পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান সিলেবাসের চতুর্থ অধ্যায় “অভিব্যক্তি ও অভিযোজন”-এ তোমাদের সবাইকে স্বাগত!
তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছ, কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবী কেমন ছিল? কীভাবে এই পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সৃষ্টি হলো? বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, সরল এককোষী জীব থেকেই কোটি কোটি বছর ধরে ধীর, গতিশীল ও ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আজকের এই জটিল ও উন্নত জীবজগতের সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই চমৎকার প্রক্রিয়াটিকেই বলা হয় অভিব্যক্তি বা বিবর্তন (Evolution)।
তবে শুধু পরিবর্তন হলেই তো হবে না, পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে পৃথিবীতে টিকে থাকাও জরুরি! তীব্র গরমে উট কীভাবে মরুভূমিতে বেঁচে থাকে, বা জলের তলায় মাছ কীভাবে অবলীলায় সাঁতার কাটে? জীবদেহের এই গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় এবং আচরণগত পরিবর্তনগুলোকেই অভিযোজন (Adaptation) বলা হয়। এই অধ্যায়ে আমরা জীবনের উৎপত্তি, বিবর্তন সম্পর্কে ল্যামার্ক ও ডারউইনের যুগান্তকারী মতবাদ এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদের বাঁচার বিচিত্র কৌশলগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
অধ্যায়ের বিষয়বস্তু ও কুইজ
পড়ার সুবিধার জন্য এই অত্যন্ত আকর্ষণীয় অধ্যায়টিকে আমরা ৫টি সহজ পর্বে (Topics) ভাগ করেছি। নিচের লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করে তোমরা প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত নোটস পড়ো এবং ইন্টারেক্টিভ কুইজে অংশগ্রহণ করে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে নাও:
- পর্ব ১:জীবনের উৎপত্তি ও অভিব্যক্তির ধারণা
পৃথিবীর সৃষ্টি, ওপারিন ও হ্যালডেনের ধারণা, কোয়াসারভেট এবং স্ট্যানলে মিলার ও হ্যারল্ড উরের বিখ্যাত পরীক্ষা। - পর্ব ২:বিবর্তনের মতবাদ: ল্যামার্ক ও ডারউইন
ল্যামার্কের ‘অর্জিত গুণের বংশানুসরণ’ এবং ডারউইনের ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ (Natural Selection) ও ‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’-এর বিস্তারিত আলোচনা। - পর্ব ৩:জৈব অভিব্যক্তির স্বপক্ষে প্রমাণ
ঘোড়ার বিবর্তনের জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ, সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ, নিষ্ক্রিয় অঙ্গ এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের গঠনগত প্রমাণ। - পর্ব ৪:উদ্ভিদ ও প্রাণীর অঙ্গসংস্থানগত অভিযোজন
ক্যাকটাস ও সুন্দরী গাছের অভিযোজন এবং রুই মাছের পটকা, পায়রারবায়ুথলি ও উটের জল সংরক্ষণের বিশেষ কৌশল। - পর্ব ৫:প্রাণীদের আচরণগত অভিযোজন
শিম্পাঞ্জিদের সমস্যা সমাধান করার অদ্ভুত কৌশল এবং শ্রমিক মৌমাছির বার্তা আদানপ্রদানের জন্য ওয়াগল নৃত্য (Waggle Dance)।
প্রতিটি অধ্যায় ধাপে ধাপে অধ্যয়ন করো এবং শেষে দেওয়া কুইজগুলোতে অংশগ্রহণ করে মাধ্যমিকে নিজের সেরা ফলাফল নিশ্চিত করো!
