বায়ুপ্রবাহ এবং এর কারণ
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আমরা আগের পর্বে জেনেছি পৃথিবীতে উচ্চচাপ এবং নিম্নচাপ বলয় রয়েছে। বায়ু বা বাতাস কিন্তু কখনো এক জায়গায় স্থির থাকে না। জলের মতো বাতাসও সবসময় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়। ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে বা অনুভূমিকভাবে বায়ুর এই ছুটে চলাকেই বায়ুপ্রবাহ (Wind) বলে। বায়ু কোন দিক থেকে বইছে, তার ওপর ভিত্তি করে বায়ুর নামকরণ করা হয় (যেমন— দক্ষিণ দিক থেকে আসা বায়ুকে দক্ষিণা বায়ু বলে)।
বায়ু যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়, তখন সে সোজা পথে যেতে পারে না। পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের কারণে বাতাস একটু বেঁকে যায়। বিজ্ঞানী উইলিয়াম ফেরেল প্রথম প্রমাণ করেন যে, বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। এটিই ফেরেলের সূত্র নামে পরিচিত।
বায়ুপ্রবাহের শ্রেণিবিভাগ
বায়ুপ্রবাহকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. নিয়ত বায়ু (Planetary Winds): যে বায়ু সারাবছর ধরে নির্দিষ্ট দিকে ও নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। এটি তিন প্রকার— আয়ন বায়ু (Trade Winds), পশ্চিমা বায়ু (Westerlies) এবং মেরু বায়ু (Polar Winds)। দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি থাকায় পশ্চিমা বায়ু সেখানে কোনো বাধা না পেয়ে প্রচণ্ড বেগে শব্দ করতে করতে বয়। তাই ৪০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties) বলা হয়।
২. সাময়িক বায়ু (Periodic Winds): বছরের একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে বা দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে যে বায়ু প্রবাহিত হয়। এর উদাহরণ হলো— দিনের বেলা সমুদ্র থেকে আসা সমুদ্রবায়ু, রাতের বেলা স্থলভাগ থেকে যাওয়া স্থলবায়ু, এবং আমাদের দেশের প্রধান বায়ু মৌসুমি বায়ু (Monsoon) যা আসলে সমুদ্র ও স্থলবায়ুর একটি বৃহৎ সংস্করণ। পাহাড়ের গায়ে দিনের বেলা নিচ থেকে ওপরে ওঠা বায়ুকে অ্যানাবেটিক বায়ু এবং রাতে ওপর থেকে নিচে নামা ভারী বায়ুকে ক্যাটাবেটিক বায়ু বলে।
৩. স্থানীয় বায়ু (Local Winds): কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ভূ-প্রকৃতি বা উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য যে বায়ু বয়। যেমন— ভারতের লু (Loo), রকি পর্বতের চিনুক (Chinook) যাকে ‘তুষারভক্ষক’ বলা হয়, এবং আল্পস পর্বতের ফন (Foehn)।
৪. আকস্মিক বায়ু (Sudden Winds): হঠাৎ করে কোনো জায়গায় গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলে চারপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে প্রবল বেগে বাতাস ঘুরতে ঘুরতে সেই কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে, একে ঘূর্ণবাত বা সাইক্লোন (Cyclone) বলে। এর ফলেই কালবৈশাখী, হ্যারিকেন, টাইফুন ইত্যাদি সৃষ্টি হয়। এর ঠিক উলটো হলো প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anticyclone), যেখানে কেন্দ্রে উচ্চচাপ থাকে এবং শান্ত বাতাস বাইরের দিকে বেরিয়ে যায়।
বায়ুপ্রবাহ সম্পর্কিত তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, বাতাস কীভাবে সারা পৃথিবী জুড়ে নিয়ম করে ঘুরে বেড়াচ্ছে! চলো, এবার স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ি এবং কুইজে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে নিই।
Total Slides: 7
Rate this Quiz
Average Rating: 5 / 5 (1 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে বেঁকে যায়—এটি কোন্ সূত্র?
আয়ন বায়ুর অপর নাম কী?
গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties) কোন্ বায়ুর সাথে যুক্ত?
সমুদ্রবায়ু কখন প্রবাহিত হয়?
রাতের বেলা পর্বতের ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নেমে আসা শীতল বায়ুকে কী বলে?
মৌসুমি বায়ু (Monsoon wind) কী ধরনের বায়ুপ্রবাহের উদাহরণ?
আল্পস পর্বতের উত্তর ঢালে প্রবাহিত উষ্ম ও শুষ্ক বায়ুকে কী বলে?
কোন্ বায়ুকে 'তুষারভক্ষক' বা Snow Eater বলা হয়?
ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে সাধারণত কী বিরাজ করে?
প্রতীপ ঘূর্ণবাতে (Anticyclone) বায়ুর প্রবাহ কেমন হয়?
ক্যারিবিয়ান সাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণবাত কী নামে পরিচিত?
বায়ুপ্রবাহের দিক নির্ণয় করা হয় কোন্ যন্ত্রের সাহায্যে?
বায়ুর গতিবেগ মাপা হয় কোন্ যন্ত্রের সাহায্যে?
চিন ও জাপান উপকূলে সৃষ্ট ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত কী নামে পরিচিত?
ভারতের একটি উষ্ম ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ুর নাম কী?
স্তম্ভ মিলন করো।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
আয়ন বায়ু হলো একটি সাময়িক বায়ুর উদাহরণ।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
উত্তর গোলার্ধে বায়ু তার ডানদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
অ্যানাবেটিক বায়ু হলো দিনের বেলা পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠা উষ্ম বায়ু।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে সর্বদা নিম্নচাপ বিরাজ করে।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
মৌসুমি বায়ু হলো সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর একটি বৃহৎ সংস্করণ।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
গর্জনশীল চল্লিশা দক্ষিণ গোলার্ধের ডিগ্রি অক্ষাংশ বরাবর প্রবাহিত হয়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
ক্রোধনমত্ত পঞ্চাশা দক্ষিণ গোলার্ধের ডিগ্রি অক্ষাংশ বরাবর প্রবাহিত হয়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট দক্ষিণ গোলার্ধের ডিগ্রি অক্ষাংশে দেখা যায়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
নিয়ত বায়ু প্রধানত প্রকার হয়ে থাকে।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ হলো মিলিবার।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- Geography Home: দশম শ্রেণির ভূগোল-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: বায়ুমণ্ডল (Atmosphere)
বায়ুমণ্ডল অধ্যায়ের পাঁচ পর্ব
- পর্ব ১: বায়ুমণ্ডলের ধারণা, উপাদান এবং স্তরবিন্যাস
- পর্ব ২: বায়ুমণ্ডলের তাপ, উষ্মতা এবং বিশ্ব উষ্মায়ন
- পর্ব ৩: বায়ুচাপ এবং পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়সমূহ
- পর্ব ৪: তুমি এখানে পড়ছ (Wind Systems, Cyclones and Anticyclones)
- পর্ব ৫: আর্দ্রতা, অধঃক্ষেপণ এবং পৃথিবীর মুখ্য জলবায়ু অঞ্চল

Leave a Reply