পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান ক্লাসের তৃতীয় অধ্যায় ‘বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ’-এর তৃতীয় পর্বের আলোচ্য বিষয় হলো “মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন” (Dihybrid Cross)। আগের পর্বে আমরা মেন্ডেলের একসংকর জনন বা একজোড়া বৈশিষ্ট্য নিয়ে করা পরীক্ষা সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু প্রকৃতিতে কি উদ্ভিদ বা প্রাণীদের মাত্র একটাই বৈশিষ্ট্য থাকে? একেবারেই না! তাই মেন্ডেল এবার ঠিক করলেন, তিনি একসাথে দু-জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা করবেন। এই পরীক্ষাকেই দ্বিসংকর জনন বলা হয়। এখানে আমরা মটরগাছের বীজপত্রের রং (হলুদ-সবুজ) ও বীজের আকার (গোলাকার-কুঞ্চিত)—এই দু-জোড়া বৈশিষ্ট্যের সংকরায়ণ এবং গিনিপিগের লোমের রং ও প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে দ্বিসংকর জনন বুঝব।
এবার সরাসরি কুইজ খেলতে শুরু করো। কুইজ শুরুর আগে একটি তথ্যমালা (স্লাইড) দেওয়া হয়েছে—সেটি মন দিয়ে পড়ে নাও, তারপর প্রশ্নের উত্তর দাও। চেকার বোর্ডের 9:3:3:1 অনুপাত আর স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র ভালোভাবে মনে রাখার চেষ্টা করবে।
Total Slides: 7
Total Questions: 21 | Total Marks: 33
মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন
এই লেসন থেকে তোমরা মেন্ডেলের একটি অত্যন্ত চমৎকার এবং একটু বড়ো পরীক্ষা ধাপে ধাপে শিখবে:
- মটরগাছের দ্বিসংকর জনন: বীজপত্রের রং (হলুদ ও সবুজ) এবং বীজের আকার (গোলাকার ও কুঞ্চিত)—এই দু-জোড়া বৈশিষ্ট্য নিয়ে মেন্ডেল কীভাবে সংকরায়ণ ঘটিয়েছিলেন।
- গিনিপিগের দ্বিসংকর জনন: কালো-কর্কশ লোম এবং সাদা-মসৃণ লোমযুক্ত গিনিপিগের মিলনে কীভাবে নতুন বৈশিষ্ট্যের গিনিপিগ তৈরি হয়।
- ১৬ ঘরের চেকার বোর্ড: ৪ প্রকার পুং গ্যামেট এবং ৪ প্রকার স্ত্রী গ্যামেটের মিলনে কীভাবে ১৬টি অপত্য জীব সৃষ্টি হয়, তা আমরা ছকের সাহায্যে দেখব।
- 9:3:3:1 অনুপাত: দ্বিসংকর জননে কেন ফিনোটাইপ অনুপাত 9:3:3:1 হয় এবং এতে নতুন কী কী বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র: এই পরীক্ষা থেকে পাওয়া মেন্ডেলের বিখ্যাত ‘স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র’ (Law of Independent Assortment)।
মটরগাছের পরীক্ষায় মেন্ডেল প্রথমে বিশুদ্ধ হলুদ-গোলাকার (YYRR) এবং বিশুদ্ধ সবুজ-কুঞ্চিত (yyrr) বীজযুক্ত গাছের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটান। প্রথম অপত্য জনুতে (F₁) সব কটি বীজই হলুদ ও গোলাকার হয়, কারণ হলুদ রং (Y) এবং গোলাকার আকার (R) প্রকট বৈশিষ্ট্য। এরপর F₁ জনুর স্ব-পরাগযোগ ঘটালে F₂ জনুতে মোট ১৬টি বীজের মধ্যে ফিনোটাইপ অনুসারে ৯টি হলুদ-গোলাকার, ৩টি হলুদ-কুঞ্চিত, ৩টি সবুজ-গোলাকার এবং ১টি সবুজ-কুঞ্চিত বীজ পাওয়া যায়। এই 9:3:3:1 অনুপাতই প্রমাণ করে যে দু-জোড়া বৈশিষ্ট্যের জিন পরস্পরের থেকে স্বাধীনভাবে পৃথক হয়ে গ্যামেটে প্রবেশ করে। এই পর্যবেক্ষণ থেকেই মেন্ডেল ‘স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র’ দেন, যা বলে—দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের জিন গ্যামেট সৃষ্টির সময় একে অপরের থেকে স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়।
গিনিপিগের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। কালো-কর্কশ লোম (BBRR) ও সাদা-মসৃণ লোম (bbrr)-এর মধ্যে সংকরায়ণ করালে F₁-এ সব কালো-কর্কশ হয়, আর F₂-এ 9 কালো-কর্কশ, 3 কালো-মসৃণ, 3 সাদা-কর্কশ ও 1 সাদা-মসৃণ অনুপাতে অপত্য সৃষ্টি হয়। এই ফলাফলও স্বাধীন সঞ্চারণের পক্ষে জোরালো প্রমাণ দেয়।
গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্কসমূহ:
সম্পূর্ণ সিলেবাস বা মূল পাতায় ফিরে যেতে নিচের লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করো:
- 📖 তৃতীয় অধ্যায়ের মূল পাতা: বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (Heredity)
- 🏠 জীবন বিজ্ঞান সূচিপত্র: দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান (Class 10 Life Science) – All Chapters
Leave a Reply