জোয়ার-ভাটা: কারণ, প্রকারভেদ ও ফলাফল বিষয়ে WBBSE Class 10 Geography-এর সম্পূর্ণ, সহজ ও পরীক্ষামুখী নোট ও ক্যুইজ এখানে দেওয়া হয়েছে। এই অংশে সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা (Tides) সৃষ্টির প্রধান দুটি কারণ—চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সিজিগি (Syzygy)অবস্থান, ভরা কোটাল (Spring Tide), মরা কোটাল (Neap Tide), পেরিজি ও অ্যাপোজি জোয়ার এবং বানডাক (Tidal Bore)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ঘটনাগুলির গঠন প্রক্রিয়া সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত রিভিশন ও কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য এখনই সম্পূর্ণ নোটটি পড়ো ও ক্যুইজ খেলো।
জোয়ার-ভাটা এবং তার সৃষ্টির কারণ
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, তৃতীয় অধ্যায় ‘বারিমণ্ডল’-এর এই শেষ পর্বে তোমাদের স্বাগত। আগের পর্বে আমরা জেনেছি সমুদ্রস্রোত কীভাবে অনুভূমিকভাবে বয়ে চলে। কিন্তু তোমরা কি খেয়াল করেছ, সমুদ্রের জল সারাদিন এক জায়গায় স্থির থাকে না? দিনে দুবার সমুদ্রের জল ফুলে উঠে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসে, আবার দুবার জল নেমে গিয়ে গভীর সমুদ্রের দিকে পিছিয়ে যায়। সমুদ্রের জলের এই নিয়মিত ফুলে ওঠাকে জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Low Tide) বলে।
জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির প্রধান দুটি কারণ হলো:
১. চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ: মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু একে অপরকে নিজের দিকে টানে (মহাকর্ষ বল)। পৃথিবীর ওপর সূর্যের চেয়ে চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি কাজ করে, কারণ সূর্য অনেক বড় হলেও চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে অবস্থিত। চাঁদের এই প্রবল আকর্ষণে পৃথিবীর যে দিক চাঁদের সামনে থাকে, সেখানকার সমুদ্রের জল ফুলে উঠে মুখ্য জোয়ার (Primary Tide) সৃষ্টি করে।
২. কেন্দ্রাতিগ বল (Centrifugal Force): পৃথিবী যেহেতু নিজের অক্ষের ওপর লাট্টুর মতো ঘুরছে, তাই তার ওপরের জিনিসগুলো ছিটকে বাইরের দিকে বেরিয়ে যেতে চায়। একেই কেন্দ্রাতিগ বা বিকর্ষণ বল বলে। চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর যেদিকে মুখ্য জোয়ার হয়, ঠিক তার উলটো দিকে এই কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে জল ফুলে উঠে গৌণ জোয়ার (Secondary Tide) সৃষ্টি করে।
জোয়ার-ভাটার প্রকারভেদ ও সময়ের ব্যবধান
চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে জোয়ারের তীব্রতা বাড়ে বা কমে:
সিজিগি ও ভরা কোটাল: অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে যখন চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় আসে, তখন তাকে সিজিগি (Syzygy) অবস্থান বলে। এই সময় চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে সমুদ্রে জলের বিশাল স্ফীতি ঘটে, একে ভরা কোটাল বা তেজ কোটাল (Spring Tide) বলে।
মরা কোটাল: শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাথে সমকোণে (90°) অবস্থান করে। তখন চাঁদ একদিকে টানে আর সূর্য অন্যদিকে টানে। ফলে জল বেশি ফুলতে পারে না। একে মরা কোটাল (Neap Tide) বলে।
পৃথিবী নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়। কিন্তু এই ২৪ ঘণ্টায় চাঁদও তার কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়। তাই কোনো নির্দিষ্ট স্থানে একটি মুখ্য জোয়ার হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর সেখানে আবার মুখ্য জোয়ার হয় না, এটি হতে ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট সময় লাগে। অর্থাৎ, একটি জোয়ার ও একটি ভাটার মধ্যে সময়ের পার্থক্য হলো প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।
বানডাক (Tidal Bore)
বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল যখন প্রবল বেগে নদীর মোহানা দিয়ে নদীর ভেতরের দিকে প্রবেশ করে, তখন নদীর জল ফুলে উঠে ভয়ংকর ঢেউয়ের সৃষ্টি করে। একেই বানডাক বলে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি নদীতে বর্ষাকালে বানডাক খুব ভালোভাবে দেখা যায়।
জোয়ার-ভাটা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, মহাকাশের চাঁদ আর সূর্য কীভাবে আমাদের পৃথিবীর সমুদ্রকে নিয়ন্ত্রণ করছে! চলো, এবার স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ি এবং কুইজে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে নিই।
Total Slides: 8
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
