মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা প্রথম অধ্যায় ‘পরিবেশের জন্য ভাবনা’-এর দ্বিতীয় অংশ নিয়ে আলোচনা করব। শীতের দেশে কাঁচের ঘরের ভেতর গাছপালা চাষ করা হয়, যাকে গ্রিনহাউস বলে। আমাদের পৃথিবীটাও ঠিক ওই কাঁচের ঘরের মতোই কাজ করছে, যার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আজকে আমরা গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse Effect) এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Global Warming) সম্পর্কে খুব সহজভাবে জানব।
গ্রিনহাউস প্রভাব কী?
সূর্য থেকে আসা ছোটো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। কিন্তু ভূপৃষ্ঠ যখন সেই তাপ বড়ো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি (Infrared rays) হিসেবে মহাকাশে ফিরিয়ে দিতে চায়, তখন বায়ুমণ্ডলে থাকা কিছু গ্যাস সেই তাপকে আটকে দেয় এবং আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরিয়ে পাঠায়।
এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা জীবের বেঁচে থাকার অনুকূল থাকে (প্রায় ১৫°C)। এই প্রাকৃতিক ঘটনাকেই গ্রিনহাউস প্রভাব বলে। এই গ্যাসগুলো না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা হতো -২৩°C, যেখানে কোনো প্রাণীর পক্ষেই বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না।
গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহ
যেসব গ্যাস পৃথিবীর তাপ আটকে রাখে, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস বলে। প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো হলো:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2): এটি সবচেয়ে প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস (প্রায় ৫০% অবদান)। জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোল) পোড়ানোর ফলে এর পরিমাণ বাড়ছে।
- মিথেন (CH4): এটি জলাভূমি বা ধানক্ষেত থেকে উৎপন্ন হয় (প্রায় ১৯% অবদান)।
- ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC): এটি ফ্রিজ ও এসি থেকে বের হয় (প্রায় ১৬% অবদান)। এটি ওজোন স্তরও ধ্বংস করে।
- এছাড়াও নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), জলীয় বাষ্প (H2O) হলো গ্রিনহাউস গ্যাস।
মনে রাখবে: নাইট্রোজেন (N2) এবং অক্সিজেন (O2) গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং
মানুষের যথেচ্ছ দূষণ এবং গাছপালা কেটে ফেলার কারণে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর (বিশেষ করে CO2) পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে পৃথিবী প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তাপ ধরে রাখছে এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এই ঘটনাকেই বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) বলা হয়।
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব:
- হিমবাহের গলন: তাপমাত্রা বাড়ায় মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে।
- সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি: বরফ গলা জল সমুদ্রে এসে পড়ায় সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে, ফলে উপকূলবর্তী অনেক শহর ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- জলবায়ুর পরিবর্তন: কোথাও প্রবল খরা, আবার কোথাও ভয়ংকর বন্যা বা সাইক্লোন দেখা দিচ্ছে। ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটছে।
গ্রিনহাউস প্রভাব তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ভৌতবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস এবং তাদের প্রভাব সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে: গ্রিনহাউস প্রভাব এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Rate this Quiz
Average Rating: 5 / 5 (3 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
নিচের কোনটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস?
গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টিতে CO2 গ্যাসের অবদান আনুমানিক কত শতাংশ?
নিচের কোনটি গ্রিনহাউস গ্যাস নয়?
ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত কোন্ রশ্মি গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি শোষণ করে?
গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আনুমানিক কত হতো?
জলাভূমি বা ধানক্ষেত থেকে মূলত কোন্ গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়?
গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে নিচের কোন্ ঘটনাটি ঘটতে পারে?
কোন্ গ্যাসটি ওজোন স্তরও ধ্বংস করে আবার গ্রিনহাউস প্রভাবও দেখায়?
বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ কী?
নিচের কোনটি একটি গ্রিনহাউস গ্যাস?
গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টিতে মিথেন (CH4) গ্যাসের অবদান আনুমানিক কত শতাংশ?
গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমানোর জন্য আমাদের কী করা উচিত?
পৃথিবীর বর্তমান গড় তাপমাত্রা প্রায় কত?
বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতলের কী পরিবর্তন হবে?
নিচের কোন্ রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হয়?
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2) হলো দুটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
গ্রিনহাউস প্রভাবের জন্যই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা জীবজগতের বেঁচে থাকার অনুকূল রয়েছে।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ফলে সমুদ্রের জলতল হ্রাস পাবে।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) গ্রিনহাউস প্রভাবের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
জলাভূমি থেকে প্রচুর পরিমাণে মিথেন (CH4) গ্যাস উৎপন্ন হয়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
গ্রিনহাউস গ্যাস না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা হতো মাইনাস °C।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) গ্যাসের অবদান প্রায় শতাংশ।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টিতে মিথেন (CH4) গ্যাসের অবদান প্রায় শতাংশ।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টিতে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) গ্যাসের অবদান প্রায় শতাংশ।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
গ্রিনহাউস প্রভাবের কারণে বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় °C।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- Physical Science Home: দশম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: পরিবেশের জন্য ভাবনা
প্রথম অধ্যায়ের তিন পর্ব
- পর্ব ১: বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস এবং ওজোন স্তর
- পর্ব ২: তুমি এখানে পড়ছ (গ্রিনহাউস প্রভাব এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন)
- পর্ব ৩: শক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং বিকল্প শক্তির উৎস
Leave a Reply