পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের কবিতা লিমেরিক যার মূল রচয়িতা হলেন এডওয়ার্ড লিয়ার আর বাংলায় তর্জমা করেছেন কবি সত্যজিৎ রায় মহাশয় । আমরা এই কবিতাটি পাঠ করব, সঙ্গে ব্যখ্যা ও জানব প্রতিটি ছত্রের । আর গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলির অর্থও জেনে নেব । আর আমাদের সবচেয়ে প্রিয় ক্যুইজ ও খেলব ।
এই তিনটি কবিতাই আমাদের শেখায় যে কল্পনা কত সুন্দর আর মজার হতে পারে। কবি অসম্ভব সব ঘটনাকে এমনভাবে ছন্দে বেঁধেছেন যে, তা আমাদের হাসাতে বাধ্য করে। চলো, আমরা কবিতাগুলো আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করি। তোমাদের জন্য শেষে একটি মজার কুইজ আর প্রতিটি কবিতার লাইন ধরে ধরে ব্যাখ্যাসহ একটি নলেজ স্লাইডও তৈরি করা আছে। এবং ক্যুইজ অংশে লিমেরিক থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ও দেওয়া আছে ।
Total Questions: 22
Total Marks: 30
Total Slides: 3
লিমেরিক: এডওয়ার্ড লিয়রের হাসির কবিতা
ছাত্রছাত্রীরা, আজ আমরা তোমাদের বাংলা বইয়ের অন্যতম মজার কয়েকটি কবিতা পড়ব। এগুলোর নাম ‘লিমেরিক’ আর এগুলোর মূল রচয়িতা হলেন ইংরেজ কবি এডওয়ার্ড লিয়র। লিমেরিক মানেই হলো হাসির ছড়া। এর উদ্দেশ্য কোনো জ্ঞান দেওয়া নয়, বরং অদ্ভুত সব কল্পনা আর মজাদার ছন্দের মাধ্যমে আমাদের আনন্দ দেওয়া। তোমাদের বইতে এরকম তিনটি ছোট্ট মজার কবিতা দেওয়া আছে, যা পড়লে তোমাদের মন ভালো হয়ে যাবেই!
- প্রথম কবিতাটিতে আমরা একজন অদ্ভুত বুড়োর কথা জানতে পারব, যাঁর দাড়ির মধ্যে কিনা আস্ত একটা চিড়িয়াখানা! ভাবো তো একবার, দাড়ির ভেতরে মোরগ, শালিক, প্যাঁচা আর হাঁস মিলেমিশে বাসা বেঁধেছে!
- দ্বিতীয় কবিতাটি আরও মজার। এখানে একজন ছোট্ট বাবু ফুলের উপর বসে আছে, আর তার সাথে এক মৌমাছির লেগে গেছে তুমুল ঝগড়া।
- আর সত্যজিৎ রায়ের অনুবাদ করা তৃতীয় কবিতাটিতে আমরা এমন একজনের কথা পড়ব, যে পাখি নিয়ে সমস্ত বই পড়ে ফেলার পর এক অদ্ভুত কারণে আফসোস করছে।
লিমেরিক কবিতার মূল ভাব ও সারাংশ
এডওয়ার্ড লিয়রের এই লিমেরিকগুলির মূলভাব হলো নির্মল হাস্যরস এবং অদ্ভুত কল্পনার জগৎ তৈরি করা। এই কবিতাগুলিকে ইংরেজিতে ‘ননসেন্স ভার্স’ বা অর্থহীন মজার ছড়া বলা হয়, কারণ এখানে যুক্তির চেয়ে উদ্ভট কল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রথম কবিতায়, একজন বুড়োর দাড়িতে বিভিন্ন পাখির বাস করার ধারণাটিই অত্যন্ত হাস্যকর। বাস্তব জগতে এমনটা সম্ভব নয়, কিন্তু কবি এই অসম্ভব কল্পনাকেই কবিতার রূপ দিয়ে আমাদের আনন্দ দেন। এটি আমাদের কল্পনাশক্তিকে উসকে দেয়।
দ্বিতীয় কবিতায়, একটি ফুল গাছের উপর অধিকার নিয়ে একজন ক্ষুদ্র মানুষ (‘খুদে বাবু’) এবং একটি মৌমাছির মধ্যে ঝগড়া দেখানো হয়েছে। এখানে পরিস্থিতিটাই খুব মজার। মৌমাছির যুক্তি হলো, ফুলে তার মধু খাওয়ার অধিকার আছে। আর বাবুর পাল্টা যুক্তি হলো, মৌমাছি আছে বলে কি গাছে অন্য কেউ বসবে না? এই ছোট্ট সংলাপের মাধ্যমে কবি একটি হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।
সত্যজিৎ রায় অনূদিত তৃতীয় কবিতাটি একটু অন্যরকম। এটি ঠিক পাঁচ লাইনের লিমেরিক না হলেও এর মধ্যে থাকা హాస్యం একই ঘরানার। একজন ব্যক্তি পাখি বিষয়ে সমস্ত বই পড়ে ফেলার পর এই ভেবে দুঃখ করছেন যে, ‘তকমা-আঁটা’ বা লেবেল লাগানো কোনো পাখি বাস্তবে নেই। এটি একটি বুদ্ধদীপ্ত এবং মজাদার উপলব্ধি, যা আমাদের হাসাতে সাহায্য করে। সব মিলিয়ে, এই কবিতাগুলো আমাদের শেখায় যে, জীবনকে মাঝে মাঝে হালকাভাবে এবং মজার দৃষ্টিতে দেখাও খুব জরুরি।
আশা করি তোমরা কবিতাগুলোর ভেতরের মজাটা ধরতে পেরেছ। ক্যুইজটি নিশ্চয় খেলে ফেলছ, এবার কমেন্টে আমাদের জানাও তোমার স্কোর কত হলো!
