আজকে আমরা অষ্টম অধ্যায়ে ‘উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭-১৯৬৪ খ্রি.)’-এর প্রথম অংশ নিয়ে আলোচনা করব। দীর্ঘ ২০০ বছরের পরাধীনতার পর ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হলেও, এই স্বাধীনতা এসেছিল দেশভাগের চরম যন্ত্রণার হাত ধরে। আজকে আমরা মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব, দেশভাগ এবং তার ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ উদ্বাস্তু সমস্যা (Refugee Crisis) সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
স্বাধীনতা লাভ ও মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পেরেছিল যে ভারতে তাদের শাসন টিকিয়ে রাখা আর সম্ভব নয়। হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে কোনো ঐক্যমত্য না হওয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের ভাইসরয় করে পাঠান।
১৯৪৭ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাজন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা ‘মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব’ বা ‘রোয়েদাদ’ নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ‘ভারতের স্বাধীনতা আইন’ পাস করে এবং স্থির হয় যে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হবে।
দেশভাগ ও র্যাডক্লিফ লাইন
দেশভাগের সবচেয়ে বড় বলি হতে হয়েছিল বাংলা এবং পাঞ্জাব প্রদেশকে। এই দুই প্রদেশের সীমানা নির্ধারণের জন্য ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র্যাডক্লিফের নেতৃত্বে ‘সীমানা নির্ধারণ কমিশন’ (Boundary Commission) গঠিত হয়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তাঁর টানা এই সীমানারেখাই ইতিহাসে ‘র্যাডক্লিফ লাইন’ (Radcliffe Line) নামে পরিচিত। এর ফলে বাংলার হিন্দু-অধ্যুষিত পশ্চিমাংশ ভারতে (পশ্চিমবঙ্গ) এবং মুসলিম-অধ্যুষিত পূর্বাংশ পাকিস্তানে (পূর্ব পাকিস্তান বা বর্তমান বাংলাদেশ) যুক্ত হয়।
উদ্বাস্তু সমস্যা এবং দিল্লি চুক্তি (১৯৫০)
দেশভাগের ফলে পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তান (পাঞ্জাব, সিন্ধু) থেকে হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ প্রাণভয়ে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এদেরকেই ‘উদ্বাস্তু’ (Refugee) বলা হয়। স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এই লক্ষ লক্ষ ছিন্নমূল মানুষের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা বা পুনর্বাসন দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আসাম, ত্রিপুরা, দণ্ডকারণ্য এবং আন্দামানে এদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৫০ সালের ৮ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ‘দিল্লি চুক্তি’ বা নেহরু-লিয়াকত চুক্তি নামে পরিচিত।
দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যা তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- র্যাডক্লিফ লাইন, মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব, দিল্লি চুক্তি) সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে: ভারতের স্বাধীনতা লাভ, দেশভাগ এবং উদ্বাস্তু সমস্যা সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Rate this Quiz
Average Rating: 5 / 5 (3 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব কবে ঘোষণা করা হয়?
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট 'ভারতের স্বাধীনতা আইন' কবে পাস করে?
ভারতের শেষ ব্রিটিশ ভাইসরয় কে ছিলেন?
স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
স্বাধীন ভারতের প্রথম ভারতীয় গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণকারী রেখার নাম কী?
পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুরা সর্বাধিক কোথায় আশ্রয় নিয়েছিল?
দিল্লি চুক্তি (নেহরু-লিয়াকত চুক্তি) কবে স্বাক্ষরিত হয়?
দিল্লি চুক্তির সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
দিল্লি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
দেশভাগের ফলে কোন্ দুটি প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল?
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে হন?
'উদ্বাস্তু' (Refugee) শব্দের অর্থ কী?
মার্জিনাল ম্যান (Marginal Man) বা প্রান্তিক মানব গ্রন্থটি কার লেখা?
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের সীমানা নির্ধারণের জন্য র্যাডক্লিফ লাইন টেনেছিলেন।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতের স্বাধীনতা আইন পাস হয়।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
দিল্লি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানের জন্য।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
দেশভাগের ফলে বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশ দুটি খণ্ডিত হয়েছিল।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাজনের প্রস্তাব ঘোষণা করেন খ্রিস্টাব্দের ৩ জুন।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট 'ভারতের স্বাধীনতা আইন' পাস করে খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুলাই।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
সীমানা নির্ধারণ কমিশনের প্রধান স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণ করেন খ্রিস্টাব্দে।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধান এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দিল্লি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় খ্রিস্টাব্দে।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
স্বাধীন ভারতের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় ২৬ জানুয়ারি খ্রিস্টাব্দে।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- History Home: দশম শ্রেণির ইতিহাস-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব
অষ্টম অধ্যায়ের তিন পর্ব
- পর্ব ১: তুমি এখানে পড়ছ (স্বাধীনতা লাভ, দেশভাগ এবং উদ্বাস্তু সমস্যা)
- পর্ব ২: দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি: জুনাগড়, হায়দ্রাবাদ ও কাশ্মীর
- পর্ব ৩: ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন এবং ভারতের বর্তমান মানচিত্র
Leave a Reply