সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (Reform: Characteristics and Observations) অধ্যায়ের অন্তর্গত চিকিৎসাবিদ্যার বিকাশ এবং সমাজ সংস্কার আন্দোলন বিষয়ের পরীক্ষা উপযোগী তথ্য ও ক্যুইজ প্রদান করা হয়েছে। এই অংশে আধুনিক বাংলার চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সামাজিক রীতিনীতির বিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ইংরেজ আমলে কীভাবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার বিকাশ ঘটে, এবং রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কীভাবে সতীদাহ প্রথা রদ ও বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়, তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
চিকিৎসাবিদ্যার বিকাশ ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ
আগে আমাদের দেশে মূলত আয়ুর্বেদিক বা কবিরাজি চিকিৎসা প্রচলিত ছিল। কিন্তু পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যারও প্রসার ঘটতে থাকে। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের শাসনকালে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ। এটি ছিল এশিয়া মহাদেশের প্রথম আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ, যেখানে পাশ্চাত্য রীতিতে অ্যানাটমি বা শল্যচিকিৎসা শেখানো শুরু হয়।
প্রথম শবব্যবচ্ছেদ ও মধুসূদন গুপ্ত
ভারতীয় হিন্দু সমাজে মৃতদেহ বা শব ছোঁয়া মহাপাপ বলে মনে করা হতো। কিন্তু চিকিৎসাবিদ্যা শিখতে গেলে মানবদেহের ভেতরের গঠন জানা জরুরি। এই কুসংস্কার ভেঙে ইতিহাস তৈরি করেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এক বাঙালি ছাত্র এবং শিক্ষক পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত। তিনি ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম মানবদেহ বা শবব্যবচ্ছেদ (Dissection) করে ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা করেন।
সমাজ সংস্কার আন্দোলন: সতীদাহ প্রথা ও বিধবা বিবাহ
উনিশ শতকের বাংলা ছিল কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। সেই অন্ধকার থেকে সমাজকে আলোয় ফেরানোর জন্য যাঁরা লড়াই করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে রাজা রামমোহন রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হলেন অন্যতম।
রাজা রামমোহন রায় ও সতীদাহ প্রথা রদ
সে যুগে হিন্দু সমাজে স্বামীর মৃত্যু হলে তাঁর জ্বলন্ত চিতায় বিধবা স্ত্রীকে জোর করে পুড়িয়ে মারা হতো, যাকে ‘সতীদাহ প্রথা’ বলা হতো। রাজা রামমোহন রায় প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্র ঘেঁটে প্রমাণ করেন যে এই প্রথা ধর্মসম্মত নয়। তাঁর প্রবল আন্দোলনের ফলে এবং ইংরেজ শাসক লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সহায়তায় ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে সপ্তদশ বিধি (Regulation XVII) দ্বারা সতীদাহ প্রথাকে বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা করা হয়। রামমোহন রায়ের প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মসমাজ এই আন্দোলনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও বিধবা বিবাহ আইন
সতীদাহ প্রথা বন্ধ হলেও বাল্যবিধবাদের জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টের। পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ‘পরাশর সংহিতা’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করেন যে হিন্দু শাস্ত্রে বিধবা বিবাহের বিধান আছে। তিনি ৯৮৭ জনের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদনপত্র জমা দেন। অবশেষে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ডালহৌসি (বা ক্যানিংয়ের আমলে) বিধবা বিবাহ আইন (Hindu Widows’ Remarriage Act) পাস করেন। ওই বছরেই বিদ্যাসাগর নিজের উদ্যোগে শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন ও কালীমতী দেবীর প্রথম বিধবা বিবাহ সম্পন্ন করেন।
চিকিৎসাবিদ্যা ও সমাজ সংস্কার তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, আইন ও মনীষীদের অবদান সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে তোমাদের কনসেপ্ট একেবারে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
ক্যুইজ সম্পর্কে: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, মধুসূদন গুপ্ত, সতীদাহ প্রথা রদ এবং বিধবা বিবাহ আইন সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
