বর্জ্যের ধারণা, শ্রেণিবিভাগ এবং উৎস বিষয়ে WBBSE Class 10 Geography-এর সম্পূর্ণ, সহজ ও পরীক্ষা উপযোগী নোট ও ক্যুইজ এখানে দেওয়া হয়েছে। এই অংশে বর্জ্য (Waste) কাকে বলে, ভৌত অবস্থা অনুযায়ী বর্জ্যের প্রকারভেদ (কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়) এবং বিষক্রিয়া অনুযায়ী বর্জ্যের প্রকারভেদ (বিষাক্ত ও বিষহীন) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি গৃহস্থালি, শিল্প, কৃষি, চিকিৎসা (Medical Waste) এবং বৈদ্যুতিন বা ই-বর্জ্য (E-waste)-এর মতো বর্জ্যের বিভিন্ন উৎস সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য ব্ল্যাকফুট, মিনামাটা, ইটাই-ইটাই রোগের কারণ খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং এইসব তথ্যের উপর প্রশ্ন আসে বরাংবর।
বর্জ্যের ধারণা (Concept of Waste)
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, দশম শ্রেণির ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’-তে তোমাদের স্বাগত! প্রাত্যহিক জীবনে আমরা নানা জিনিস ব্যবহার করি। কিন্তু ব্যবহারের পর সেই জিনিসগুলোর যে অংশটুকু আমাদের আর কোনো কাজে লাগে না এবং আমরা যা বাইরে ফেলে দিই, তাকেই ভূগোলের ভাষায় বর্জ্য (Waste) বলা হয়। যেমন— সবজির খোসা, পচা ফল, ছেঁড়া কাগজ, প্লাস্টিকের প্যাকেট, কারখানার বিষাক্ত জল বা রান্নার ধোঁয়া। মনে রাখবে, বর্জ্য হলো আমাদের ব্যবহার্য জিনিসের সেই অপ্রয়োজনীয় অবশিষ্টাংশ, যা পরিবেশকে দূষিত করে।
বর্জ্যের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Waste)
বর্জ্যকে মূলত দুটি ভিত্তির ওপর নির্ভর করে ভাগ করা যায়:
১. ভৌত অবস্থা অনুসারে:
- কঠিন বর্জ্য: যে বর্জ্যগুলো কঠিন অবস্থায় পরিবেশে ফেলে দেওয়া হয়। যেমন— ভাঙা কাচ, প্লাস্টিক, কাঠের টুকরো। এগুলো সহজে পচে না এবং পরিবেশে দীর্ঘদিন জমে থাকে।
- তরল বর্জ্য: দৈনন্দিন ব্যবহারের পর তরল অবস্থায় যে বর্জ্য পরিবেশে মেশে। যেমন— নালা-নর্দমার নোংরা জল, সাবান জল, কারখানার রাসায়নিক মেশানো জল। এই বর্জ্য খুব দ্রুত জলাশয়কে দূষিত করে।
- গ্যাসীয় বর্জ্য: বায়ুমণ্ডলে মিশে থাকা ক্ষতিকর গ্যাসীয় পদার্থ। কারখানার চিমনির ধোঁয়া, গাড়ির ধোঁয়া (যাতে CO2, SO2, CO থাকে) হলো গ্যাসীয় বর্জ্যের উদাহরণ।
২. বিষক্রিয়া অনুসারে:
- বিষাক্ত বর্জ্য (Toxic Waste): যে বর্জ্যগুলো মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে ভয়ংকর রোগ বা মৃত্যু ঘটাতে পারে। যেমন— পারদ, সিসা, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম। পারদের কারণে মিনামাটা, আর্সেনিকের কারণে ব্ল্যাকফুট এবং ক্যাডমিয়ামের কারণে ইটাই-ইটাই রোগ হয়।
- বিষহীন বর্জ্য (Non-toxic Waste): যে বর্জ্যগুলো সরাসরি কোনো ক্ষতি করে না বা ক্ষতির মাত্রা খুব কম থাকে। যেমন— সবজির খোসা, উনুনের ছাই, কাগজের টুকরো।
বর্জ্যের প্রধান উৎসসমূহ (Sources of Waste)
আমাদের চারপাশে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন প্রচুর বর্জ্য তৈরি হয়:
গৃহস্থালির বর্জ্য: বাড়িঘরের রান্নাঘর বা বাথরুম থেকে তৈরি হওয়া সবজির খোসা, নষ্ট খাবার, প্লাস্টিক।
শিল্প বর্জ্য: কলকারখানা থেকে নির্গত ছাই, রাসায়নিক তরল, লোহাচূর্ণ, বিষাক্ত ধোঁয়া।
কৃষিজাত বর্জ্য: চাষের জমি থেকে আসা ফসলের খোসা, খড় এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মেশানো জল।
চিকিৎসা বর্জ্য: হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের রক্তমাখা তুলো, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, যা থেকে দ্রুত সংক্রামক রোগ ছড়ায়।
ই-বর্জ্য বা বৈদ্যুতিন বর্জ্য: খারাপ হয়ে যাওয়া মোবাইল, কম্পিউটারের ভাঙা অংশ, ব্যাটারি, টিভির সার্কিট ইত্যাদি।
কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় বর্জ্য ক্যুইজ ও তথ্যমালা
নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, আমাদের সামান্য একটু অসতর্কতার ফলে কীভাবে চারপাশে বর্জ্যের পাহাড় তৈরি হচ্ছে! চলো, এবার স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ি এবং কুইজে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে নিই।
Total Slides: 7
Rate this Quiz
Average Rating: 5 / 5 (1 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
কঠিন, তরল, গ্যাসীয় অবস্থায় পরিত্যক্ত মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের অবশিষ্টাংশকে কী বলে?
