🎓 Log in to save your performance and get free courses
My Course My Report Log In

Install the QSH India App

⭐ Thousands of students installed

ধর্ম সংস্কার আন্দোলন এবং বাংলার নবজাগরণ

সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (Reform: Characteristics and Observations) অধ্যায়ের অন্তর্গত ধর্ম সংস্কার আন্দোলন এবং বাংলার নবজাগরণ বিষয়ের পরীক্ষা উপযোগী তথ্য ও ক্যুইজ প্রদান করা হয়েছে। এই অংশে উনিশ শতকের বাংলার আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক জাগরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মে যখন নানারকম কুসংস্কার ও ভেদাভেদ প্রকট হয়েছিল, তখন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ এবং লালন ফকিরের মতো সাধকরা কীভাবে ধর্মকে একটি নতুন ও মানবিক রূপ দিয়েছিলেন, তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, ইউরোপের ইতালির মতো উনিশ শতকের বাংলায় যে ‘নবজাগরণ’ (Bengal Renaissance) ঘটেছিল, তার বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

ধর্ম সংস্কার: শ্রীরামকৃষ্ণ ও লালন ফকির

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, দশম শ্রেণির ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায়ের এই শেষ পর্বে তোমাদের স্বাগত! উনিশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের ফলে যখন হিন্দু ধর্মের নানা নিয়মকানুন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তখন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব হিন্দু ধর্মকে এক নতুন সহজ রূপ দেন। তিনি বললেন, সব ধর্মই সত্য এবং সব ধর্ম পালনের মাধ্যমেই ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। তাঁর এই মতবাদ ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’ নামে পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত উক্তি হলো— “যত মত, তত পথ”

অন্যদিকে, গ্রামবাংলার বাউল সাধক লালন ফকির (লালন শাহ) তাঁর গানের মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলিম ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে তোলেন। তিনি জাতপাত বা ধর্মের ভেদাভেদ মানতেন না। তাঁর কাছে ‘মানবধর্ম’-ই ছিল শ্রেষ্ঠ ধর্ম।

স্বামী বিবেকানন্দ এবং নব্য বেদান্ত

শ্রীরামকৃষ্ণের প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ প্রাচীন হিন্দু ধর্ম ও বেদান্ত দর্শনকে এক নতুন রূপে আধুনিক সমাজের সামনে তুলে ধরেন, যা ‘নব্য বেদান্ত’ (Neo-Vedanta) নামে পরিচিত। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, শুধু মন্দিরে গিয়ে পুজো করলেই ধর্ম পালন হয় না। তাঁর মতে, মানুষের সেবাই হলো ঈশ্বরের সেরা আরাধনা। তাই তিনি বলেছিলেন— “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”। স্বামী বিবেকানন্দের বর্তমান ভারত, ‘পরিব্রাজক’ ও ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য’ গ্রন্থগুলি সে যুগের সমাজ ও জাতীয়তাবাদ গঠনে বিরাট ভূমিকা নিয়েছিল।

বাংলার নবজাগরণ (Bengal Renaissance)

উনিশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষার সংস্পর্শে এসে বাংলার সমাজ, ধর্ম, সাহিত্য ও চিন্তাধারায় যে ব্যাপক আধুনিকতার সূচনা হয়, তাকে পণ্ডিতরা ‘বাংলার নবজাগরণ’ বলে থাকেন। পনেরো শতকে ইউরোপের ইতালিতে যেমন রেনেসাঁস বা নবজাগরণ হয়েছিল, বাংলার এই পরিবর্তনকে তার সাথেই তুলনা করা হয়।
তবে, এই নবজাগরণের কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। এই জাগরণ মূলত কলকাতার কিছু ইংরেজি শিক্ষিত উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গ্রামের সাধারণ কৃষক বা মুসলিম সমাজের ওপর এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তাই অনেক ঐতিহাসিক একে সত্যিকারের নবজাগরণ না বলে ‘এলিটদের (উচ্চবিত্তদের) জাগরণ’ বলে সমালোচনা করেছেন।

ধর্ম সংস্কার ও নবজাগরণ তথ্যমালা ও ক্যুইজ

নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, মনীষীদের মতবাদ এবং নবজাগরণের বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে তোমাদের কনসেপ্ট একেবারে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

ক্যুইজ সম্পর্কে: শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়, বিবেকানন্দের নব্য বেদান্ত, লালন ফকিরের বাউল দর্শন এবং বাংলার নবজাগরণ সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।

Slow
ধর্ম সংস্কার আন্দোলন এবং বাংলার নবজাগরণ তথ্যমালা

Total Slides: 6

From: To:

Rate this Quiz

Average Rating: 5 / 5 (1 votes)

Click on a star to rate:

Slow
Quiz Icon ধর্ম সংস্কার আন্দোলন এবং বাংলার নবজাগরণ কুইজ

Total Questions: 25 | Total Marks: 37


গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা অধ্যায়ের চার পর্ব

Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

×
History
ASK