Install our QSH India App. Less than 2 MB.

দশম শ্রেণির ভূগোল, অধ্যায় বারিমণ্ডল- সম্পূর্ণ নোট, ক্যুইজ

পৃথিবীর বিশাল জলভাগ বা ‘বারিমণ্ডল’ সম্পর্কে জানব। আমাদের পৃথিবীর উপরিভাগের প্রায় ৭১ শতাংশই জলে ঢাকা? আর এই বিশাল জলরাশি কিন্তু কখনো স্থির থাকে না! বাতাসের প্রভাবে, পৃথিবীর আবর্তনের কারণে এবং চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে সমুদ্রের জল সবসময় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে চলেছে বা ফুলে উঠছে। সমুদ্রের জলের এই অনুভূমিক চলনকে বলা হয় সমুদ্রস্রোত আর উল্লম্ব ওঠানামাকে বলা হয় জোয়ার-ভাটা। চলো, কীভাবে এই সমুদ্রস্রোত এবং জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয় এবং আমাদের পৃথিবীর ওপর এরা কী প্রভাব ফেলে, তা বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।

সূচিপত্রঃ বারিমণ্ডল

বারিমণ্ডলের মূল বিষয়বস্তু একনজরে

সমুদ্রস্রোত 🌊

সমুদ্রজলের নিয়মিত নির্দিষ্ট পথে অনুভূমিক প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন এবং জলের উষ্ণতা ও লবণতার পার্থক্যের কারণে এটি সৃষ্টি হয়।

স্রোতের প্রকারভেদ 🌡️❄️

উষ্ণতা অনুযায়ী স্রোত দুই প্রকার: উষ্ণ স্রোত (যা ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে মেরুর দিকে যায়) এবং শীতল স্রোত (যা মেরু অঞ্চল থেকে ক্রান্তীয় অঞ্চলের দিকে আসে)।

মগ্নচড়া ও মৎস্যক্ষেত্র 🐟

উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে বরফ গলে নুড়ি, বালি জমে মগ্নচড়া তৈরি হয়। এই অঞ্চলে প্রচুর প্লাঙ্কটন জন্মায়, যা বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে (যেমন- গ্র্যান্ড ব্যাংক)।

জোয়ার-ভাটা 🌕☀️

চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে সমুদ্রের জল নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. সমুদ্রস্রোত ও সমুদ্রতরঙ্গের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

সমুদ্রস্রোতে সমুদ্রের জল অনুভূমিকভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় প্রবাহিত হয়, কিন্তু সমুদ্রতরঙ্গে জল এক জায়গায় থেকেই উল্লম্বভাবে ওঠানামা করে, স্থান পরিবর্তন করে না।

২. মগ্নচড়া (Continental Shelf/Banks) কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈল গলে গিয়ে তার মধ্যে থাকা পাথর, নুড়ি, বালি সমুদ্রের তলদেশে জমা হয়ে অগভীর মগ্নচড়া সৃষ্টি করে।

৩. সিজিগি (Syzygy) অবস্থান কাকে বলে?

সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তনকালে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে যখন পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদ একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন সেই অবস্থাকে সিজিগি বলে। এই সময় ভরা কোটাল বা তেজ কোটাল হয়।

৪. অ্যাপোজি ও পেরিজি জোয়ার কী?

পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব যখন সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন তাকে অ্যাপোজি অবস্থান বলে এবং এর ফলে সৃষ্ট জোয়ারকে অ্যাপোজি জোয়ার বলে। আর দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম থাকে, তখন তাকে পেরিজি অবস্থান বলে এবং সৃষ্ট জোয়ারকে পেরিজি জোয়ার বলে।

৫. শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) কাকে বলে?

উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোত পৃথিবীর আবর্তনের কারণে বেঁকে পরস্পর মিলিত হয়ে যে বিশাল জলাবর্ত বা গায়র সৃষ্টি করে, তার মাঝখানের স্রোতহীন শান্ত অংশে প্রচুর শৈবাল জন্মায়। আটলান্টিক মহাসাগরের এরকম শান্ত স্রোতহীন অংশকে শৈবাল সাগর বলে।

Share this:

Leave a Comment

×
Geography
ASK