লাইডও তৈরি করা আছে!
Total Questions: 22
Total Marks: 30
Total Slides: 3
মায়াতরু: এক জাদুকরী গাছের গল্প
কবিতাটিতে কবি আমাদের এক আশ্চর্য গাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন। গাছটি সন্ধেবেলা ভূতের মতো নাচত, আবার চাঁদের আলোয় ভালুক হয়ে গর্জন করত! এখানেই শেষ নয়, বৃষ্টি নামলে তার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসত। কী অদ্ভুত, তাই না? এই গাছটি যেন এক बहুরূপী, যে প্রতিনিয়ত আমাদের অবাক করে দেয়।
কবিতার মূলভাব: প্রকৃতি ও কল্পনার অপূর্ব মেলবন্ধন
‘মায়াতরু’ কবিতাটির মূলভাব হলো প্রকৃতির মধ্যে লুকিয়ে থাকা অপার বিস্ময় এবং তাকে দেখার জন্য প্রয়োজনীয় কল্পনাশক্তি। কবি অশোকবিজয় রাহা এখানে একটি গাছকে কেন্দ্র করে দেখিয়েছেন যে, আমাদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গিই একটি সাধারণ জিনিসকে অসাধারণ করে তুলতে পারে। গাছটি বাস্তবে রূপ পরিবর্তন করে না, কিন্তু আলো-আঁধারের খেলা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনে কবির চোখে তার রূপ বদলে যায়।
সন্ধ্যার আবছা অন্ধকারে গাছের দুলতে থাকা ডালপালা কবির চোখে ‘ভূতের নাচ’ হয়ে ওঠে। আবার, রাতের বেলা চাঁদের আলোয় গাছের ছায়া-সহ বিশাল আকৃতিকে কবির একটি ‘ঘাড় ফোলানো ভালুক’ বলে মনে হয়। বৃষ্টিতে ভেজা পাতার কাঁপুনিকে তিনি ‘কম্প দিয়ে জ্বর’ আসার সাথে তুলনা করেছেন। এই সমস্ত ঘটনাই কবির অপূর্ব কল্পনার ফসল।
কবিতার সবচেয়ে সুন্দর কল্পনাটি হলো বৃষ্টি শেষের দৃশ্য। এক পশলা বৃষ্টির পর গাছের পাতায় জমে থাকা জলের ফোঁটা যখন চাঁদের আলোয় ঝলমল করে, তখন কবির মনে হয় গাছটি যেন ‘লক্ষ হীরার মাছ’-এর ঝাঁক দিয়ে তৈরি একটি মুকুট হয়ে গেছে। আবার ভোরের আলোয় সেই জলের ফোঁটা বা শিশিরবিন্দুগুলো যখন মাটিতে পড়ে আলোর কারুকার্য তৈরি করে, তখন তাকে ‘রূপালি এক ঝালর’ বলে মনে হয়। এভাবেই কবি বুঝিয়েছেন যে, প্রকৃতি নিজেই এক জাদুকর, আর সেই জাদু দেখার জন্য আমাদের শুধু কল্পনার চোখটুকু খোলা রাখতে হয়।
আশা করি তোমরা কবিতার মূলভাবটি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছ। এবং এই অধ্যায় থেকে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর করতে পারবে।