অভিব্যক্তি ও অভিযোজন
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের একনজরে রূপরেখা (Chapter at a Glance)
🌍 জীবনের উৎপত্তি
- হট ডাইলিউট স্যুপ: সমুদ্রের তপ্ত জলে রাসায়নিক উপাদান
- কোয়াসারভেট: প্রোটিন, লিপিড ও কার্বোহাইড্রেটের আবরণীযুক্ত কণা
- মিলার ও উরের পরীক্ষা: অ্যামিনো অ্যাসিড সৃষ্টির ল্যাবরেটরি প্রমাণ
📜 বিবর্তনের মতবাদ
- ল্যামার্কবাদ: ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র, অর্জিত গুণের বংশানুসরণ
- ডারউইনবাদ:অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম, যোগ্যতমের উদ্বর্তন
- প্রাকৃতিক নির্বাচন: প্রকৃতি কর্তৃক উপযুক্ত জীবের বেঁচে থাকা
🦴 বিবর্তনের প্রমাণ
- জীবাশ্ম:ইওহিপ্পাস থেকে ইকুয়াস (ঘোড়ার বিবর্তন)
- সমসংস্থ অঙ্গ: উৎপত্তি এক কিন্তু কাজ আলাদা (মানুষের হাত, তিমির ফ্লিপার)
- নিষ্ক্রিয় অঙ্গ: মানুষের অ্যাপেনডিক্স, ককসিস
🌵 অঙ্গসংস্থানগত অভিযোজন
- ক্যাকটাস: পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত, পুরু কিউটিকল
- রুই মাছ ও পায়রা: পটকা (গ্যাস পূর্ণ) এবং বায়ুথলি (ওড়ার জন্য হালকা)
- উট: জল সংরক্ষণের জন্য ওভিমুখী নিঃশ্বাস ও বিশেষ লোহিত রক্তকণিকা
🧠 আচরণগত অভিযোজন
- শিম্পাঞ্জি:উইপোকা শিকার, পাথর দিয়ে বাদাম ভাঙা, ভেষজ ওষুধ চেনা
- মৌমাছি: খাদ্যের সন্ধানে গোল বা ‘৪’ (ওয়াগল) আকৃতির বিশেষ নৃত্য
সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQs)
অভিব্যক্তি বা বিবর্তন (Evolution) কাকে বলে?
যে মন্থর, ধারাবাহিক ও গতিশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরলতম উদ্বংশীয় জীব থেকে যুগ যুগ ধরে ধীর পরিবর্তনের মাধ্যমে জটিল ও উন্নত নতুন জীবের সৃষ্টি হয়, তাকেই অভিব্যক্তি বা জৈব বিবর্তন বলে।
ল্যামার্ক ও ডারউইনের মতবাদের মূল পার্থক্য কী?
ফরাসি বিজ্ঞানী ল্যামার্কের মতে, জীব তার অঙ্গের ‘ব্যবহার ও অব্যবহারের’ মাধ্যমে যে গুণগুলো অর্জন করে, তা বংশপরম্পরায় ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে চার্লস ডারউইনের মতে, প্রকৃতিতে ‘অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম’ চলে, এবং যারা পরিবেশের সাথে সবচেয়ে বেশি মানিয়ে নিতে পারে (প্রাকৃতিক নির্বাচন), তারাই বেঁচে থাকে (যোগ্যতমের উদ্বর্তন)।
সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের মধ্যে পার্থক্য কী?
যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন এক কিন্তু কাজ আলাদা (যেমন- মানুষের হাত ও তিমির ফ্লিপার), তাদের সমসংস্থ (Homologous) অঙ্গ বলে। আর যেসব অঙ্গের উৎপত্তি আলাদা কিন্তু কাজ এক (যেমন- পাখি ও পতঙ্গের ডানা), তাদের সমবৃত্তীয় (Analogous) অঙ্গ বলে।
অভিযোজন বা Adaptation বলতে কী বোঝায়?
পরিবর্তিত বা প্রতিকূল পরিবেশে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার এবং বংশবৃদ্ধি করার জন্য জীবের অঙ্গসংস্থানগত, শারীরবৃত্তীয় বা আচরণগত যেসব স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে, তাকেই অভিযোজন বলে। যেমন- মরুভূমিতে বাঁচার জন্য ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হওয়া।
