বায়ুচাপ এবং পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়সমূহ – দশম শ্রেণির ভূগোল বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর ও ক্যুইজ দেওয়া হল। এই অংশে বায়ুচাপ কী, বায়ুচাপ মাপার একক ও যন্ত্র এবং উচ্চতা, উষ্ণতা ও জলীয় বাষ্পের (H2O) প্রভাবে বায়ুচাপের তারতম্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথিবীর ৭টি প্রধান বায়ুচাপ বলয়, ডোলড্রামস বা নিরক্ষীয় শান্তবলয় (Doldrums), অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitudes) এবং সূর্যরশ্মির পতনের ওপর ভিত্তি করে বায়ুচাপ বলয়ের স্থান পরিবর্তনের কারণ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত রিভিশন ও কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য এখনই সম্পূর্ণ নোটটি পড়ো ও ক্যুইজ খেলো।
বায়ুচাপ ও তার তারতম্যের কারণ
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আগের পর্বে আমরা বায়ুমণ্ডলের তাপ সম্পর্কে জেনেছি। আজ আমরা জানব ‘বায়ুচাপ’ নিয়ে। তোমরা কি জানো, আমাদের চারপাশের এই অদৃশ্য বাতাসেরও ওজন আছে? আর যার ওজন আছে, সে নিচের দিকে চাপ দেবেই! ভূ-পৃষ্ঠের প্রতি একক ক্ষেত্রফলের ওপর বায়ুর এই ওজনের ফলে সৃষ্ট চাপকেই বায়ুচাপ (Atmospheric Pressure) বলে। বায়ুচাপ মাপা হয় ব্যারোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে এবং এর একক হলো মিলিবার (mb)। সমুদ্রপৃষ্ঠে স্বাভাবিক বায়ুচাপ হলো ১০১৩.২৫ মিলিবার।
বায়ুচাপ সব জায়গায় সমান হয় না। এর প্রধান কয়েকটি কারণ হলো:
১. উষ্ণতা: বাতাস গরম হলে তা প্রসারিত ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়, ফলে সেখানে বায়ুচাপ কমে যায় (নিম্নচাপ)। আবার বাতাস ঠান্ডা হলে ভারী হয়ে নিচে নেমে আসে, ফলে চাপ বাড়ে (উচ্চচাপ)।
২. উচ্চতা: তুমি যত ওপরে উঠবে, বাতাসের স্তর তত পাতলা হতে থাকবে। তাই পাহাড়ের ওপর বায়ুচাপ অনেক কম থাকে।
৩. জলীয় বাষ্প: শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি যে, জলীয় বাষ্প (H2O) পূর্ণ বাতাস শুষ্ক বাতাসের চেয়ে হালকা হয়! তাই বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে বায়ুচাপ কমে যায়।
পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়সমূহ (Pressure Belts)
পৃথিবীর গায়ে অক্ষাংশ বরাবর বলয় বা বেল্টের মতো মোট ৭টি স্থায়ী বায়ুচাপ বলয় রয়েছে। এগুলো হলো:
১. নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় (Equatorial Low Pressure Belt):নিরক্ষরেখা (0°) থেকে ৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এই বলয় অবস্থিত। এখানে সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় বাতাস গরম ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। ফলে এখানে কোনো অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ থাকে না। এই শান্ত অবস্থাকে ডোলড্রামস (Doldrums) বা শান্তবলয় বলে।
২. কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয়: উভয় গোলার্ধের ২৫° থেকে ৩৫° অক্ষাংশের মধ্যে এই বলয় দুটি রয়েছে। নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে ওপরে ওঠা বাতাস ঠান্ডা ও ভারী হয়ে এই দুই অঞ্চলে নেমে আসে। উত্তর গোলার্ধের এই শান্ত অঞ্চলটিকে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitudes) বলা হয়।
৩. সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়: উভয় গোলার্ধের ৬০° থেকে ৬৫° অক্ষাংশের মধ্যে পৃথিবীর আবর্তনের কারণে বাতাস ছিটকে বাইরে চলে যায়, ফলে এখানে নিম্নচাপ তৈরি হয়।
৪. সুমেরু ও কুমেরু উচ্চচাপ বলয়: পৃথিবীর দুই মেরু অঞ্চলে (৮০° থেকে ৯০°) সারাবছর বরফ জমে থাকায় বাতাস প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ভারী হয়, তাই এখানে সারাবছর উচ্চচাপ বিরাজ করে।
বায়ুচাপ ও চাপবলয় তথ্যমালা ও ক্যুইজ
বায়ুচাপ বলয়গুলো কিন্তু একদম স্থির থাকে না। সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের সাথে সাথে এই বলয়গুলোও ৫° থেকে ১০° উত্তর বা দক্ষিণে সরে যায়। চলো, এবার স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ি এবং কুইজে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে নিই।
Total Slides: 7
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
