সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (Reform: Characteristics and Observations) অধ্যায়ের অন্তর্গত পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার এবং নারীশিক্ষার বিকাশ বিষয়ের পরীক্ষা উপযোগী তথ্য ও ক্যুইজ প্রদান করা হয়েছে। এই অংশে আধুনিক বাংলার শিক্ষা সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ইংরেজ আমলে কীভাবে খ্রিস্টান মিশনারিদের হাত ধরে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার ঘটে, ‘মেকলে মিনিট’ ও ‘উডের ডেসপ্যাচ’ কীভাবে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বদলে দেয় এবং বেথুন সাহেব ও বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে কীভাবে নারীশিক্ষার বিকাশ ঘটে, তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। সব শেষে একটি সর্বাধিক পরীক্ষা উপযোগী তথ্যমালা ও ক্যুইজ প্রদান করা হয়েছে।
পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষার প্রসার
ইংরেজরা যখন ভারতে আসে, তখন আমাদের দেশে মূলত টোল এবং মাদ্রাসায় সংস্কৃত ও ফারসি ভাষায় প্রাচীন পদ্ধতিতে পড়াশোনা হতো। কিন্তু ব্রিটিশদের প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য এবং কিছু আধুনিক চিন্তাধারার ভারতীয়দের (যেমন- রাজা রামমোহন রায়) উদ্যোগে ভারতে পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষার প্রসার শুরু হয়। ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে ডেভিড হেয়ার ও রাধাকান্ত দেবের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দু কলেজ। এছাড়া উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ড (যাঁদের ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ বলা হয়)-এর মতো খ্রিস্টান মিশনারিরাও বাংলার গ্রামে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
মেকলে মিনিট এবং উডের ডেসপ্যাচ
ভারতে কোন ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হবে—প্রাচ্য না পাশ্চাত্য, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে টমাস ব্যাবিংটন মেকলে একটি নির্দেশনামা পেশ করেন। এতে তিনি ভারতে পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষা প্রবর্তনের পক্ষে জোর দেন। এটি ‘মেকলে মিনিট’ নামে পরিচিত। এর ফলেই ভারতে সরকারিভাবে ইংরেজি শিক্ষার পথ প্রশস্ত হয়।
এরপর ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্য একটি বিশাল নির্দেশনামা প্রকাশ করেন, যা ‘উডের ডেসপ্যাচ’ নামে পরিচিত। এটিকে ভারতের ‘পাশ্চাত্য শিক্ষার ম্যাগনাকার্টা’ (মহাসনদ) বলা হয়। এই নির্দেশনামার ওপর ভিত্তি করেই ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
নারীশিক্ষার বিকাশ
উনিশ শতকের শুরুতে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া ছিল একপ্রকার নিষিদ্ধ। কিন্তু জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন সাহেবের উদ্যোগে ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়’ (যা পরে বেথুন স্কুল নামে পরিচিত হয়)। এটি নারীশিক্ষার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও নারীশিক্ষার প্রসারে গ্রামবাংলায় ৩৫টির বেশি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। এই সমস্ত চেষ্টার ফলস্বরূপ কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় এবং চন্দ্রমুখী বসু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা স্নাতক হওয়ার বিরল সম্মান অর্জন করেন।
পাশ্চাত্য শিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিকাশ তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এবং তাদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে তোমাদের কনসেপ্ট একেবারে ক্লিয়ার হয়ে যাবে। এবং এর পরেই ক্যুইজে অংশগ্রহণ করে শিক্ষা সংস্কার সম্পর্কে তোমার জ্ঞান যাচাই করো এবং মাধ্যমিকের জন্য প্রস্তুত হও।
Total Slides: 5
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
