Install our QSH India App. Less than 2 MB.

সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা দশম শ্রেণির ইতিহাস

দশম শ্রেণির ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায়ে তোমাদের স্বাগত! উনিশ শতকের বাংলা ছিল পরিবর্তন এবং আধুনিকতার এক বিশাল পরীক্ষাগার। ইংরেজরা আসার পর পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে বাঙালি সমাজের চিন্তাধারায় এক বিরাট আলোড়ন তৈরি হয়। এই অধ্যায়ে আমরা জানব কীভাবে ‘বামাবোধিনী’, ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ বা ‘নীলদর্পণ’-এর মতো পত্রিকা ও সাহিত্য সমাজকে পথ দেখিয়েছিল। পাশাপাশি, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহান মনীষীরা কীভাবে সতীদাহ প্রথা রদ, নারীশিক্ষার প্রসার এবং ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে ‘বাংলার নবজাগরণ’-এর সূচনা করেছিলেন, তা আমরা ধাপে ধাপে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। চলো, আধুনিক বাংলার ইতিহাস গড়ার এই রোমাঞ্চকর যাত্রা শুরু করি!

সূচিপত্র সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

উনিশ শতকের সমাজ সংস্কার একনজরে

সাময়িকপত্র ও সাহিত্য 📰

সমকালীন সমাজের চিত্র ফুটে ওঠে বামাবোধিনী, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, গ্রামবার্তা প্রকাশিকা, হুতোম প্যাঁচার নকশা এবং দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকের মাধ্যমে।

আধুনিক শিক্ষার প্রসার 🎓

মেকলে মিনিট ও উডের ডেসপ্যাচের হাত ধরে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটে। বেথুন স্কুলের মাধ্যমে নারীশিক্ষার ব্যাপক উন্নতি হয়।

সমাজ সংস্কার ⚖️

রাজা রামমোহন রায়ের উদ্যোগে সতীদাহ প্রথা রদ (১৮২৯) এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে বিধবা বিবাহ আইন (১৮৫৬) পাশ হয়।

ধর্ম সংস্কার ও নবজাগরণ 🕉️

লালন ফকির, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সর্বধর্ম সমন্বয় এবং স্বামী বিবেকানন্দের নব্য বেদান্ত বাংলার নবজাগরণে নতুন মাত্রা যোগ করে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকা কেন প্রকাশিত হয়েছিল?

উনিশ শতকে বাংলার অবহেলিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন নারীদের শিক্ষিত করে তোলা এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে উমেশচন্দ্র দত্তের সম্পাদনায় ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

২. ‘মেকলে মিনিট’ (Macaulay Minute) কী?

১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ভারতে পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষা প্রবর্তনের পক্ষে যে বিখ্যাত প্রস্তাব বা নির্দেশনামা পেশ করেন, তাকেই ‘মেকলে মিনিট’ বলা হয়। এর ফলেই ভারতে সরকারিভাবে ইংরেজি শিক্ষার সূচনা হয়।

৩. কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রথম শবব্যবচ্ছেদ কে করেন?

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে। এই কলেজের ছাত্র পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম মানবদেহ বা শবব্যবচ্ছেদ (Dissection) করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

৪. সতীদাহ প্রথা রদ এবং বিধবা বিবাহ আইন কবে পাস হয়?

রাজা রামমোহন রায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা রদ করেন। আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আন্দোলনে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ডালহৌসিবিধবা বিবাহ আইন পাস করেন।

৫. ‘নব্য বেদান্ত’ (Neo-Vedanta) কী?

স্বামী বিবেকানন্দ প্রাচীন বেদান্ত দর্শনের যে নতুন এবং যুগোপযোগী ব্যাখ্যা দেন, তা ‘নব্য বেদান্ত’ নামে পরিচিত। এর মূল কথা হলো— জীবে প্রেম করা এবং মানুষের সেবার মাধ্যমেই ঈশ্বরের আরাধনা করা।

Share this:

Leave a Comment

×
History
ASK