মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ (Combined Work of Wind and Water in Deserts) বিষয়ে WBBSE Class 10 Geography-এর সম্পূর্ণ, সহজ ও পরীক্ষামুখী নোট এখানে দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যায়ে মরুভূমিতে হঠাৎ বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট অস্থায়ী জলধারা এবং বায়ু কীভাবে একসাথে মিলে ওয়াদি (Wadi), পেডিমেন্ট (Pediment), বাজাদা (Bajada) এবং প্লায়া (Playa)-এর মতো বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ গঠন করে তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও চিত্রভিত্তিক ব্যাখ্যাসহ এই গাইডটি কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য দারুণ কার্যকরী। Geography-এর প্রথম অধ্যায়ের এই শেষ পর্বটি আয়ত্ত করতে এখনই সম্পূর্ণ নোটটি পড় ও ক্যুইজ খেলো।
মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত কাজ
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আমরা আগের পর্বে জেনেছি মরুভূমিতে বায়ুর কাজ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কিন্তু তোমরা কি জানো, মরুভূমিতে বৃষ্টি খুব কম হলেও মাঝে মাঝে হঠাৎ করে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়? এই হঠাৎ বৃষ্টির ফলে মরুভূমির শুকনো খাদের মধ্যে দিয়ে প্রবল বেগে ক্ষণস্থায়ী বা অস্থায়ী জলধারা (নদী) বয়ে চলে। তখন এই জলধারা এবং মরুভূমির প্রবল বাতাস একসাথে মিলেমিশে কিছু বিশেষ ভূমিরূপ তৈরি করে। আজ আমরা সেই ভূমিরূপগুলো সম্পর্কেই জানব।
বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যে সৃষ্ট ভূমিরূপ
মরুভূমিতে হঠাৎ বৃষ্টির ফলে পাহাড় থেকে যখন জল প্রবল বেগে নীচে নেমে আসে, তখন তার ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজের ফলে মূলত চারটি প্রধান ভূমিরূপ দেখা যায়:
১. ওয়াদি (Wadi): আরবি শব্দ ওয়াদির অর্থ হলো শুষ্ক উপত্যকা। মরুভূমিতে বৃষ্টিহীনতার কারণে সারাবছর নদীখাতগুলো শুকনো থাকে। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি হলে সেই শুকনো নদীখাতে প্রবল জলস্রোত বয়ে যায় এবং বৃষ্টি থামলেই তা আবার শুকিয়ে যায়। মরুভূমির এই শুষ্ক বা অস্থায়ী নদীখাতগুলোকেই ওয়াদি বলা হয়।
২. পেডিমেন্ট (Pediment): মরু অঞ্চলে খাড়া পাহাড়ের পাদদেশে বায়ু ও জলধারার মিলিত ক্ষয়কাজের ফলে যে মৃদু ঢালু ও শিলাময় সমভূমি তৈরি হয়, তাকে পেডিমেন্ট বলে। এর ঢাল সাধারণত খুব কম (১ থেকে ৭ ডিগ্রি) হয়।
৩. বাজাদা (Bajada): পেডিমেন্টের ঠিক নীচে অর্থাৎ সমভূমির আরও নীচের দিকে জলধারা তার বয়ে আনা বালি, নুড়ি, কাঁকর ইত্যাদি জমা করতে শুরু করে। এই সঞ্চয়কাজের ফলে পেডিমেন্টের নীচে যে মৃদু ঢালু সমভূমি তৈরি হয়, তাকে বাজাদা বলে। বাজাদা মূলত অনেকগুলো পলল শঙ্কু বা পলল ব্যজনী একসাথে জুড়ে গিয়ে তৈরি হয়।
৪. প্লায়া (Playa): খাড়া পাহাড় দিয়ে ঘেরা মরুভূমির একেবারে মাঝখানের নীচু অংশে চারদিক থেকে জলধারা এসে একটি হ্রদের সৃষ্টি করে। মরুভূমির এই লবণাক্ত ও অগভীর জলের হ্রদকেই প্লায়া বলা হয়। রাজস্থানের থর মরুভূমিতে এই প্লায়া হ্রদগুলোকে স্থানীয় ভাষায় ধান্দ বলা হয়। ভারতের রাজস্থানের ‘সম্বর হ্রদ’ হলো এই ধরনের লবণাক্ত প্লায়া হ্রদের একটি বিখ্যাত উদাহরণ। আর সাহারা মরুভূমিতে এই হ্রদগুলোকে ‘শটস’ (Chotts) বলা হয়।
নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, মরুভূমির মতো শুষ্ক পরিবেশেও জলধারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে! চলো, এবার স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ি এবং কুইজে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে নিই।
Total Slides: 6
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
