ইতিহাসের ধারণা (Concept of History) অধ্যায়ের অন্তর্গত শিল্পচর্চা (সংগীত, নৃত্য, নাটক, চলচ্চিত্র) এবং যানবাহনের ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষা উপযোগী তথ্য ও ক্যুইজ প্রদান করা হয়েছে। এই অংশে একটি জাতির সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত বিবর্তনের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আধুনিক ইতিহাসচর্চায় রাজা-মহারাজাদের পাশাপাশি সংগীত ও নৃত্যকলার ইতিহাস, নাটক ও চলচ্চিত্রের বিকাশ (যেমন- ভারতের প্রথম নির্বাক ও সবাক ছবি) এবং যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস (রেলপথ, ট্রাম, এরোপ্লেন আবিষ্কার) কীভাবে একটি সমাজের সামগ্রিক জীবনধারার পরিচয় দেয়, তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
শিল্পচর্চার ইতিহাস: সংগীত, নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আগের পর্বে আমরা নতুন সামাজিক ইতিহাস সম্পর্কে জেনেছি। আজ আমরা জানব শিল্পচর্চা নিয়ে। একটি জাতি সাংস্কৃতিক দিক থেকে কতটা উন্নত, তা জানা যায় তাদের শিল্পচর্চার ইতিহাস থেকে। এর মধ্যে পড়ে সংগীত, নৃত্য, নাটক এবং চলচ্চিত্র।
ভারতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা
ভারতীয় সংগীতের উৎস হলো ‘সামবেদ’। সময়ের সাথে সাথে এই সংগীতে নানা বিবর্তন এসেছে। ১২৫৩-১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে আমির খসরু কাওয়ালি গানের প্রবর্তন করেন, তাই তাঁকে ‘কাওয়ালির জনক’ বলা হয়। আমাদের বাংলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রবীন্দ্রসংগীত এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে নৃত্যকলার ক্ষেত্রেও ভারত অনেক প্রাচীন। তামিলনাড়ুর ভারতনাট্যম, কেরালার কথাকলি, উত্তর ভারতের কথক এবং পূর্ব ভারতের ছৌ নাচের মতো বিভিন্ন ধ্রুপদী নৃত্যধারা ভারতের সংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ।
নাটক ও চলচ্চিত্রের বিকাশ
উনিশ শতকে বাংলায় নাট্যচর্চার ব্যাপক প্রসার ঘটে। নাটকের মাধ্যমে সে যুগে জাতীয়তাবাদের প্রচার করা হতো। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ভারতীয় গণনাট্য সংঘ’ (IPTA), যা নাটককে সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলে।
চলচ্চিত্র বা সিনেমা হলো বিনোদনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে দাদাসাহেব ফালকের পরিচালনায় ভারতের প্রথম নির্বাক ছবি ‘রাজা হরিশচন্দ্র’ মুক্তি পায়। আর ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে মুক্তি পায় বাংলার প্রথম নির্বাক ছবি ‘বিল্বমঙ্গল’। এরপর ১৯৩১ সালে সবাক যুগে বাংলার প্রথম শব্দযুক্ত সিনেমা ‘দেনাপাওনা’ মুক্তি পায়। সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকের মতো পরিচালকরা ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছেন।
যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ওপর একটি দেশের অর্থনীতি ও সমাজ নির্ভর করে। আধুনিক যুগে মানুষ যান্ত্রিক যানবাহন ব্যবহার করছে। ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে জর্জ স্টিভেনসনের বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিন আবিষ্কার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনে। আমাদের কলকাতাতেও ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে ঘোড়ায় টানা ট্রাম এবং ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে বৈদ্যুতিক ট্রাম চালু হয়। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের এরোপ্লেন আবিষ্কার বিশ্বের দূরত্বকে ঘুচিয়ে দেয়। এই সবকিছুই আধুনিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
শিল্পচর্চা ও যানবাহনের ইতিহাস তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এবং তাদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে তোমাদের কনসেপ্ট একেবারে ক্লিয়ার হয়ে যাবে। এবং এর পরেই ক্যুইজে অংশগ্রহণ করে শিল্পচর্চা, সিনেমা ও যানবাহনের ইতিহাস সম্পর্কে তোমার জ্ঞান যাচাই করো এবং মাধ্যমিকের জন্য প্রস্তুত হও।
Total Slides: 6
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
