আর্দ্রতা, অধঃক্ষেপণ এবং পৃথিবীর মুখ্য জলবায়ু অঞ্চল বিষয়ে WBBSE Class 10 Geography-এর সম্পূর্ণ, সহজ ও পরীক্ষা উপযোগী তথ্য এখানে দেওয়া হয়েছে। এই অংশে বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity) কী, তা মাপার যন্ত্র (Hygrometer) এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টিপাত বা অধঃক্ষেপণ কীভাবে হয়, তার তিনটি প্রধান ভাগ—পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional), শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic) এবং ঘূর্ণবৃষ্টি (Cyclonic) সম্পর্কে চিত্রভিত্তিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। সবশেষে নিরক্ষীয়, মৌসুমি ও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত রিভিশন ও কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য এখনই সম্পূর্ণ নোটটি পড়ো ও ক্যুইজ খেলো।
আর্দ্রতা এবং অধঃক্ষেপণ
আজ আমরা জানব বৃষ্টিপাত কীভাবে হয়। তোমরা জানো, সূর্যের তাপে নদী, সমুদ্র বা পুকুরের জল বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যায়। বাতাসে উপস্থিত এই জলীয় বাষ্পের পরিমাণকেই আর্দ্রতা (Humidity) বলা হয়। আর্দ্রতা মাপা হয় হাইগ্রোমিটার (Hygrometer) যন্ত্রের সাহায্যে। বাতাস গরম হলে সে বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে। বাতাসে উপস্থিত জলীয় বাষ্প এবং ওই বাতাসের মোট জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতার শতকরা অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) বলে।
বাতাস যখন জলীয় বাষ্প নিয়ে ওপরে ওঠে, তখন তা ঠান্ডায় জমে ছোট ছোট জলকণা বা মেঘ তৈরি করে। এই জলকণাগুলো যখন ভারী হয়ে মাধ্যাকর্ষণের টানে পৃথিবীতে ঝরে পড়ে, তখন তাকে অধঃক্ষেপণ (Precipitation) বলে। বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি—এগুলো সবই অধঃক্ষেপণের উদাহরণ। বৃষ্টিপাত মাপা হয় রেইন গেজ (Rain Gauge) যন্ত্রের সাহায্যে।
বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ
বৃষ্টিপাত মূলত তিনভাবে ঘটে:
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত: নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড গরমে বাতাস জলীয় বাষ্প নিয়ে সোজা ওপরে উঠে যায় এবং বিকেলে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত ঘটায়। প্রতিদিন বিকেল ৪টের সময় এই বৃষ্টি হয় বলে একে 4 o’clock rain বলা হয়।
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: ‘শৈল’ মানে পর্বত এবং ‘উৎক্ষেপ’ মানে ওপরে ওঠা। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস পর্বতে বাধা পেয়ে পর্বতের প্রতিবাদ ঢাল (Windward side) বেয়ে ওপরে উঠে যে বৃষ্টি ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে। কিন্তু পর্বত পেরিয়ে বাতাস যখন উলটো দিকে বা অনুবাদ ঢালে (Leeward side) পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প প্রায় থাকে না, তাই সেখানে বৃষ্টি খুব কম হয়। এই অঞ্চলটিকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Region) বলে। আমাদের ভারতের মেঘালয়ের শিলং বা মহারাষ্ট্রের পুনে হলো বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের উদাহরণ।
৩. ঘূর্ণবৃষ্টি:নিম্নচাপ কেন্দ্রে বাতাস ঘুরতে ঘুরতে ঢুকে ওপরে উঠে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে ঘূর্ণবৃষ্টি বলে।
পৃথিবীর মুখ্য জলবায়ু অঞ্চল
পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আবহাওয়া ভিন্ন হওয়ার কারণে একে কয়েকটি জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
নিরক্ষীয় জলবায়ু: এখানে সারাবছর প্রচণ্ড গরম থাকে এবং প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। এখানে কোনো শীতকাল নেই।
মৌসুমি জলবায়ু: আমাদের ভারত এই জলবায়ুর অন্তর্গত। এখানে গ্রীষ্মকাল আর্দ্র (বৃষ্টি হয়) এবং শীতকাল শুষ্ক থাকে।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু: এই জলবায়ুর সবচেয়ে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি হয় না, বরং শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়। পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে এই শীতকালীন বৃষ্টিপাত ঘটে।
আর্দ্রতা এবং অধঃক্ষেপণ তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, জলীয় বাষ্প আর পর্বতের অবস্থান কীভাবে আমাদের বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে! চলো, এবার স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ি এবং কুইজে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে নিই। মনে রাখবে, শূন্যস্থান পূরণে কেবল সংখ্যা (Number) টাইপ করবে।
Total Slides: 7
Total Questions: 27 | Total Marks: 39
