বায়ুর দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ—ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজ (Work of Wind Landforms) বিষয়ে WBBSE Class 10 Geography-এর সম্পূর্ণ, সহজ ও পরীক্ষামুখী নোট এখানে দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যায়ে বায়ুর প্রধান কাজ—ক্ষয় (Erosion), বহন (Transportation) ও সঞ্চয় (Deposition)—কীভাবে মরুভূমিতে বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ গঠন করে তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি গৌর (Gour), ইয়ার্দাং (Yardang), জিউগেন (Zeugen), ইনসেলবার্জ (Inselberg), বিভিন্ন ধরনের বালিয়াড়ি বা Sand dunes (যেমন বার্খান ও সিফ) এবং লোয়েস সমভূমির (Loess plain) গঠন প্রক্রিয়া ও বৈশিষ্ট্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও চিত্রভিত্তিক ব্যাখ্যাসহ এই গাইডটি কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। Geography-এর এই অধ্যায়টি আয়ত্ত করতে এখনই সম্পূর্ণ নোটটি পড় ও ক্যুইজ খেলো।
বায়ুর কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, নদীর কাজ এবং হিমবাহের কাজের পর আজ আমরা জানব ‘বায়ু’ বা বাতাসের কাজ সম্পর্কে। নদী বা হিমবাহ যেমন নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কাজ করে, বায়ু কিন্তু পৃথিবীর সব জায়গাতেই বয়ে চলে। তবে বায়ুর আসল ক্ষমতা বা ক্ষয়কাজ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শুষ্ক মরুভূমি (Desert) অঞ্চলে। তোমরা কি জানো, মরুভূমিতে কেন বায়ুর কাজ এত বেশি দেখা যায়? কারণ সেখানে বৃষ্টি প্রায় হয় না বললেই চলে, গাছপালা নেই বললেই চলে, আর মাটি আলগা বালিতে ভরতি থাকে। ফলে প্রবল বেগে ছুটে চলা বাতাস কোনো বাধা না পেয়ে ইচ্ছেমতো বালি উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়।
বায়ুর ক্ষয়কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ
বায়ু প্রধানত তিনটি প্রক্রিয়ায় ক্ষয় করে—অপসারণ (Deflation), অবঘর্ষ (Abrasion) এবং ঘর্ষণ (Attrition)। অপসারণ প্রক্রিয়ায় প্রবল বাতাস মরুভূমির বালি এক জায়গা থেকে উড়িয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। এর ফলে সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়, যাকে অপসারণ গর্ত বা ব্লো-আউট (Blow-out) বলে। মিশরের ‘কাতারা’ হলো পৃথিবীর বৃহত্তম অপসারণ গর্ত। এই গর্ত যদি মাটির নীচের জলস্তর বা ভৌমজল অব্দি পৌঁছে যায়, তখন সেখানে জল বেরিয়ে এসে মরূদ্যান (Oasis) সৃষ্টি হয়।
আবার অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় বাতাসের সাথে উড়ে আসা বালির কণাগুলো যখন মরুভূমির বুকে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো পাথরের গায়ে জোরে ধাক্কা মারে, তখন পাথরটি ক্ষয়ে যায়। এই ক্ষয়ের ফলে যদি পাথরটির নীচের দিকটা বেশি ক্ষয়ে গিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে হয়, তখন তাকে গৌর (Gour) বা মাশরুম রক (Mushroom Rock) বলে। কঠিন ও কোমল শিলা যদি পরপর অনুভূমিকভাবে (পাশাপাশি) থাকে, তবে ক্ষয় পেয়ে যে চ্যাপটা মাথাওয়ালা ভূমিরূপ তৈরি হয় তাকে জিউগেন (Zeugen) বলে। আর শিলাস্তর যদি উল্লম্বভাবে (ওপর-নীচে) থাকে, তখন বায়ুর ক্ষয়ে মোরগের ঝুঁটির মতো যে ভূমিরূপ তৈরি হয়, তাকে ইয়ার্দাং (Yardang) বলে। এছাড়া মরুভূমির বুকে কঠিন শিলা দিয়ে তৈরি ছোট ছোট খাড়া পাহাড় বা টিলা দেখা যায়, যাদের ইনসেলবার্জ (Inselberg) বলা হয়।
বায়ুর সঞ্চয়কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ
বাতাসের বেগ কমে গেলে বা পথে কোনো গাছ, পাথর বা উঁচু ঢিবি বাধা হয়ে দাঁড়ালে, বাতাসের উড়িয়ে আনা বালি সেখানে জমতে শুরু করে। বায়ুর সঞ্চয়কাজের ফলে তৈরি হওয়া বালির পাহাড়গুলোকে বালিয়াড়ি (Sand dune) বলে। বালিয়াড়ি মূলত দুই রকমের হয়। বাতাসের গতিপথের সাথে আড়াআড়িভাবে (Transverse) যে অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়ি তৈরি হয় তাকে বার্খান (Barchan) বলে। আর বাতাসের গতির সাথে সমান্তরালভাবে তরোয়ালের মতো লম্বা যে বালিয়াড়ি তৈরি হয়, তাকে সিফ বালিয়াড়ি (Seif dune) বলে।
এছাড়া, মরুভূমির খুব সূক্ষ্ম হলদে রঙের ধুলো বা পলি বাতাস উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে মরুভূমি থেকে অনেক দূরে সঞ্চয় করে যে বিশাল সমভূমি তৈরি করে, তাকে লোয়েস সমভূমি (Loess plain) বলে। মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমি থেকে বালি উড়ে গিয়ে চিনের হোয়াংহো নদীর অববাহিকায় এমন এক বিশাল লোয়েস সমভূমি তৈরি করেছে।
Total Slides: 8
Rate this Quiz
Average Rating: 5 / 5 (3 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
বায়ুর কাজ সবচেয়ে বেশি কোথায় দেখা যায়?
ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে বায়ুর ক্ষয়জাত ভূমিরূপটিকে কী বলা হয়?
বায়ুর অপসারণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট গর্তকে কী বলে?
কঠিন ও কোমল শিলা উল্লম্বভাবে অবস্থান করলে বায়ুর ক্ষয়ে কোন্ ভূমিরূপ তৈরি হয়?
মরুভূমির বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন শিলার অবশিষ্ট পাহাড়কে কী বলে?
অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়িকে কী বলা হয়?
আরবি শব্দ সিফ (Seif) কথার অর্থ কী?
পৃথিবীর বৃহত্তম অপসারণ গর্ত বা ব্লো-আউট কোনটি?
লোয়েস সমভূমি প্রধানত কোথায় দেখা যায়?
বায়ুর গতির সমান্তরালে গড়ে ওঠা দীর্ঘ বালিয়াড়িকে কী বলে?
মরূদ্যান সৃষ্টির প্রধান কারণ বায়ুর কোন্ প্রক্রিয়া?
চ্যাপটা মাথাওয়ালা টেবিলের মতো বায়ুর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ কোনটি?
বায়ুর সাথে বাহিত বালির কণার নিজেদের মধ্যে ঠোকাঠুকি লেগে ক্ষয় হওয়াকে কী বলে?
মোরগের ঝুঁটির মতো দেখতে বায়ুর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ কোনটি?
জার্মান শব্দ ইনসেলবার্জ-এর অর্থ কী?
স্তম্ভ মিলন করো।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য নাকি মিথ্যা নির্ণয় করো।
উষ্ণ মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
সত্য নাকি মিথ্যা বলো।
বার্খান হলো বায়ুর গতিপথের সমান্তরালে গড়ে ওঠা অণুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি।
সঠিক নাকি বেঠিক নির্বাচন করো।
লোয়েস কথার অর্থ হলো স্থানচ্যুত বস্তু বা সূক্ষ্ম পলি।
সত্য নাকি মিথ্যা বলো।
মরুভূমিতে অপসারণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট গর্তের গভীরতা ভৌমজল স্তর ছুঁলে মরূদ্যান সৃষ্টি হয়।
সত্য না মিথ্যা।
ইনসেলবার্জ হলো বায়ুর সঞ্চয়কাজের ফলে সৃষ্ট একটি ভূমিরূপ।
সঠিক শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
মরুভূমিতে বায়ুর অপসারণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট গর্তকে বলে।
সঠিক উত্তরটি বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়িকে বলা হয়।
শূন্যস্থান পূরণ কর।
আরবি শব্দ সিফ কথার অর্থ হলো ।
শূন্যস্থান পূরণ কর।
মিশরের হলো পৃথিবীর বৃহত্তম অপসারণ গর্ত।
শূন্যস্থান পূরণ কর।
জার্মান শব্দ ইনসেলবার্জ এর অর্থ হলো ।
নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, বাতাস কীভাবে বালির সাহায্যে মরুভূমিকে নিজের মতো করে সাজিয়ে তোলে! চলো, এবার স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ি এবং কুইজে অংশ নিয়ে দেখি আমরা কতটা শিখতে পারলাম।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- Geography Home: দশম শ্রেণির ভূগোল-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সৃষ্ট ভূমিরূপ
বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সৃষ্ট ভূমিরূপ এর পাঁচ পর্ব
- পর্ব ১: বহির্জাত প্রক্রিয়া এবং পর্যায়ন (Concept of Exogenetic Processes & Gradation)
- পর্ব ২: নদীর কাজ এবং নদীর দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ (Work of River and Landforms)
- পর্ব ৩: হিমবাহের কাজ এবং সৃষ্ট ভূমিরূপ (Work of Glacier and Landforms)
- পর্ব ৪: তুমি এখানে পড়ছ (Work of Wind and Landforms)
- পর্ব ৫: মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত কাজ (Combined Work of Wind and Water in Deserts)
Leave a Reply