মাধ্যমিক ইতিহাস প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা ষষ্ঠ অধ্যায় ‘বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন’-এর দ্বিতীয় অংশ নিয়ে আলোচনা করব। আগের পর্বে আমরা দেখেছি অসহযোগ আন্দোলনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া। এরপর ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলন এবং ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে (আগস্ট আন্দোলন) ব্রিটিশদের ভিত সম্পূর্ণ কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলার তথা ভারতের কৃষক ও শ্রমিক সমাজ। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ডান্ডি অভিযান থেকে শুরু করে মেদিনীপুরের ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ এবং মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগের ইতিহাস খুব সহজভাবে জানব।
আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০-৩৪) ও গণজাগরণ
১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধী সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে ব্রিটিশদের ‘লবণ আইন’ ভাঙার মাধ্যমে ঐতিহাসিক আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করেন, যা ডান্ডি অভিযান নামে পরিচিত। এই আন্দোলনে কৃষকরা ব্যাপকভাবে যোগ দেয়। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, বাংলা এবং গুজরাটে কৃষকরা ‘কর-বন্ধ’ বা ‘খাজনা বন্ধ’ করার ডাক দেয়।
কৃষকদের পাশাপাশি কারখানার শ্রমিকরাও পিছিয়ে ছিল না। মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে শ্রমিকরা এক ভয়ংকর আন্দোলন গড়ে তোলে। তারা ব্রিটিশদের থানা, আদালত ও রেল স্টেশনে আক্রমণ করে একপ্রকার ব্রিটিশ শাসনকে কিছুদিনের জন্য অচল করে দিয়েছিল। তবে ১৯৩৪ সালে গান্ধিজি এই আন্দোলন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার করে নেন।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২) ও কৃষক-শ্রমিক
১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশদের ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেন এবং দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ (Do or Die) ডাক দেন। এটিই ভারত ছাড়ো আন্দোলন বা আগস্ট আন্দোলন নামে পরিচিত।
এই আন্দোলন আগের সমস্ত আন্দোলনকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা গান্ধিজি-সহ কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতাদের গ্রেপ্তার করলে এই আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও ছাত্রদের হাতে চলে যায়।
- মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার: বাংলার মেদিনীপুর জেলার তমলুকে কৃষকরা ব্রিটিশ প্রশাসনকে উৎখাত করে সতীশচন্দ্র সামন্তের নেতৃত্বে স্বাধীন ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ গঠন করেছিল। এখানেই তৈরি হয়েছিল সশস্ত্র ‘বিদ্যুৎ বাহিনী’।
- মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মদান: মেদিনীপুরেই ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা (যাঁকে ভালোবেসে গান্ধিবুড়ি বলা হতো) হাজার হাজার কৃষকের একটি মিছিল নিয়ে থানা দখল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেও তিনি তাঁর হাত থেকে তেরঙা পতাকা মাটিতে পড়তে দেননি।
এই সময় আমেদাবাদ, বোম্বাই, কানপুর এবং জামশেদপুরের টাটা কারখানার শ্রমিকরাও টানা ধর্মঘট করে ব্রিটিশদের উৎপাদন ব্যবস্থা স্তব্ধ করে দিয়েছিল। মজার বিষয় হলো, এই সময় কমিউনিস্ট পার্টি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল।
আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলন তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের নলেজ স্লাইডগুলো বা তথ্যমালা ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার, গান্ধিবুড়ি) এবং নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে: আইন অমান্য আন্দোলন, ভারত ছাড়ো আন্দোলন এবং কৃষক-শ্রমিকদের অবদান সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
