🎓 Log in to save your performance and get free courses
My Course My Report Log In

Install the QSH India App

⭐ Thousands of students installed

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ দশম শ্রেণির ইতিহাস

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে আসার পর তাদের চরম অর্থনৈতিক শোষণ এবং নতুন ভূমিরাজস্ব নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাংলার সাধারণ কৃষক এবং আদিবাসী সমাজ। এর পাশাপাশি ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দের ‘অরণ্য আইন’ আদিবাসীদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেয়। ফলে নিজেদের অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষার তাগিদে তারা ব্রিটিশ সরকার, জমিদার এবং বহিরাগত মহাজনদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিতে বাধ্য হয়। এই অধ্যায়ে আমরা বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের মূল ধারণা বুঝব এবং চুয়াড়, কোল, সাঁওতাল, মুন্ডা থেকে শুরু করে ওয়াহাবি, ফরাজি ও নীল বিদ্রোহের মতো ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনগুলির কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে ধাপে ধাপে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

সূচিপত্র (Topic-Wise Index)

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ একনজরে

অরণ্য আইন ও আদিবাসী বিদ্রোহ 🌳

ব্রিটিশদের অরণ্য আইন আদিবাসীদের জঙ্গল ব্যবহারের অধিকার কেড়ে নিলে চুয়াড় ও কোলদের মতো উপজাতিরা নিজেদের অধিকার রক্ষায় বিদ্রোহ করে।

সাঁওতাল হুলমুন্ডা উলগুলান 🏹

বহিরাগত মহাজন বা ‘দিকু’দের শোষণের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা (১৮৫৫) এবং ‘খুতকাঠি’ প্রথা ভাঙার বিরুদ্ধে বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে মুন্ডারা (১৮৯৯) প্রবল বিদ্রোহ করে।

ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলন 🕌

ধর্মীয় সংস্কারের আবরণে শুরু হলেও তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা এবং দুদু মিয়াঁর ফরাজি আন্দোলন মূলত জমিদার ও ব্রিটিশ বিরোধী কৃষক বিদ্রোহে পরিণত হয়েছিল।

নীল বিদ্রোহ 🌾

নীলকর সাহেবদের অবর্ণনীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ১৮৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার কৃষকরা শক্তিশালী নীল বিদ্রোহ গড়ে তোলে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. ‘দিকু’ (Diku) কাদের বলা হতো?

সাঁওতাল অধ্যুষিত অঞ্চলে যেসব বহিরাগত বাঙালি বা মাড়োয়ারি মহাজন, ব্যবসায়ী ও জমিদার চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে সাঁওতালদের শোষণ করত এবং তাদের জমি কেড়ে নিত, সাঁওতালরা তাদের নিজেদের ভাষায় ‘দিকু’ (প্রতারক) বলত।

২. ‘উলগুলান’ (Ulgulan) শব্দের অর্থ কী?

মুন্ডা ভাষায় ‘উলগুলান’ শব্দের অর্থ হলো ‘ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা’ বা ‘প্রবল আলোড়ন’। ১৮৯৯-১৯০০ খ্রিস্টাব্দে বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে মুন্ডারা ব্রিটিশ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে যে ভয়ংকর বিদ্রোহ করেছিল, তা মুন্ডা উলগুলান নামে পরিচিত।

৩. ‘খুতকাঠি’ (Khuntkatti) প্রথা কী?

মুন্ডা সমাজে প্রচলিত জমির যৌথমালিকানা ব্যবস্থাকে ‘খুতকাঠি’ প্রথা বলা হতো। ব্রিটিশ ও জমিদাররা এই প্রথা ভেঙে দিয়ে জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা চালু করলে মুন্ডারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্রোহ করে।

৪. তিতুমীর কেন বিখ্যাত?

তিতুমীর (মীর নিসার আলি) ছিলেন বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান নেতা। তিনি অত্যাচারী জমিদার ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নারকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি শক্তিশালী ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ করেছিলেন, যা ব্রিটিশ গোলন্দাজ বাহিনীর আক্রমণে ধ্বংস হয়।

৫. নীল কমিশন (Indigo Commission) কবে এবং কেন গঠিত হয়?

নীল বিদ্রোহের (১৮৫৯-৬০) ব্যাপকতায় ভীত হয়ে এবং বাংলার নীল চাষিদের ওপর নীলকর সাহেবদের অবর্ণনীয় অত্যাচারের তদন্ত করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ‘নীল কমিশন’ গঠন করতে বাধ্য হয়।

Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

×
History
ASK