বারিমণ্ডল ও সমুদ্রস্রোতের এই অধ্যায়ে আমরা জানব পৃথিবীর বিশাল জলরাশি কীভাবে চলাচল করে। মাধ্যমিক ভূগোলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই টপিকে আমরা সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ, তার শ্রেণিবিভাগ এবং সমুদ্রতরঙ্গের সঙ্গে তার পার্থক্য সহজভাবে বুঝব। এই নোট ও কুইজ তোমাদের রিভিশনকে আরও পোক্ত করবে।
প্রথমেই একটি তথ্যমালা দেখে নাও এবং কুইজ খেলো। এখানে উষ্ণ স্রোত, শীতল স্রোত, পৃষ্ঠ স্রোত ও অন্তঃস্রোতের ওপর প্রশ্ন থাকবে। পরীক্ষার আগে এটা তোমার ধারণা পরিষ্কার করে দেবে।
Total Slides: 7
Rate this Quiz
Average Rating: 4.75 / 5 (4 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 28 | Total Marks: 44
পৃথিবীর উপরিভাগের শতকরা প্রায় কত ভাগ স্থান জুড়ে জলভাগ রয়েছে?
পৃথিবীর মোট জলরাশির কত শতাংশ সমুদ্রের জল?
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
সমুদ্রজলের উল্লম্বভাবে ওঠানামা করাকে কী বলে?
উষ্ণ সমুদ্রস্রোত সাধারণত সমুদ্রের কোন্ অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়?
শীতল স্রোত সমুদ্রের কোন্ অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়?
নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে কোন্ স্রোত প্রবাহিত হয়?
সমুদ্রজলের লবণতা বৃদ্ধি পেলে জলের ঘনত্বের কী পরিবর্তন হয়?
পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রস্রোতের দিকবিক্ষেপ কোন্ সূত্র মেনে চলে?
ফেরেলের সূত্র অনুসারে দক্ষিণ গোলার্ধে সমুদ্রস্রোত কোন্ দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়?
আয়ন বায়ুর প্রভাবে কোন্ মহাসাগরে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়?
মেরু অঞ্চলের বরফগলা জল সাধারণত কী ধরনের স্রোত সৃষ্টি করে?
অধিক লবণযুক্ত সমুদ্রের জল কম লবণযুক্ত জলের দিকে কীভাবে প্রবাহিত হয়?
পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে সৃষ্ট কোন্ বল সমুদ্রস্রোতের দিকবিক্ষেপ ঘটায়?
নদীস্রোত ও সমুদ্রস্রোতের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
স্তম্ভ মিলন করো।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
সমুদ্রস্রোত এবং সমুদ্রতরঙ্গ হলো একই ভৌগোলিক প্রক্রিয়া।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
উষ্ণ সমুদ্রস্রোত পৃষ্ঠ স্রোত রূপে প্রবাহিত হয় কারণ এটি হালকা হয়।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
সমুদ্রজলের লবণতা বেশি হলে সেই জল ভারী হয়ে যায় এবং তা অন্তঃস্রোত রূপে প্রবাহিত হয়।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
ফেরেলের সূত্র অনুসারে উত্তর গোলার্ধে সমুদ্রস্রোত বামদিকে বেঁকে যায়।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির পেছনে পৃথিবীর আবর্তন গতির কোনো ভূমিকা নেই।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
পৃথিবীর মোট উপরিভাগের প্রায় শতাংশ স্থান জলভাগ দ্বারা বেষ্টিত।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
পৃথিবীর মোট জলরাশির প্রায় শতাংশ হলো সমুদ্রের নোনা জল।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
উষ্ণতা অনুসারে সমুদ্রস্রোতকে প্রধানত ভাগে ভাগ করা যায়।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
পৃথিবীর মোট জলের মাত্র আড়াই বা শতাংশ হলো মিষ্টি বা সাধু জল।
সঠিক সংখ্যা বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
উষ্ণতার স্বাভাবিক হ্রাসের হার অনুযায়ী প্রতি ১০০০ মিটারে ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে।
বারিমণ্ডল এবং সমুদ্রস্রোতের ধারণা
তোমরা কি জানো, আমাদের পৃথিবীর মোট উপরিভাগের প্রায় ৭১ শতাংশই জলে ঢাকা? আর এই বিপুল জলরাশির প্রায় ৯৭.৫ শতাংশই হলো সমুদ্রের নোনা জল। এই সুবিশাল জলভাগকেই ভূগোলের ভাষায় বারিমণ্ডল (Hydrosphere) বলা হয়।
