Install our QSH India App. Less than 2 MB.

হিমবাহের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ | বহির্জাত প্রক্রিয়া Class 10 Geography

হিমবাহের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ—ক্ষয়সঞ্চয় কাজ (Work of Glacier Landforms) বিষয়ে WBBSE Class 10 Geography-এর সম্পূর্ণ, সহজ ও পরীক্ষামুখী নোট এখানে দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যায়ে হিমবাহের প্রধান কাজ—ক্ষয় (Erosion) ও সঞ্চয় (Deposition)—কীভাবে বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ গঠন করে তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্ক বা করি (Corrie), হিমদ্রোণী বা U-আকৃতির উপত্যকা, ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley), রসে মতানে, গ্রাবরেখা (Moraine) এবং ড্রামলিন (Drumlin)-এর গঠন প্রক্রিয়া, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সংক্ষিপ্ত নোট, সংজ্ঞা ও চিত্রভিত্তিক ব্যাখ্যাসহ এই গাইডটি দ্রুত রিভিশন ও কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। Geography-এর এই অধ্যায়টি আয়ত্ত করতে এবং ভালো নম্বর পেতে এখনই সম্পূর্ণ নোটটি পড় ও ক্যুইজ খেলো।

হিমবাহের কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ

নদীর কাজ তো আমরা আগের পর্বে জেনেছি। আজ আমরা এমন একটি শক্তির কথা জানব, যা বরফের তৈরি হলেও কঠিন পাহাড় কাটার ক্ষমতা রাখে! তোমরা কি জানো, পাহাড়ের চূড়ায় বা মেরু অঞ্চলে যে বিশাল বরফের স্তূপ দেখা যায়, তারা স্থির থাকে না? মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে তারা খুব ধীরে ধীরে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নীচে নামতে থাকে। এই চলন্ত বরফের নদীকেই ভূগোলের ভাষায় বলা হয় হিমবাহ (Glacier)। পৃথিবীর মোট সুপেয় বা মিষ্টি জলের সবচেয়ে বড়ো ভাণ্ডার হলো এই হিমবাহ।

হিমবাহের প্রকারভেদ

অবস্থান অনুযায়ী হিমবাহকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, মহাদেশীয় হিমবাহ—যা আন্টার্কটিকা বা গ্রিনল্যান্ডের মতো বিশাল এলাকা জুড়ে চাদরের মতো ঢাকা থাকে। আন্টার্কটিকার ল্যাম্বার্ট হলো পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশীয় হিমবাহ। দ্বিতীয়ত, উপত্যকা বা পার্বত্য হিমবাহ—যা উঁচু পাহাড়ের উপত্যকা বেয়ে নীচে নামে। আমাদের কারাকোরাম পর্বতের সিয়াচেন হলো ভারতের দীর্ঘতম উপত্যকা হিমবাহ। আর তৃতীয়ত, পাদদেশীয় হিমবাহ—যখন উপত্যকা হিমবাহ পাহাড় থেকে নেমে পাদদেশে এসে ছড়িয়ে পড়ে। আলাস্কার ম্যালাসপিনা হলো এর একটি দারুণ উদাহরণ।

হিমবাহের ক্ষয়কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ

হিমবাহ প্রধানত দুটি প্রক্রিয়ায় ক্ষয় করে—উৎপাটন (Plucking) এবং অবঘর্ষ (Abrasion)। উৎপাটন প্রক্রিয়ায় হিমবাহ তার চলার পথের পাথরগুলোকে উপড়ে নেয়, ঠিক যেমন আমরা দাঁত তুলি! আর অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় সেই পাথরের টুকরোগুলো দিয়ে ঘষে ঘষে পাহাড়ের গা মসৃণ করে দেয়।

এই ক্ষয়কাজের ফলে উঁচু পাহাড়ের গায়ে হাতলওয়ালা ডেকচেয়ারের মতো গর্ত তৈরি হয়, যাকে বলা হয় করি বা সার্ক। হিমবাহ যখন উপত্যকা দিয়ে নামে, তখন তার প্রবল ঘর্ষণে উপত্যকাটি ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো দেখতে হয়ে যায়, একে বলা হয় হিমদ্রোণী (U-shaped Valley)। অনেক সময় প্রধান হিমবাহের ওপর ছোট ছোট হিমবাহ এসে পড়লে, মনে হয় যেন ছোট উপত্যকাগুলো ওপর থেকে ঝুলে আছে। একে ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley) বলে, যেখানে সাধারণত জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়। এছাড়াও হিমবাহের ক্ষয়ে তৈরি হওয়া একদিক মসৃণ ও অপরদিক অমসৃণ শিলাস্তূপকে রসে মতানে (Roches Moutonnees) বলা হয়।

হিমবাহের সঞ্চয়কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ

হিমবাহ যখন গলতে শুরু করে, তখন সে তার বয়ে আনা পাথর, বালি, কাঁকর সব জমা করতে থাকে। হিমবাহের এই সঞ্চিত পদার্থকে একসাথে বলা হয় গ্রাবরেখা (Moraine)। হিমবাহের সঞ্চয়ের ফলে অনেক সময় উলটানো নৌকা বা আধখানা ডিমের মতো ছোট ছোট ঢিবি তৈরি হয়, এদের ড্রামলিন (Drumlin) বলে।

হিমবাহের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ তথ্যমালা ও ক্যুইজ

অনেকগুলো ড্রামলিন একসাথে থাকলে দূর থেকে দেখতে অনেকটা ডিম ভরতি ঝুড়ির মতো লাগে, তাই একে ‘ডিমের ঝুড়ির মতো ভূমিরূপ’ (Basket of egg topography) বলা হয়।

Slow
হিমবাহের কাজ ও সৃষ্ট ভূমিরূপ তথ্যমালা

Total Slides: 7

From: To:

Rate this Quiz

Average Rating: 5 / 5 (1 votes)

Click on a star to rate:

Slow
হিমবাহের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ বিষয়ক ক্যুইজ

Total Questions: 28 | Total Marks: 40

নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, হিমবাহ কীভাবে নিঃশব্দে আমাদের পৃথিবীর রূপ পালটে দেয়! চলো, এবার স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ি এবং কুইজে অংশ নিয়ে দেখি আমরা কতটা শিখতে পারলাম।


Share this:

Leave a Comment

×
Geography
ASK