মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা প্রথম অধ্যায় ‘পরিবেশের জন্য ভাবনা’-এর সর্বশেষ অংশ নিয়ে আলোচনা করব। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে গাড়ি চালানো বা বিদ্যুৎ উৎপাদন— সবকিছুর জন্যই শক্তির প্রয়োজন। কিন্তু এই শক্তির প্রধান উৎস জীবাশ্ম জ্বালানি ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। আজকে আমরা তাপনমূল্য (Calorific Value), বিকল্প শক্তির উৎস এবং বায়োগ্যাস ও বায়োফুয়েল সম্পর্কে খুব সহজভাবে জানব।
জীবাশ্ম জ্বালানি ও তাপনমূল্য
লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নীচে উদ্ভিদ ও প্রাণী চাপা পড়ে প্রাকৃতিক উপায়ে কয়লা, পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরি হয়েছে। এদের জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) বলে।
একক ভরের কোনো জ্বালানি সম্পূর্ণ পুড়লে যে পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়, তাকে ওই জ্বালানির তাপনমূল্য (Calorific Value) বলে। এর একক হলো কিলোজুল/কেজি (kJ/kg) বা কিলোজুল/গ্রাম (kJ/g)।
মনে রাখবে, কঠিন জ্বালানির (কয়লা, কাঠ) চেয়ে তরল (পেট্রোল) এবং গ্যাসীয় জ্বালানির (LPG, CNG) তাপনমূল্য অনেক বেশি হয়। কয়লার মধ্যে অ্যানথ্রাসাইট কয়লার তাপনমূল্য সবচেয়ে বেশি।
বিকল্প শক্তির উৎস
জীবাশ্ম জ্বালানির ভাণ্ডার সীমিত এবং এগুলো পোড়ালে প্রচুর দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস (CO2) উৎপন্ন হয়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের এমন কিছু শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে যা সহজে ফুরোবে না এবং দূষণ ঘটাবে না। এগুলোকেই অচিরাচরিত বা বিকল্প শক্তি বলে।
- সৌরশক্তি (Solar Energy): সোলার প্যানেল বা সৌরকোশের মাধ্যমে সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
- বায়ুশক্তি (Wind Energy): বায়ুকল বা উইন্ডমিল (Windmill) ঘুরিয়ে বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়।
- বায়োগ্যাস (Biogas): গোবর, পচা গাছপালা ও কৃষিজাত বর্জ্য পচিয়ে মিথানোজেনিক ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বায়োগ্যাস তৈরি করা হয়। এর প্রধান উপাদান হলো মিথেন (CH4), যা অত্যন্ত ভালো একটি জ্বালানি।
মিথেন হাইড্রেট এবং বায়োফুয়েল
সমুদ্রের একেবারে তলদেশে পাললিক শিলার নীচে বরফের মতো দেখতে একপ্রকার স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ পাওয়া যায়, যার নাম মিথেন হাইড্রেট (4CH4, 23H2O)। এটি সামান্য আগুন পেলেই জ্বলতে শুরু করে, তাই একে ‘ফায়ার আইস’ (Fire Ice) বা আগুনে বরফ বলা হয়।
অন্যদিকে, উদ্ভিজ্জ তেল, প্রাণীর চর্বি বা জ্যাট্রোফা নামক গাছের বীজ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় যে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তৈরি হয়, তাকে বায়োডিজেল বলে। আখ বা ভুট্টা থেকে সন্ধান প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় বায়োইথানল, যা পেট্রোলের সাথে মিশিয়ে গাড়িতে ব্যবহার করা যায়। কয়লা খনির ভেতরে আটকে থাকা মিথেন গ্যাসকে কোল বেড মিথেন (CBM) বলে, যাতে বিষাক্ত H2S থাকে না বলে একে ‘Sweet gas’ ও বলা হয়।
বিকল্প শক্তির উৎস তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ভৌতবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- তাপনমূল্য, ফায়ার আইস) এবং তাদের ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে: শক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং বিকল্প শক্তির উৎস সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
