সমুদ্রস্রোতের প্রভাব এবং পৃথিবীর প্রধান সমুদ্রস্রোত বিষয়ে WBBSE Class 10 Geography-এর সম্পূর্ণ, সহজ ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ক্যুইজ ও নোট এখানে দেওয়া হয়েছে। এই অংশে সমুদ্রস্রোত কীভাবে উপকূলভাগের জলবায়ুকে পরিবর্তন করে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি, মগ্নচড়া গঠন এবং সেখানে বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র গড়ে ওঠার কারণ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া শৈবাল সাগর, এল নিনো (El Niño) এবং লা নিনা-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ঘটনাগুলির প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত রিভিশন ও কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য এখনই সম্পূর্ণ নোটটি পড়ো ও ক্যুইজ খেলো।
সমুদ্রস্রোতের প্রভাব
এই সমুদ্রস্রোত আমাদের পৃথিবীর জলবায়ু এবং মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা প্রভাব ফেলে। সমুদ্রস্রোতের প্রভাবগুলি মূলত নিম্নরূপ:
১. জলবায়ুর পরিবর্তন: কোনো উপকূলের পাশ দিয়ে যদি উষ্ণ স্রোত বয়ে যায়, তবে সেখানকার বাতাস গরম ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে (যেমন— উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে ইউরোপের উপকূল বরফমুক্ত থাকে)। অন্যদিকে, শীতল স্রোত বয়ে গেলে সেই অঞ্চলের তাপমাত্রা প্রচণ্ড কমে যায় (যেমন— শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে কানাডার পূর্ব উপকূল বরফে ঢাকা থাকে)।
২. কুয়াশা ও ঝড়বৃষ্টি: যেখানে উষ্ণ স্রোত এবং শীতল স্রোত এসে একসাথে মেশে, সেখানে উষ্ণ স্রোতের ওপরের গরম বাতাস এবং শীতল স্রোতের ওপরের ঠান্ডা বাতাস মিশে গিয়ে ঘন কুয়াশা এবং ভয়ংকর ঝড়ের সৃষ্টি করে। নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত এবং শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত মিলিত হয়ে এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি করে।
মগ্নচড়া এবং মৎস্যক্ষেত্র গঠন
শীতল স্রোতগুলো যখন মেরু অঞ্চল থেকে আসে, তখন তারা নিজেদের সাথে বিশাল বিশাল বরফের পাহাড় বা হিমশৈল (Iceberg) ভাসিয়ে নিয়ে আসে। এই হিমশৈলগুলোর ভেতরে প্রচুর পাথর, নুড়ি, বালি আটকে থাকে। উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে এলে এই হিমশৈল গলে যায় এবং তার ভেতরের পাথর, নুড়ি সমুদ্রের তলদেশে জমতে শুরু করে। বছরের পর বছর ধরে এগুলো জমতে জমতে সমুদ্রের মাঝে অগভীর চড়ার সৃষ্টি করে, যাকে মগ্নচড়া (Continental Bank) বলে।
মগ্নচড়াগুলোর জল অগভীর হওয়ায় সেখানে সূর্যের আলো ভালোভাবে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে সেখানে মাছের প্রিয় খাবার প্ল্যাংকটন (Plankton) প্রচুর পরিমাণে জন্মায়। খাবার খেতে পৃথিবীর সব মাছ যেন সেখানে ভিড় করে! এই কারণেই মগ্নচড়াগুলোতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে গ্র্যান্ড ব্যাংক (Grand Bank) হলো পৃথিবীর বিখ্যাত একটি মগ্নচড়া।
এল নিনো (El Niño) এবং লা নিনা (La Niña)
প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব দিকে (পেরু উপকূলে) সাধারণত শীতল স্রোত বয়। কিন্তু প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর কোনো এক অজানা কারণে সেখানে হঠাৎ করে একটি উষ্ণ স্রোতের আবির্ভাব ঘটে। এর ফলে গোটা পৃথিবীর আবহাওয়া বদলে যায়। এই উষ্ণ স্রোতটিকেই এল নিনো (El Niño) বলা হয়। এল নিনোর প্রভারতে আমাদের ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গিয়ে খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়।
এর ঠিক উলটো অবস্থা হলো লা নিনা (La Niña), যার প্রভাবে পেরু উপকূলে অতিরিক্ত ঠান্ডা স্রোত বয় এবং আমাদের ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও বন্যা হয়।
এল নিনো, মগ্নচড়া ও শৈবাল সাগর তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, সমুদ্রের জলের একটু উষ্ণতা পরিবর্তন হলে গোটা পৃথিবীর আবহাওয়া কীভাবে পালটে যায়! চলো, এবার স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ি এবং কুইজে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে নিই।
Total Slides: 6
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
