মাধ্যমিক ভূগোল প্রস্তুতির এই পর্বে আমরা বায়ুমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়—আর্দ্রতা (Humidity) এবং অধঃক্ষেপণ (Precipitation)—নিয়ে আলোচনা করব। এছাড়া নিরক্ষীয়, মৌসুমি ও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে তুমি জানতে পারবে আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র হাইগ্রোমিটার কীভাবে কাজ করে, আপেক্ষিক আর্দ্রতা কেন জরুরি, আর বৃষ্টিপাতের তিনটি ধরণ—পরিচলন, শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণবৃষ্টি—কীভাবে ঘটে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত রিভিশন আর কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য সম্পূর্ণ নোটটি পড়ো, তারপর নীচের কুইজে অংশ নিয়ে নিজেকে যাচাই করো।
এখন সরাসরি কুইজ খেলতে শুরু করো। কুইজ শুরু হওয়ার আগে একটি তথ্যমালা দেওয়া হয়েছে—সেটি মন দিয়ে পড়ে নিও, তারপর প্রশ্নের উত্তর দাও। মনে রেখো, শূন্যস্থান পূরণের ক্ষেত্রে কেবল সংখ্যা (Number) টাইপ করবে।
Total Slides: 7
Rate this Quiz
Average Rating: 4.75 / 5 (4 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 27 | Total Marks: 39
বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয় কোন্ যন্ত্রের সাহায্যে?
বৃষ্টিপাত মাপক যন্ত্রের নাম কী?
আপেক্ষিক আর্দ্রতা কীসে প্রকাশ করা হয়?
'4 o'clock rain' বা বিকেল ৪টের বৃষ্টি কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে দেখা যায়?
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত পর্বতের কোন্ ঢালে ঘটে?
বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কোথায় সৃষ্টি হয়?
ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের উদাহরণ হলো-
শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে?
জলীয় বাষ্প জলকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
বায়ুর উষ্মতা বাড়লে জলীয় বাষ্প ধারণের ক্ষমতা কী হয়?
পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান কোনটি?
মেঘের আচ্ছাদন বা মেঘাচ্ছন্নতা পরিমাপের একক কী?
অধঃক্ষেপণের একটি রূপ নয় কোনটি?
পশ্চিমঘাটের পূর্ব ঢালে অবস্থিত পুনে শহরটি কীসের উদাহরণ?
যে বায়ুতে জলীয় বাষ্প ধারণের ক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যায়, তাকে কী বলে?
স্তম্ভ মিলন করো।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
আপেক্ষিক আর্দ্রতা শতকরা বা % হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে অবস্থান করে।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
বাতাসের উষ্ণতা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা সাধারণত কমে যায়।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
কুয়াশা এবং শিশির হলো অধঃক্ষেপণের উদাহরণ।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেল টের সময় পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
আপেক্ষিক আর্দ্রতা সবসময় শতাংশের মধ্যে প্রকাশ করা হয়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান মৌসিনরামের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় সেন্টিমিটার।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল নিরক্ষরেখার উভয় দিকে 0° থেকে ডিগ্রি অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থান করে।
আর্দ্রতা এবং অধঃক্ষেপণ
বৃষ্টিপাত কীভাবে হয়, তা বোঝার আগে আমাদের জানতে হবে বাতাসে জলীয় বাষ্প আসে কোথা থেকে। সূর্যের তাপে নদী, সমুদ্র বা পুকুরের জল বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যায়। বাতাসে উপস্থিত এই জলীয় বাষ্পের পরিমাণকেই আর্দ্রতা (Humidity) বলা হয়। আর্দ্রতা মাপা হয় হাইগ্রোমিটার (Hygrometer) যন্ত্রের সাহায্যে। বাতাস যত গরম হয়, তত বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে। একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বাতাসে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প আছে এবং ওই উষ্ণতায় বাতাস সর্বোচ্চ যতটা জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, তার শতকরা অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) বলে। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% হলে বাতাস সম্পৃক্ত হয়ে যায় এবং তখন জলকণা জমে মেঘ তৈরি হয়।