পদার্থের ভৌত অবস্থা অনুসারে বর্জ্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
নিচের কোনটি একটি তরল বর্জ্যের উদাহরণ?
বায়ুমণ্ডলে কার্বন মনোক্সাইড (CO) বা সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) মেশাকে কী ধরনের বর্জ্য বলে?
বিষক্রিয়া অনুসারে বর্জ্যকে প্রধানত কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
হাসপাতালের ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ও রক্তমাখা তুলো কী ধরনের বর্জ্য?
বাতিল হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন, ব্যাটারি, টিভির সার্কিট—এগুলি কোন্ ধরনের বর্জ্যের উদাহরণ?
সিসা (Lead) দূষণের ফলে শিশুদের মধ্যে কোন্ রোগ দেখা যায়?
আর্সেনিক দূষণের ফলে মানুষের কোন্ রোগ হয়?
ক্যাডমিয়াম দূষণের ফলে মানবদেহে কোন্ রোগটি সৃষ্টি হয়?
পানীয় জলে পারদের (Mercury) উপস্থিতির কারণে কোন্ ভয়ংকর রোগ হয়?
নিচের কোনটি একটি বিষহীন বর্জ্যের উদাহরণ?
তেজস্ক্রিয় বর্জ্য প্রধানত কোথা থেকে উৎপন্ন হয়?
ফ্লুরাইড নামক বিষাক্ত বর্জ্যের প্রভাবে কোন্ রোগ হয়?
গৃহপালিত পশুর বিষ্ঠা, মূত্র এবং গোয়ালঘরের আবর্জনা কোন্ প্রকার বর্জ্যের অন্তর্গত?
স্তম্ভ মিলন করো।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
সবজির খোসা এবং পচা ফল হলো কঠিন ও বিষহীন বর্জ্যের উদাহরণ।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
হাসপাতাল থেকে নির্গত বর্জ্যগুলিকে বিষহীন এবং নিরাপদ বর্জ্য বলা হয়।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
পারদ দূষণের ফলে মানুষের শরীরে মিনামাটা রোগ সৃষ্টি হয়।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
বাতিল হয়ে যাওয়া মোবাইল ও কম্পিউটার হলো কৃষিজাত বর্জ্যের উদাহরণ।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
গ্যাসীয় বর্জ্য খুব সহজেই বায়ুমণ্ডলে মিশে গিয়ে বায়ু দূষণ ঘটায়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
পদার্থের ভৌত অবস্থা অনুসারে বর্জ্যকে প্রধানত ভাগে ভাগ করা যায়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
বিষক্রিয়া অনুসারে বর্জ্যকে প্রধানত ভাগে ভাগ করা যায়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
ভাগীরথী-হুগলি নদীর দু-পাড়ে অবস্থিত মোট টি পৌরসভা প্রতিদিন নদীতে বর্জ্য ফেলে।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
হুগলি নদীকে দূষণমুক্ত করার জন্য গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান গৃহীত হয় সালে।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
প্রতি ১০০ মিলিগ্রাম জলে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার স্বাভাবিক গ্রহণযোগ্য মাত্রা হলো সর্বাধিক ।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- Geography Home: দশম শ্রেণির ভূগোল-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অধ্যায়ের চার পর্ব
- পর্ব ১: তুমি এখানে পড়ছ (Concept, Classification, and Sources of Waste)
- পর্ব ২: বিষাক্ত বর্জ্য এবং পরিবেশের ওপর বর্জ্যের প্রভাব
- পর্ব ৩: বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি এবং 3R
- পর্ব ৪: ভাগীরথী-হুগলি নদীর ওপর বর্জ্যের প্রভাব ও শিক্ষার্থীর ভূমিকা
Leave a Reply