🎓 Log in to save your performance and get free courses
My Course My Report Log In

Install the QSH India App

⭐ Thousands of students installed

আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু অঞ্চল | দশম শ্রেণি ভূগোল (পর্ব ৫)

মাধ্যমিক ভূগোল প্রস্তুতির এই পর্বে আমরা বায়ুমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়—আর্দ্রতা (Humidity) এবং অধঃক্ষেপণ (Precipitation)—নিয়ে আলোচনা করব। এছাড়া নিরক্ষীয়, মৌসুমি ও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে তুমি জানতে পারবে আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র হাইগ্রোমিটার কীভাবে কাজ করে, আপেক্ষিক আর্দ্রতা কেন জরুরি, আর বৃষ্টিপাতের তিনটি ধরণ—পরিচলন, শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণবৃষ্টি—কীভাবে ঘটে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত রিভিশন আর কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য সম্পূর্ণ নোটটি পড়ো, তারপর নীচের কুইজে অংশ নিয়ে নিজেকে যাচাই করো।

এখন সরাসরি কুইজ খেলতে শুরু করো। কুইজ শুরু হওয়ার আগে একটি তথ্যমালা দেওয়া হয়েছে—সেটি মন দিয়ে পড়ে নিও, তারপর প্রশ্নের উত্তর দাও। মনে রেখো, শূন্যস্থান পূরণের ক্ষেত্রে কেবল সংখ্যা (Number) টাইপ করবে।

Slow
পরিচলন, শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণবৃষ্টি সম্পর্কিত তথ্যমালা

Total Slides: 7

From: To:

Rate this Quiz

Average Rating: 4.67 / 5 (3 votes)

Click on a star to rate:

Slow
Quiz Icon পরিচলন, শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণবৃষ্টি বিষয়ক ক্যুইজ

Total Questions: 27 | Total Marks: 39

আর্দ্রতা এবং অধঃক্ষেপণ

বৃষ্টিপাত কীভাবে হয়, তা বোঝার আগে আমাদের জানতে হবে বাতাসে জলীয় বাষ্প আসে কোথা থেকে। সূর্যের তাপে নদী, সমুদ্র বা পুকুরের জল বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যায়। বাতাসে উপস্থিত এই জলীয় বাষ্পের পরিমাণকেই আর্দ্রতা (Humidity) বলা হয়। আর্দ্রতা মাপা হয় হাইগ্রোমিটার (Hygrometer) যন্ত্রের সাহায্যে। বাতাস যত গরম হয়, তত বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে। একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বাতাসে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প আছে এবং ওই উষ্ণতায় বাতাস সর্বোচ্চ যতটা জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, তার শতকরা অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) বলে। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% হলে বাতাস সম্পৃক্ত হয়ে যায় এবং তখন জলকণা জমে মেঘ তৈরি হয়।

বাতাস যখন জলীয় বাষ্প নিয়ে ওপরে ওঠে, তখন ঠান্ডায় জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফকণা তৈরি করে। এই কণাগুলো ভারী হয়ে মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়লে তাকে অধঃক্ষেপণ (Precipitation) বলে। বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি—এসবই অধঃক্ষেপণের উদাহরণ। কোনো স্থানে কতটা বৃষ্টি হলো, তা মাপতে রেইন গেজ (Rain Gauge) ব্যবহার করা হয়। বৃষ্টির জলকে একটি বিশেষ পাত্রে জমা করে মিলিমিটার বা সেন্টিমিটার এককে তা পরিমাপ করা হয়।

বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ

বৃষ্টিপাত সাধারণত তিনভাবে ঘটে থাকে:
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত: নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড গরমে বাতাস জলীয় বাষ্প নিয়ে সোজা ওপরে উঠে যায় এবং বিকেলে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত ঘটায়। প্রতিদিন বিকেল ৪টের সময় নিয়মিত এই বৃষ্টি হয় বলে একে 4 o’clock rain বলা হয়।
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: ‘শৈল’ মানে পর্বত আর ‘উৎক্ষেপ’ মানে ওপরে ওঠা। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস পর্বতে বাধা পেয়ে পর্বতের প্রতিবাদ ঢাল (Windward side) বেয়ে ওপরে উঠে যে বৃষ্টি ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে। কিন্তু পর্বত পেরিয়ে বাতাস যখন উলটো দিকে বা অনুবাদ ঢালে (Leeward side) পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প প্রায় থাকে না, তাই সেখানে বৃষ্টি খুব কম হয়। এই কম বৃষ্টির অঞ্চলটিকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Region) বলে। ভারতের মেঘালয়ের শিলং এবং মহারাষ্ট্রের পুনে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের ভালো উদাহরণ।
৩. ঘূর্ণবৃষ্টি: নিম্নচাপ কেন্দ্রে চারপাশ থেকে বাতাস ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে এবং ওপরে উঠে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে ঘূর্ণবৃষ্টি বলে। এই বৃষ্টি সাধারণত মাঝারি থেকে প্রবল হয়ে থাকে এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেখা যায়।

পৃথিবীর মুখ্য জলবায়ু অঞ্চল

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আবহাওয়ার উপাদানগুলোর (তাপ, বায়ুচাপ, বৃষ্টিপাত) ভিন্নতার কারণে ভূপৃষ্ঠকে কয়েকটি জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
নিরক্ষীয় জলবায়ু: এখানে সারাবছর প্রচণ্ড গরম আর প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। শীতকালীন ঠান্ডা বা শুষ্ক সময় বলতে কিছু নেই বললেই চলে।
মৌসুমি জলবায়ু: আমাদের ভারত এই জলবায়ুর অন্তর্গত। গ্রীষ্মকালে বর্ষার বৃষ্টি হয়, শীতকাল শুষ্ক আর অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকে।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু: এই জলবায়ুর সবচেয়ে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি প্রায় হয় না, বরং শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়। পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে এই শীতকালীন বৃষ্টিপাত ঘটে। এছাড়া এখানকার শীতকাল মৃদু আর গ্রীষ্ম উষ্ণ ও শুষ্ক।


Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

×
Geography
ASK