মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা তৃতীয় অধ্যায় ‘রাসায়নিক গণনা’ (Chemical Calculations)-এর প্রথম অংশ নিয়ে আলোচনা করব। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে চলেছে। যেমন- লোহায় মরচে পড়া বা কাঠ পোড়ানো। কিন্তু এই বিক্রিয়াগুলোর আগে এবং পরে পদার্থের মোট ভরের কী কোনো পরিবর্তন হয়? আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে ভরের সংরক্ষণ সূত্র (Law of Conservation of Mass) এবং বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের যুগান্তকারী আবিষ্কার ভর ও শক্তির তুল্যতা (Mass-Energy Equivalence) সম্পর্কে খুব সহজভাবে জানব।
ভরের সংরক্ষণ বা নিত্যতা সূত্র
১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী ল্যাভয়সিয়ে (Lavoisier) রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পদার্থের ভর সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র প্রকাশ করেন।
ভরের সংরক্ষণ সূত্র: যে-কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার পূর্বে বিক্রিয়ক পদার্থসমূহের (Reactants) মোট ভর এবং বিক্রিয়ার পরে উৎপন্ন বিক্রিয়াজাত পদার্থসমূহের (Products) মোট ভর সর্বদা সমান থাকে।
সহজ কথায়, রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কোনো ভর সৃষ্টি করা যায় না, আবার কোনো ভরকে ধ্বংসও করা যায় না। পদার্থ কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়।
উদাহরণ: 100 গ্রাম মারকিউরিক অক্সাইডকে (HgO) উত্তপ্ত করলে তা বিয়োজিত হয়ে 92.6 গ্রাম পারদ (Hg) এবং 7.4 গ্রাম অক্সিজেন (O2) গ্যাস উৎপন্ন করে। এখানে, বিক্রিয়ার আগের মোট ভর (100g) = বিক্রিয়ার পরের মোট ভর (92.6g + 7.4g = 100g)।
ভর ও শক্তির তুল্যতা (আইনস্টাইনের সমীকরণ)
আগে মনে করা হতো ভর এবং শক্তি সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। কিন্তু ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein) প্রমাণ করেন যে, ভর এবং শক্তি আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ভরকে শক্তিতে এবং শক্তিকে ভরে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
আইনস্টাইনের বিখ্যাত সমীকরণটি হলো: E = mc2
এখানে:
- E = উৎপন্ন বা শোষিত শক্তি (Energy)
- m = রূপান্তরিত ভর (Mass)
- c = শূন্যস্থানে আলোর বেগ (যার মান প্রায় ৩ × ১০৮ মিটার/সেকেন্ড)
এই সমীকরণ থেকে বোঝা যায় যে, সামান্য পরিমাণ ভর ধ্বংস হলেও তা থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয় (যেহেতু c-এর মান অনেক বড়ো)। পরমাণু বোমায় বা সূর্যের ভেতরে এভাবেই ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সংশোধিত সংরক্ষণ সূত্র
আইনস্টাইনের এই আবিষ্কারের পর ভরের সংরক্ষণ সূত্রটিকে একটু পরিবর্তন করে বলা হয়: “মহাবিশ্বে ভর ও শক্তির মোট পরিমাণ সর্বদা ধ্রুবক (Constant)।” অর্থাৎ, ভর এবং শক্তি মিলিয়ে মহাবিশ্বের মোট পরিমাণের কোনো পরিবর্তন হয় না।
ভরের সংরক্ষণ তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ভৌতবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র (যেমন- ভরের নিত্যতা, E=mc2) সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে: ভরের সংরক্ষণ সূত্র এবং আইনস্টাইনের সমীকরণ সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Rate this Quiz
Average Rating: 5 / 5 (2 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
শূন্যস্থানে আলোর বেগ হলো 3 × 10 মিটার/সেকেন্ড।
ভরের সংরক্ষণ সূত্রটি কোন্ বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেন?
রাসায়নিক বিক্রিয়ার আগে এবং পরে পদার্থের মোট ভরের কী পরিবর্তন হয়?
আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণটি কী?
E = mc2 সমীকরণে 'c' কী নির্দেশ করে?
শূন্যস্থানে আলোর বেগের (c) মান কত?
যেসব পদার্থ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তাদের কী বলে?
100g ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) বিয়োজিত হয়ে 56g চুন (CaO) এবং কত গ্রাম CO2 উৎপন্ন করবে?
রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন নতুন পদার্থকে কী বলা হয়?
সংশোধিত ভরের সংরক্ষণ সূত্র অনুযায়ী মহাবিশ্বে কোনটির মোট পরিমাণ ধ্রুবক?
সূর্যের ভেতরে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হওয়ার কারণ কী?
কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় 10g A এবং 20g B বিক্রিয়া করে 25g C এবং কিছু পরিমাণ D উৎপন্ন করে। D-এর ভর কত হবে?
ল্যাভয়সিয়ে কত খ্রিস্টাব্দে ভরের নিত্যতা সূত্রটি প্রকাশ করেন?
পরমাণু বোমায় বিপুল শক্তি নির্গত হওয়ার পেছনে কোন্ সূত্রটি কাজ করে?
E = mc2 সমীকরণে 'E' বলতে কী বোঝায়?
সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তনের ফলে ভরের যে পরিবর্তন হয়, তা কীরূপ?
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে পদার্থের নতুন ভর সৃষ্টি করা সম্ভব।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
ল্যাভয়সিয়ে ভরের সংরক্ষণ সূত্রটি আবিষ্কার করেন।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
আইনস্টাইনের সমীকরণটি প্রমাণ করে যে ভর এবং শক্তি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
E = mc2 সমীকরণে c হলো শূন্যস্থানে শব্দের বেগ।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
মহাবিশ্বে ভর এবং শক্তির মোট পরিমাণ সর্বদা ধ্রুবক থাকে।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ভর ও শক্তির তুল্যতা সমীকরণটি আবিষ্কার করেন E = mc।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
100g ক্যালসিয়াম কার্বনেট বিয়োজিত হলে 56g চুন এবং g কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
ভরের সংরক্ষণ সূত্র অনুযায়ী বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থের ভরের অনুপাত সর্বদা :১ হয়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
ফরাসি বিজ্ঞানী ল্যাভয়সিয়ে খ্রিস্টাব্দে ভরের সংরক্ষণ বা নিত্যতা সূত্র আবিষ্কার করেন।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- Physical Science Home: দশম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: রাসায়নিক গণনা
তৃতীয় অধ্যায়ের তিন পর্ব
- পর্ব ১: তুমি এখানে পড়ছ (ভরের সংরক্ষণ সূত্র এবং ভর ও শক্তির তুল্যতা)
- পর্ব ২: গ্যাসের বাষ্পঘনত্ব এবং আণবিক ভরের সম্পর্ক
- পর্ব ৩: রাসায়নিক সমীকরণভিত্তিক ভর ও আয়তনের গাণিতিক গণনা
Leave a Reply