মাধ্যমিক ইতিহাস প্রস্তুতির আজকে আমরা ষষ্ঠ অধ্যায় ‘বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন’-এর সর্বশেষ অংশ নিয়ে আলোচনা করব। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের সাফল্য ভারতের পরাধীন ও শোষিত যুবসমাজের মনে এক বিরাট আশার আলো জাগিয়েছিল। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, শ্রমিক ও কৃষকরা একজোট হলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকেও উপড়ে ফেলা সম্ভব। আজকে আমরা মানবেন্দ্রনাথ রায়ের ভূমিকা, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা, শ্রমিক-কৃষক দল এবং ঐতিহাসিক মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা নিয়ে খুব সহজভাবে জানব।
মানবেন্দ্রনাথ রায় ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (CPI)
ভারতে বামপন্থী বা সাম্যবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ হলেন মানবেন্দ্রনাথ রায় (M. N. Roy)। তাঁর আসল নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তিনি ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর রাশিয়ার তাশখন্দে অবনী মুখোপাধ্যায় এবং অন্যান্যদের সাথে মিলে প্রথম ‘ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি’ (Communist Party of India বা CPI) গঠন করেন।
পরবর্তীতে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কানপুরে সত্যভক্তের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের মাটিতে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা হয়। এই দলের প্রধান লক্ষ্য ছিল শ্রমিক ও কৃষকদের অধিকার আদায় করা এবং সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ব্রিটিশদের ভারত থেকে বিতাড়িত করা।
শ্রমিক-কৃষক দল (Workers’ and Peasants’ Party)
কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ হওয়ার ভয়ে এবং জাতীয় কংগ্রেসের ভেতরে থেকে সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের দাবি তুলে ধরার জন্য বামপন্থীরা ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে ‘শ্রমিক-কৃষক দল’ (Workers’ and Peasants’ Party বা WPP) গঠন করেন।
মুজফফর আহমেদ, শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গে (এস. এ. ডাঙ্গে), কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ এই দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজফফর আহমেদের সম্পাদনায় ‘লাঙল’ এবং ‘গণবাণী’ পত্রিকা বাংলার কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে সাম্যবাদী চিন্তাধারার ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছিল।
মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯ খ্রি.)
ভারতে বামপন্থী এবং ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের এই প্রবল জনপ্রিয়তা দেখে ব্রিটিশ সরকার রীতিমতো ভয় পেয়ে যায়। এই আন্দোলনকে অঙ্কুরেই বিনাশ করার জন্য ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুজফফর আহমেদ, এস. এ. ডাঙ্গে, পিসি যোশী-সহ ৩৩ জন প্রথম সারির কমিউনিস্ট ও শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ৩৩ জনের মধ্যে ফিলিপ স্প্র্যাট, বেন ব্রাডলি এবং লেস্টার হাচিনসন নামে ৩ জন ব্রিটিশ কমিউনিস্ট নেতাও ছিলেন। এই নেতাদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যে মামলা দায়ের করা হয়, তাকেই ইতিহাসে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (Meerut Conspiracy Case) বলা হয়। মজার বিষয় হলো, এই মামলার ফলে বামপন্থী আন্দোলন শেষ হওয়ার বদলে, নেতাদের বক্তব্য সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ায় সাম্যবাদী চিন্তাধারা গোটা ভারতে আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এবং রোমাঁ রল্যাঁ এই মামলার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন।
বামপন্থী আন্দোলনের বিকাশ তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের নলেজ স্লাইডগুলো বা তথ্যমালা ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- কমিউনিস্ট পার্টি, মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা) এবং নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে: মানবেন্দ্রনাথ রায়, কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা এবং মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
