নদীর দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ—ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কাজ (Work of River Landforms) বিষয়ে WBBSE Class 10 Geography-এর সম্পূর্ণ, সহজ ও পরীক্ষামুখী নোট এখানে দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যায়ে নদীর তিনটি প্রধান কাজ—ক্ষয় (Erosion), বহন (Transportation) ও সঞ্চয় (Deposition)—কীভাবে ভূমিরূপ গঠন করে তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি V-আকৃতির উপত্যকা, জলপ্রপাত, গিরিখাত, বন্যাপ্রবণ সমভূমি, বালুচর, বদ্বীপ (Delta) প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপের গঠন প্রক্রিয়া, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সংক্ষিপ্ত নোট, সংজ্ঞা ও চিত্রভিত্তিক ব্যাখ্যাসহ এই গাইডটি দ্রুত রিভিশন ও কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। Geography-এর এই অধ্যায়টি আয়ত্ত করতে এবং ভালো নম্বর পেতে এখনই সম্পূর্ণ নোটটি পড় ও ক্যুইজ খেলো।
নদীর কাজ এবং নদীর দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ
পৃথিবীর মোট ভূভাগের প্রায় ৭০ শতাংশ অঞ্চলেই নদীর কাজ দেখা যায়। তোমরা কি জানো, একটি নদী তার জন্মস্থান থেকে শুরু করে সমুদ্রে মেশা পর্যন্ত কীভাবে আমাদের চারপাশের পরিবেশকে পালটে দেয়? চলো, আজ নদীর এই জাদুকরী কাজগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
নদীর বিভিন্ন গতি ও তাদের বৈশিষ্ট্য
তুষারগলা জল, বৃষ্টির জল বা প্রস্রবণ থেকে উৎপন্ন হয়ে ভূমির স্বাভাবিক ঢাল অনুসারে বয়ে চলা জলধারাকেই নদী বলে। একটি নদীর উৎস (যেখান থেকে নদী সৃষ্টি হয়) থেকে মোহনা (যেখানে নদী সাগরে মেশে) পর্যন্ত প্রবাহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ, মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ এবং নিম্নগতি বা ব-দ্বীপ প্রবাহ। যে নদীর গতিপথে এই তিনটি গতি খুব স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তাকে আদর্শ নদী বলা হয়। আমাদের গঙ্গা নদী হলো একটি আদর্শ নদীর দারুণ উদাহরণ।
নদীর ক্ষয়কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ
নদী মূলত তিনটি কাজ করে—ক্ষয়, বহন এবং সঞ্চয়। উচ্চগতি বা পার্বত্য অঞ্চলে নদীর জলের বেগ খুব বেশি থাকে। এই সময় নদী তার পথের পাথর বা মাটিকে ভীষণ জোরে ধাক্কা দিয়ে ক্ষয় করে। নদীর এই ক্ষয়কাজের ফলে পাহাড়ের গায়ে ‘I’ এবং ‘V’ আকৃতির উপত্যকা তৈরি হয়। নদীর এই গভীর ও সংকীর্ণ খাতকে গিরিখাত বলা হয়। আর যদি বৃষ্টিহীন শুষ্ক অঞ্চলে এই গিরিখাত তৈরি হয়, তখন তাকে আমরা বলি ক্যানিয়ন। যেমন, কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর বিখ্যাত একটি ক্যানিয়ন।
পাহাড় থেকে নদী যখন হঠাৎ খাড়া ঢাল বেয়ে নীচে আছড়ে পড়ে, তখন সৃষ্টি হয় জলপ্রপাত। আমাদের ভারতে কর্ণাটকের ‘যোগ’ বা ‘গেরাসাপ্পা’ হলো একটি বিখ্যাত জলপ্রপাত। এই উচ্চগতিতে নদীর বহন করার ক্ষমতাও অনেক বেড়ে যায়। বিজ্ঞানী ডব্লিউ হপকিন্স (W. Hopkins)-এর মতে, নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা ৬৪ গুণ বেড়ে যায়! একেই ষষ্ঠঘাতের সূত্র বলা হয়!