বাতাস যখন জলীয় বাষ্প নিয়ে ওপরে ওঠে, তখন ঠান্ডায় জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফকণা তৈরি করে। এই কণাগুলো ভারী হয়ে মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়লে তাকে অধঃক্ষেপণ (Precipitation) বলে। বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি—এসবই অধঃক্ষেপণের উদাহরণ। কোনো স্থানে কতটা বৃষ্টি হলো, তা মাপতে রেইন গেজ (Rain Gauge) ব্যবহার করা হয়। বৃষ্টির জলকে একটি বিশেষ পাত্রে জমা করে মিলিমিটার বা সেন্টিমিটার এককে তা পরিমাপ করা হয়।
বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ
বৃষ্টিপাত সাধারণত তিনভাবে ঘটে থাকে:
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত: নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড গরমে বাতাস জলীয় বাষ্প নিয়ে সোজা ওপরে উঠে যায় এবং বিকেলে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত ঘটায়। প্রতিদিন বিকেল ৪টের সময় নিয়মিত এই বৃষ্টি হয় বলে একে 4 o’clock rain বলা হয়।
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: ‘শৈল’ মানে পর্বত আর ‘উৎক্ষেপ’ মানে ওপরে ওঠা। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস পর্বতে বাধা পেয়ে পর্বতের প্রতিবাদ ঢাল (Windward side) বেয়ে ওপরে উঠে যে বৃষ্টি ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে। কিন্তু পর্বত পেরিয়ে বাতাস যখন উলটো দিকে বা অনুবাদ ঢালে (Leeward side) পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প প্রায় থাকে না, তাই সেখানে বৃষ্টি খুব কম হয়। এই কম বৃষ্টির অঞ্চলটিকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Region) বলে। ভারতের মেঘালয়ের শিলং এবং মহারাষ্ট্রের পুনে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের ভালো উদাহরণ।
৩. ঘূর্ণবৃষ্টি: নিম্নচাপ কেন্দ্রে চারপাশ থেকে বাতাস ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে এবং ওপরে উঠে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে ঘূর্ণবৃষ্টি বলে। এই বৃষ্টি সাধারণত মাঝারি থেকে প্রবল হয়ে থাকে এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেখা যায়।
পৃথিবীর মুখ্য জলবায়ু অঞ্চল
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আবহাওয়ার উপাদানগুলোর (তাপ, বায়ুচাপ, বৃষ্টিপাত) ভিন্নতার কারণে ভূপৃষ্ঠকে কয়েকটি জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
নিরক্ষীয় জলবায়ু: এখানে সারাবছর প্রচণ্ড গরম আর প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। শীতকালীন ঠান্ডা বা শুষ্ক সময় বলতে কিছু নেই বললেই চলে।
মৌসুমি জলবায়ু: আমাদের ভারত এই জলবায়ুর অন্তর্গত। গ্রীষ্মকালে বর্ষার বৃষ্টি হয়, শীতকাল শুষ্ক আর অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকে।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু: এই জলবায়ুর সবচেয়ে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি প্রায় হয় না, বরং শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়। পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে এই শীতকালীন বৃষ্টিপাত ঘটে। এছাড়া এখানকার শীতকাল মৃদু আর গ্রীষ্ম উষ্ণ ও শুষ্ক।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- Geography Home: দশম শ্রেণির ভূগোল-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: বায়ুমণ্ডল (Atmosphere)
বায়ুমণ্ডল অধ্যায়ের পাঁচ পর্ব
- পর্ব ১: বায়ুমণ্ডলের ধারণা, উপাদান এবং স্তরবিন্যাস (Concept, Components and Layers of Atmosphere)
- পর্ব ২: বায়ুমণ্ডলের তাপ, উষ্মতা এবং বিশ্ব উষ্মায়ন (Heat, Temperature and Global Warming)
- পর্ব ৩: বায়ুচাপ এবং পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়সমূহ (Atmospheric Pressure and Pressure Belts)
- পর্ব ৪: বায়ুপ্রবাহ ও তার শ্রেণিবিভাগ – নিয়ত বায়ু থেকে ঘূর্ণবাত (Wind Systems, Cyclones and Anticyclones)
- পর্ব ৫: তুমি এখানে পড়ছ আর্দ্রতা এবং অধঃক্ষেপণ
Leave a Reply