পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান ক্লাসে তোমাদের স্বাগত। আমাদের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’-এর প্রথম পর্বের আলোচ্য বিষয় হলো “নাইট্রোজেন চক্র ও তার গুরুত্ব” (Nitrogen Cycle and its Importance)।
তোমরা কি জানো, আমাদের চারপাশের বাতাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে (প্রায় ৭৮.০৯%) কোন গ্যাস রয়েছে? হ্যাঁ, সেটি হলো নাইট্রোজেন! আমাদের শরীরের প্রোটিন, ডিএনএ (DNA) এবং আরএনএ (RNA) তৈরি করার জন্য নাইট্রোজেন অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত নাইট্রোজেন বাতাসে থাকা সত্ত্বেও আমরা বা কোনো উদ্ভিদ সরাসরি শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে সেই নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারি না। তাহলে কীভাবে এই অতি প্রয়োজনীয় উপাদানটি আমাদের শরীরে আসে? এই জাদুকরী কাজটি সম্পন্ন হয় একটি বিশেষ চক্রের মাধ্যমে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘নাইট্রোজেন চক্র’ (Nitrogen Cycle)।
নাইট্রোজেন চক্র ও তার গুরুত্ব
প্রকৃতিতে কিছু অত্যন্ত উপকারী ছোট্ট ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যারা এই পুরো চক্রটি পরিচালনা করে। এই লেসনে আমরা ধাপে ধাপে শিখব কীভাবে বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে আসে এবং আবার বাতাসে ফিরে যায়:
- নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ (Nitrogen Fixation): বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের ফলে কীভাবে বাতাসের নাইট্রোজেন বৃষ্টির জলের সাথে মিশে মাটিতে আসে। এছাড়া, মটর বা ডাল জাতীয় (শিম্বগোত্রীয়) উদ্ভিদের মূলে বসবাসকারী ‘রাইজোবিয়াম’ (Rhizobium) এবং স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া যেমন ‘অ্যাজোটোব্যাকটর’ কীভাবে সরাসরি বাতাস থেকে নাইট্রোজেন টেনে মাটিতে মিশিয়ে দেয়, তা আমরা জানব।
- অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification): উদ্ভিদ বা প্রাণী মারা যাওয়ার পর পচনকারী ব্যাকটেরিয়া (যেমন- ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস) কীভাবে সেই মৃতদেহ পচিয়ে মাটিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি করে।
- নাইট্রিফিকেশন (Nitrification): মাটিতে থাকা অ্যামোনিয়া সরাসরি গাছ নিতে পারে না। তাই ‘নাইট্রোসোমোনাস’ এবং ‘নাইট্রোব্যাকটর’ নামক ব্যাকটেরিয়া কীভাবে সেই অ্যামোনিয়াকে উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য নাইট্রেট লবণে পরিণত করে, তা আমরা শিখব।
- ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification): যেখানকার জিনিস, সেখানে তো ফিরিয়ে দিতে হবে! ‘সিউডোমোনাস’ বা ‘থায়োব্যাসিলাস’-এর মতো ব্যাকটেরিয়ারা কীভাবে মাটির অতিরিক্ত নাইট্রেটকে ভেঙে আবার মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস হিসেবে বাতাসে ফিরিয়ে দেয়।
- মানুষের ক্ষতিকর প্রভাব: কৃষিকাজে ফলন বাড়ানোর জন্য মানুষের যথেচ্ছ নাইট্রোজেন যুক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে কীভাবে এই প্রাকৃতিক চক্রটি নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain) এবং গ্রিনহাউস গ্যাস (N₂O)-এর মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব।
নাইট্রোজেন চক্র ও তার গুরুত্ব ক্যুইজ
আমাদের পরিবেশের প্রতিটি উপাদান যে কীভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল, তা এই চক্রটি না পড়লে জানাই যেত না। নিচে দেওয়া নলেজ স্লাইডগুলো থেকে প্রতিটি ব্যাকটেরিয়ার নাম এবং তাদের কাজ খুব সতর্কতার সাথে পড়ে নাও। পড়া শেষ হলে নিচের কুইজটিতে অংশ নাও এবং যাচাই করো এই জাদুকরী চক্রের কতটুকু তুমি আয়ত্ত করতে পেরেছ!
Total Slides: 7
Rate this Quiz
Average Rating: 5 / 5 (1 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 21 | Total Marks: 33
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাসের স্বাভাবিক পরিমাণ প্রায় কত শতাংশ?
নিচের কোনটি একটি স্বাধীনজীবী নাইট্রোজেন আবদ্ধকারী ব্যাকটেরিয়া?
শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদ (যেমন মটর গাছ)-এর মূলে বসবাসকারী মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়াটির নাম কী?
মৃত জীবদেহ পচিয়ে অ্যামোনিয়া তৈরি করতে সাহায্য করে কোন ব্যাকটেরিয়া (অ্যামোনিফাইং ব্যাকটেরিয়া)?
মাটিতে উপস্থিত অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইট-এ রূপান্তরিত করে কোন ব্যাকটেরিয়া?
মাটির নাইট্রাইটকে উদ্ভিদের গ্রহণীয় নাইট্রেট লবণে রূপান্তরিত করে কোন ব্যাকটেরিয়া?
মাটিতে আবদ্ধ নাইট্রোজেনকে ভেঙে পুনরায় মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস হিসেবে বাতাসে ফিরিয়ে দেয় কোন ব্যাকটেরিয়া?
মানুষের অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে কোন গ্রিনহাউস গ্যাসটির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে?
প্রাকৃতিক উপায়ে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণের জন্য কোন শক্তির প্রয়োজন হয়?
কোন প্রকার উদ্ভিদের চাষ করলে জমিতে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়?
ম্যাচ করো
ম্যাচ করো
ম্যাচ করো
Topic: নাইট্রোজেন চক্র
বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেনকে উদ্ভিদ সরাসরি পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে।
Topic: মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া
রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া মটর বা ছোলা গাছের মূলের অর্বুদে বা গুটিতে বসবাস করে।
Topic: ডিনাইট্রিফিকেশন
সিউডোমোনাস হলো এমন এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া যা মাটির উর্বরতা বা নাইট্রোজেনের পরিমাণ হ্রাস করে।
Topic: নাইট্রিফিকেশন
অ্যামোনিয়া থেকে নাইট্রেট তৈরি হওয়ার পদ্ধতিকে অ্যামোনিফিকেশন বলা হয়।
Topic: মানুষের প্রভাব
কৃষিজমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া বা নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না।
শূন্যস্থান পূরণ করো।
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাসের স্বাভাবিক পরিমাণ হলো প্রায় শতাংশ।
শূন্যস্থান পূরণ করো।
মাটিতে থাকা অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইটে রূপান্তরিত করে নামক ব্যাকটেরিয়া।
শূন্যস্থান পূরণ করো।
কৃষিজমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ধুয়ে পুকুরের জলে মিশলে শৈবালের অতিবৃদ্ধি ঘটে, এই ঘটনাকে বলে।
গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্কসমূহ:
সম্পূর্ণ সিলেবাস বা মূল পাতায় ফিরে যেতে নিচের লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করো:
- 📖 পঞ্চম অধ্যায়ের মূল পাতা: পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ (Environment & Conservation)
- 🏠 জীবন বিজ্ঞান সূচিপত্র: দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান (Class 10 Life Science) – All Chapters
Leave a Reply