ইতিহাসের ধারণা (Concept of History) অধ্যায়ের অন্তর্গত বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিদ্যা এবং নারী ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষা উপযোগী তথ্য ও ক্যুইজ প্রদান করা হয়েছে। এই অংশে আধুনিক ইতিহাসচর্চার বৈচিত্র্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আধুনিক যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাস, চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাস এবং নারী ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে স্থান পেয়েছে। প্রাচীন ভারতে আর্যভট্টের গণিতচর্চা থেকে শুরু করে ভারতের স্বাধীনতা ও পরিবেশ আন্দোলনে সরলাদেবী, মাতঙ্গিনী হাজরা বা গৌরী দেবীর মতো নারীদের ভূমিকা কীভাবে সমাজের বিবর্তনকে তুলে ধরে, তা সহজ ভাষায় ও পরীক্ষার উপযোগী করে আলোচনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাস
মানবসভ্যতার অগ্রগতির পেছনে বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যার অবদান অনস্বীকার্য। প্রাচীন ভারতে আর্যভট্টের ‘আর্যভট্টীয়’ বা বরাহমিহিরের ‘বৃহৎসংহিতা’ থেকে আমরা সে যুগের বিজ্ঞানচর্চার কথা জানতে পারি। আধুনিক যুগে থমাস কুহনের লেখা ‘দ্য স্ট্রাকচার অব সায়েন্টিফিক রেভোলিউশনস’ বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী গ্রন্থ।
একইভাবে চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসও খুব পুরোনো। প্রাচীন ভারতে চরক ও সুশ্রুত চিকিৎসাবিদ্যায় জগৎবিখ্যাত ছিলেন। আর আধুনিক ভারতে চিকিৎসাবিদ্যার নতুন যুগের সূচনা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তাঁর ‘আ হিস্ট্রি অব হিন্দু কেমিস্ট্রি’ গ্রন্থে ভারতের রসায়নশাস্ত্র চর্চার ইতিহাস দারুণভাবে তুলে ধরেছেন।
নারী ইতিহাস (Women’s History)
ইতিহাসের পাতায় আগে নারীদের কথা প্রায় উপেক্ষিত ছিল। অথচ রাজনীতি, শিক্ষা বা আন্দোলনে নারীদের অবদান কোনো অংশেই কম নয়। রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে শুরু করে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত প্রমুখের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয়। এমনকি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও চিপকো আন্দোলনে গৌরী দেবী বা নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনে মেধা পাটেকরের নেতৃত্ব প্রশংসনীয়।
নারীদের এই অবদানকে স্বীকৃতি দিতে এবং তাদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরতেই ১৯৭০-এর দশক থেকে নারী ইতিহাস চর্চা শুরু হয়। জাতিসংঘ ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দকে ‘আন্তর্জাতিক নারী বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৭৫-১৯৮৫ সালকে ‘নারী দশক’ হিসেবে পালন করা হয়। গের্ডা লার্নারের ‘দ্য ক্রিয়েশন অব প্যাট্রিয়ার্কি’ বা জোয়ান কেলির ‘ডিড উইমেন হ্যাভ আ রেনেসাঁ?’-এর মতো গ্রন্থগুলি নারী ইতিহাস চর্চায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও নারী ইতিহাস তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এবং তাদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে তোমাদের কনসেপ্ট একেবারে ক্লিয়ার হয়ে যাবে। এবং এর পরেই ক্যুইজে অংশগ্রহণ করে এই পর্ব সম্পর্কে তোমার জ্ঞান যাচাই করো এবং মাধ্যমিকের জন্য প্রস্তুত হও।
Total Slides: 6
Rate this Quiz
Average Rating: 5 / 5 (1 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ কে ছিলেন?
'পঞ্চসিদ্ধান্তিকা' এবং 'বৃহৎসংহিতা' গ্রন্থ দুটির রচয়িতা কে?
'আ হিস্ট্রি অব হিন্দু কেমিস্ট্রি' (A History of Hindu Chemistry) গ্রন্থটি কার লেখা?
আধুনিক ভারতের চিকিৎসাবিদ্যা চর্চার সূত্রপাত হয় কোন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে?
আন্তর্জাতিক নারী বর্ষ (International Women's Year) পালিত হয় কোন বছর?
নারী ইতিহাস চর্চা মূলত কোন দশক থেকে শুরু হয়?
জাতিসংঘ কোন সময়কালকে 'নারী দশক' (Women's Decade) হিসেবে ঘোষণা করেছে?
'দ্য ক্রিয়েশন অব প্যাট্রিয়ার্কি' (The Creation of Patriarchy) গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
পরিবেশ রক্ষার জন্য চিপকো আন্দোলনে কোন নারীর নেতৃত্ব প্রশংসনীয়?
নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
'ডিড উইমেন হ্যাভ আ রেনেসাঁ?' গ্রন্থটি কার রচনা?
'সায়েন্স ইন হিস্ট্রি' (Science in History) গ্রন্থটির লেখক কে?
প্রাচীন ভারতে শল্য চিকিৎসায় (Surgery) কে বিখ্যাত ছিলেন?
'উইমেন ইন মডার্ন ইন্ডিয়া' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
চিকিৎসকরা যে হিপোক্রেটিক শপথ নেন, তার উৎস কোন খ্রিস্টপূর্বাব্দে?
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
আর্যভট্ট প্রাচীন ভারতের একজন বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ ছিলেন।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
'আ হিস্ট্রি অব হিন্দু কেমিস্ট্রি' গ্রন্থটি রচনা করেন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দকে জাতিসংঘ 'আন্তর্জাতিক নারী বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করে।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
গের্ডা লার্নার তাঁর বইতে মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় নারীনির্যাতনের কথা উল্লেখ করেননি।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী ছিলেন মেধা পাটেকর।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
জাতিসংঘ খ্রিস্টাব্দকে আন্তর্জাতিক নারী বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
নারী দশক হিসেবে থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সময়কালকে পালন করা হয়।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
জোয়ান কেলির বিখ্যাত গ্রন্থ 'ডিড উইমেন হ্যাভ আ রেনেসাঁ?' প্রকাশিত হয় খ্রিস্টাব্দে।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
গের্ডা লার্নারের বিখ্যাত নারী ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ 'দ্য ক্রিয়েশন অব প্যাট্রিয়ার্কি' প্রকাশিত হয় খ্রিস্টাব্দে।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
নারী ইতিহাস চর্চার আধুনিক ধারার সূত্রপাত ঘটে -এর দশক থেকে।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- History Home: দশম শ্রেণির ইতিহাস-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: ইতিহাসের ধারণা
ইতিহাসের ধারণা অধ্যায়ের পাঁচ পর্ব
- পর্ব ১: নতুন সামাজিক, খেলা, খাদ্য ও পোশাকের ইতিহাস
- পর্ব ২: শিল্পচর্চা, নাটক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস
- পর্ব ৩: স্থানীয়, শহরের, সামরিক এবং পরিবেশের ইতিহাস
- পর্ব ৪: তুমি এখানে পড়ছ (বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিদ্যা এবং নারী ইতিহাস)
- পর্ব ৫: আধুনিক ইতিহাসচর্চার উপাদান
Leave a Reply