সমুদ্রের এই বিপুল জলরাশি কিন্তু পুকুর বা দিঘির জলের মতো স্থির থাকে না। সমুদ্রের জল প্রধানত দুভাবে নড়াচড়া করে। যখন সমুদ্রের জল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অনুভূমিকভাবে (পাশাপাশি) নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট পথে নদীস্রোতের মতো বয়ে যায়, তখন তাকে সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে। অন্যদিকে, সমুদ্রের জল যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় না গিয়ে কেবল নিজের জায়গাতেই ওপর-নিচে বা উল্লম্বভাবে ওঠানামা করে, তখন তাকে সমুদ্রতরঙ্গ (Ocean Wave) বলে। সমুদ্রস্রোত সাধারণত বহু দূর পর্যন্ত একই গতিপথে চলে এবং এর প্রভাব সংশ্লিষ্ট উপকূলের আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের ওপর পড়ে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের কারণে পশ্চিম ইউরোপের শীতকাল তুলনামূলকভাবে মৃদু থাকে।
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ
সমুদ্রের জল এমনি এমনি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে যায় না। এর পেছনে বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে:
১. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির সবচেয়ে প্রধান কারণ হলো পৃথিবীর ওপর দিয়ে বয়ে চলা নিয়ত বায়ু (যেমন— আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু)। বাতাস যখন সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে যায়, তখন সে তার সাথে সমুদ্রের ওপরের জলকেও টেনে নিয়ে যায়। এই কারণে বায়ুপ্রবাহের দিকই অনেকটা সমুদ্রস্রোতের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।
২. পৃথিবীর আবর্তন গতি: পৃথিবীর নিজের অক্ষের চারিদিকে ঘোরার কারণে (কোরিওলিস বল) সমুদ্রস্রোত সোজা পথে বইতে পারে না। ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী এটি উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
৩. উষ্ণতার তারতম্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর রোদ থাকায় সমুদ্রের জল গরম ও হালকা হয়ে যায়। এই হালকা জল সমুদ্রের ওপরের অংশ দিয়ে পৃষ্ঠ স্রোত রূপে মেরু অঞ্চলের দিকে বয়ে যায়। অন্যদিকে, মেরু অঞ্চলের জল বরফের মতো ঠান্ডা ও ভারী হওয়ায় তা সমুদ্রের গভীর দিয়ে অন্তঃস্রোত রূপে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে। এই উষ্ণতার তারতম্যের জন্যই সমুদ্রে উল্লম্ব সঞ্চালন বা পরিচলন সৃষ্টি হয় যা সমুদ্রস্রোতকে চালিত করে।
৪. জলের লবণতা ও ঘনত্ব: সমুদ্রের জলে বেশি লবণ থাকলে সেই জল ভারী হয় এবং তা কম লবণযুক্ত হালকা জলের দিকে তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। লবণতার তারতম্য ও ঘনত্বের পার্থক্য থেকেও সমুদ্রের গভীর স্রোতের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাষ্পীভবন, বৃষ্টিপাত এবং নদীর মিষ্টি জলের মিশ্রণ লবণতার ওপর প্রভাব ফেলে।
সমুদ্রস্রোতের শ্রেণিবিভাগ
উষ্ণতা অনুযায়ী সমুদ্রস্রোতকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. উষ্ণ স্রোত (Warm Current): নিরক্ষীয় বা ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে যে গরম ও হালকা স্রোত মেরু অঞ্চলের দিকে বয়ে যায়, তাকে উষ্ণ স্রোত বলে। এটি সাধারণত পৃষ্ঠ স্রোত রূপে প্রবাহিত হয়। উষ্ণ স্রোতের জল বেশি উষ্ণ থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং তা বৃষ্টিপাত ঘটাতেও সাহায্য করে।
২. শীতল স্রোত (Cold Current): মেরু বা উচ্চ অক্ষাংশ অঞ্চল থেকে যে অত্যন্ত ঠান্ডা ও ভারী স্রোত নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে বয়ে আসে, তাকে শীতল স্রোত বলে। ভারী হওয়ার কারণে এটি সমুদ্রের অনেক নিচ দিয়ে বা অন্তঃস্রোত রূপে প্রবাহিত হয়। শীতল স্রোত উপকূলের তাপমাত্রা কমায় এবং সাধারণত বৃষ্টিপাত হ্রাস করে, ফলে ওই অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়া দেখা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- Geography Home: দশম শ্রেণির ভূগোল-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: বারিমণ্ডল (Hydrosphere)
বারিমণ্ডল অধ্যায়ের তিন পর্ব
- পর্ব ১: তুমি এখানে পড়ছ (Concept, Causes, and Types of Ocean Currents)
- পর্ব ২: সমুদ্রস্রোতের প্রভাব এবং পৃথিবীর প্রধান সমুদ্রস্রোত
- পর্ব ৩: জোয়ার-ভাটা: কারণ, প্রকারভেদ ও ফলাফল
Leave a Reply