নদীর সঞ্চয়কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ
পাহাড় ছেড়ে নদী যখন সমভূমিতে প্রবেশ করে, তখন তার গতি অনেক কমে যায়। এই মধ্য ও নিম্নগতিতে নদী আর ক্ষয় করতে পারে না, বরং পাহাড় থেকে বয়ে আনা পলি, বালি ও পাথর সে জমা করতে শুরু করে। নদীর এই সঞ্চয়কাজের ফলে সমভূমিতে তৈরি হয় অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, প্লাবনভূমি এবং স্বাভাবিক বাঁধ।
নদীর দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ তথ্যমালা ও ক্যুইজ
সবশেষে, নদী যখন সমুদ্রে গিয়ে মেশে (মোহানায়), তখন তার স্রোত একেবারেই কমে যায়। নদীর বয়ে আনা সমস্ত পলি মোহানায় জমে বাংলা ‘ব’ (বা গ্রিক অক্ষর ডেল্টা)-এর মতো মাত্রাহীন একটি ভূমিরূপ তৈরি করে, যাকে আমরা ব-দ্বীপ বলি। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ হলো পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ।
Total Slides: 6
Rate this Quiz
Average Rating: 5 / 5 (3 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 25 | Total Marks: 37
নদীর কাজ পৃথিবীর মোট ভূভাগের প্রায় কত শতাংশ অঞ্চলে দেখা যায়?
ভারতের একটি আদর্শ নদীর উদাহরণ হলো-
শুষ্ক অঞ্চলের সুগভীর গিরিখাতকে কী বলা হয়?
নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে বহন ক্ষমতা কত গুণ বাড়ে?
নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে সৃষ্ট একটি ভূমিরূপ হলো-
পৃথিবীর গভীরতম ক্যানিয়ন কোনটি?
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ নদীর কোন্ গতিতে দেখা যায়?
পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ কোনটি?
পাখির পায়ের মতো ব-দ্বীপ কোন নদীর মোহানায় দেখা যায়?
নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট V আকৃতির উপত্যকা দেখা যায়-
নদীবাহিত বিভিন্ন আকারের পাথরের খণ্ডের পরস্পরের সংঘর্ষে নুড়ি, বালি ও কাদাকণায় পরিণত হওয়াকে কোন্ ক্ষয় বলে?
জলপ্রপাতের ঠিক নীচে ঘূর্ণির ফলে সৃষ্ট অনেকটা হাঁড়ির মতো দেখতে গর্তকে কী বলে?
স্তম্ভ মিলন করো।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও ।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো ।
তুষারগলা জল বা বৃষ্টির জলে পুষ্ট হয়ে নদীর উচ্চগতি, মধ্যগতি ও নিম্নগতি দেখা গেলে তাকে আদর্শ নদী বলে।
সত্য নাকি মিথ্যা বলো ।
বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয় ও পার্শ্বক্ষয়ের প্রভাবে ক্যানিয়ন সৃষ্টি হয়।
সঠিক নাকি বেঠিক নির্বাচন করো।
নদীর সমভূমি প্রবাহে বয়ে আনা পলি জমা হয়ে স্বাভাবিক বাঁধ তৈরি হয়।
সত্য নাকি মিথ্যা বলো।
জলপ্রপাতের তলদেশে নদীর জলের ঘূর্ণির ফলে মন্থকূপ বা পটহোল সৃষ্টি হয়।
সত্য না মিথ্যা ।
নদীর মোহানায় স্রোত কমে গেলে পলি জমে ত্রিকোণাকার ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো ।
পৃথিবীর মোট ভূভাগের প্রায় শতাংশ অঞ্চলে নদীর কাজ দেখা যায়।
সঠিক দীর্ঘও বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
ভারতের দীর্ঘতম নদী গঙ্গার মোট দৈর্ঘ্য হলো কিলোমিটার।
শূন্যস্থান পূরণ কর ।
পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদের দৈর্ঘ্য হলো কিলোমিটার।
শূন্যস্থান পূরণ কর ।
নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা বাড়ে গুণ।
শূন্যস্থান পূরণ কর ।
পৃথিবীর দীর্ঘতম যুগ্ম নদী মিসিসিপি-মিসৌরি-র দৈর্ঘ্য কিমি।
নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, নদী কীভাবে পাহাড় থেকে সমুদ্র পর্যন্ত আমাদের পৃথিবীকে সাজিয়ে তুলেছে! চলো, এবার নিচের স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ি এবং কুইজে অংশ নিয়ে দেখি আমরা কতটা শিখতে পারলাম।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- Geography Home: দশম শ্রেণির ভূগোল-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সৃষ্ট ভূমিরূপ
বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সৃষ্ট ভূমিরূপ এর পাঁচ পর্ব
- পর্ব ১: বহির্জাত প্রক্রিয়া এবং পর্যায়ন (Concept of Exogenetic Processes & Gradation)
- পর্ব ২: তুমি এখানে পড়ছ (Work of River and Landforms)
- পর্ব ৩: হিমবাহের কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ (Work of Glacier and Landforms)
- পর্ব ৪: বায়ুর কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ (Work of Wind and Landforms)
- পর্ব ৫: মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত কাজ (Combined Work of Wind and Water in Deserts)
Leave a Reply