Install our QSH India App. Less than 2 MB.

বাংলায় বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ

মাধ্যমিক ইতিহাস প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা পঞ্চম অধ্যায় ‘বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ’-এর দ্বিতীয় অংশ নিয়ে আলোচনা করব। ব্রিটিশরা ভারতে যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিল, তাতে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না। তারা চেয়েছিল ভারতীয়রা শুধু কেরানি হয়ে তাদের কাজ করুক। কিন্তু উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলার বেশ কয়েকজন স্বপ্নদ্রষ্টা বুঝতে পেরেছিলেন যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নতি না করলে দেশের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা IACS, বসু বিজ্ঞান মন্দির এবং জাতীয় শিক্ষা পরিষদ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বাংলায় আধুনিক বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করেছিল, তা জানব।

বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার: IACS থেকে বসু বিজ্ঞান মন্দির

উনিশ শতকে ভারতে বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স (IACS)। প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. মহেন্দ্রলাল সরকারের উদ্যোগে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফাদার ইউজিন লাঁফো ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের একজন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক। এখান থেকেই গবেষণা করে সি. ভি. রমন ১৯৩০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এরপর ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এবং তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষের আর্থিক সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ (Calcutta Science College) বা রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ।
এছাড়া, ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতায় ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ (Bose Institute) প্রতিষ্ঠা করেন। পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা এবং মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এটি আজও ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান।

কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিকাশ

লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫) প্রতিবাদে যখন স্বদেশি আন্দোলন শুরু হয়, তখন ভারতীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এই উদ্দেশ্যে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (National Council of Education) গঠিত হয়।

একই বছর, অর্থাৎ ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে, বাঙালি যুবকদের স্বনির্ভর করার জন্য তারকনাথ পালিত বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (Bengal Technical Institute বা BTI) প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত। পাশাপাশি, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ১৮৯২ সালে বেঙ্গল কেমিক্যালস প্রতিষ্ঠা করে ভারতে আধুনিক রসায়ন শিল্প এবং ওষুধ তৈরির পথ প্রশস্ত করেছিলেন।

বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ তথ্যমালা ও ক্যুইজ

নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- IACS, বসু বিজ্ঞান মন্দির, জাতীয় শিক্ষা পরিষদ) এবং নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যুইজ সম্পর্কে: বাংলায় বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।

Slow
বাংলায় বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ তথ্যমালা

Total Slides: 5

From: To:

Rate this Quiz

Average Rating: 0 / 5 (0 votes)

Click on a star to rate:

Slow
বাংলায় বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ সম্পর্কিত কুইজ

Total Questions: 28 | Total Marks: 40


গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ অধ্যায়ের তিন পর্ব

Share this:

Leave a Comment

×
History
ASK