Install our QSH India App. Less than 2 MB.

বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (Heredity and Genetic Diseases)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান বিষয়ের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ”। এই অধ্যায়টিকে আমরা মুল ৫ টি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করেছি এবং প্রত্যেকটি ভাগে ইন্টার‌্যাক্টিভ ক্যুইজও প্রদান করা হয়েছে ।

তোমরা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছ, কাউকে দেখতে অবিকল তার বাবার মতো, আবার কারোর চোখের রং বা চুলের ধরন তার মায়ের মতো। এমনকি দাদু-দিদিমার বৈশিষ্ট্যও অনেক সময় নাতি-নাতনিদের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছ, কীভাবে এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো এক প্রজন্ম থেকে ঠিক পরের প্রজন্মে নদীর স্রোতের মতো বয়ে চলে? জীববিজ্ঞানের যে শাখায় এই চমৎকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকেই বংশগতি (Heredity) বলে।

এই অধ্যায়ে আমরা বংশগতির জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের বিখ্যাত মটরগাছ এবং গিনিপিগের ওপর করা একসংকর ও দ্বিসংকর জননের পরীক্ষাগুলো সম্পর্কে জানব। আমরা শিখব কীভাবে মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ (Sex Determination) হয় এবং কেন কিছু রোগ (যেমন- থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, বর্ণান্ধতা) বংশপরম্পরায় বাবা-মায়ের থেকে সন্তানদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। চলো, জেনেটিক্সের এই রোমাঞ্চকর দুনিয়ায় প্রবেশ করি!

অধ্যায়ের বিষয়বস্তু ও কুইজ (Topic-wise Lessons & Quizzes)

পড়ার সুবিধার জন্য এবং মাধ্যমিকে ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে আমরা এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টিকে ৫টি সহজ পর্বে (Topics) ভাগ করেছি। নিচের লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করে তোমরা প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত নোটস পড়ো এবং ইন্টারেক্টিভ কুইজে অংশগ্রহণ করে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে নাও:

প্রতিটি অধ্যায় ধাপে ধাপে অধ্যয়ন করো এবং শেষে দেওয়া কুইজগুলোতে অংশগ্রহণ করে মাধ্যমিকে নিজের সেরা ফলাফল নিশ্চিত করো!

বংশগতি এবং জিনগত রোগ

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের একনজরে রূপরেখা (Chapter at a Glance)

🧬 বংশগতির মূল ভিত্তি

  • অ্যালিল: সমসংস্থ ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রূপভেদ
  • ফিনোটাইপ: জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য
  • জিনোটাইপ: জীবের জিনগত গঠন

🌱 মেন্ডেলের পরীক্ষা

  • মটরগাছ: মেন্ডেলের পরীক্ষার প্রধান উপাদান (৭ জোড়া বৈশিষ্ট্য)
  • প্রথম সূত্র: পৃথগীভবন সূত্র (Law of Segregation)
  • দ্বিতীয় সূত্র: স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র (Law of Independent Assortment)

👶 লিঙ্গ নির্ধারণ ও ব্যতিক্রম

  • লিঙ্গ নির্ধারণ: মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ‘Y’ ক্রোমোজোমের ভূমিকা প্রধান
  • অসম্পূর্ণ প্রকটতা: সন্ধ্যামালতী ফুলে লাল ও সাদার মিলনে গোলাপি ফুল সৃষ্টি (1:2:1)

🩸 জিনগত রোগ

  • থ্যালাসেমিয়া:অটোজোম বাহিত রক্তাল্পতা রোগ
  • হিমোফিলিয়া: X-ক্রোমোজোম বাহিত রক্ততঞ্চন ঘটিত রোগ
  • বর্ণান্ধতা: X-ক্রোমোজোম বাহিত লাল-সবুজ রং চিনতে না পারার রোগ

সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQs)

বংশগতি বা Heredity কাকে বলে?

যে প্রক্রিয়ায় পিতা-মাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো (যেমন- চোখের রং, চুলের ধরন) ক্রোমোজোম বা জিনের মাধ্যমে বংশপরম্পরায় সন্তানসন্ততির দেহে সঞ্চারিত হয়, জীববিজ্ঞানে তাকেই বংশগতি (Heredity) বলা হয়।

বংশগতির জনক কাকে বলা হয় এবং কেন?

অস্ট্রিয়াবাসী ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে বংশগতির জনক বলা হয়। কারণ তিনিই প্রথম মটরগাছের ওপর বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষার মাধ্যমে বংশগতির দুটি বিখ্যাত সূত্র (পৃথগীভবন সূত্র এবং স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র) আবিষ্কার করেছিলেন।

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে কার ভূমিকা প্রধান?

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকাই প্রধান। কারণ মায়ের দেহে শুধুমাত্র ‘X’ ক্রোমোজোম থাকে, কিন্তু পিতার দেহে ‘X’ এবং ‘Y’ উভয় ক্রোমোজোমই থাকে। পিতার ‘Y’ ক্রোমোজোম ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলেই পুত্রসন্তান জন্মায়।

থ্যালাসেমিয়া রোগ কেন হয়?

থ্যালাসেমিয়া হলো একটি অটোজোম বাহিত জিনগত রোগ। মানুষের রক্তে থাকা হিমোগ্লোবিন তৈরির জিনটি ত্রুটিপূর্ণ হলে রক্তে হিমোগ্লোবিন ঠিকমতো তৈরি হয় না, ফলে রোগীর দেহে চরম রক্তাল্পতা (Anemia) দেখা দেয়।

Share this:

Leave a Comment

×
Life Science
ASK