প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ অধ্যায়ের অন্তর্গত আদিবাসী বিদ্রোহ বিষয়ের পরীক্ষা উপযোগী তথ্য ও ক্যুইজ প্রদান করা হয়েছে। এই অংশে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণ এবং দেশীয় জমিদার ও মহাজনদের অত্যাচারে কীভাবে ভারতের আদিবাসী সমাজ রুখে দাঁড়িয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ছোটোনাগপুর অঞ্চলের কোল বিদ্রোহ, রাজমহল পাহাড়ের প্রান্তদেশে সাঁওতাল হুল এবং রাঁচি অঞ্চলে বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে মুন্ডা উলগুলান-এর কারণ, বিস্তার এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
কোল বিদ্রোহ (১৮৩১-৩২ খ্রি.)
ছোটোনাগপুর (বর্তমান ঝাড়খণ্ডের রাঁচি, হাজারিবাগ, পালামৌ) অঞ্চলের প্রাচীন অধিবাসী কোলদের ওপর ব্রিটিশ সরকার এবং বহিরাগত ইজারাদাররা যখন চরম করের বোঝা চাপিয়ে দেয়, তখন তারা ১৮৩১-৩২ খ্রিস্টাব্দে ভয়ংকর বিদ্রোহ শুরু করে। বুদ্ধু ভগত, জোয়া ভগত, সুই মুন্ডা প্রমুখের নেতৃত্বে কোলরা বহিরাগত মহাজন ও ইংরেজদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত আধুনিক অস্ত্রের সাহায্যে ব্রিটিশরা এই বিদ্রোহ দমন করলেও, কোলদের জন্য ‘দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি’ নামে একটি পৃথক ভূখণ্ড গঠন করতে বাধ্য হয়।
সাঁওতাল বিদ্রোহ বা হুল (১৮৫৫-৫৬ খ্রি.)
সাঁওতালরা মূলত রাজমহল পাহাড়ের প্রান্তদেশে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ শুরু করেছিল, এই জায়গাকে তারা ‘দামিন-ই-কোহ’ (পাহাড়ের প্রান্তদেশ) বলত। কিন্তু বহিরাগত বাঙালি ও মাড়োয়ারি মহাজনরা (যাদের সাঁওতালরা ‘দিকু’ বলত) সেখানে গিয়ে চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে তাদের জমি ও গবাদিপশু কেড়ে নিতে থাকে।
এর প্রতিবাদে ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন ভগনাডিহির মাঠে প্রায় দশ হাজার সাঁওতাল মিলিত হয়ে স্বাধীন সাঁওতাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার শপথ নেয়। এই বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন চার ভাই— সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব। সাঁওতালদের ভাষায় এই বিদ্রোহকে ‘হুল’ (বিদ্রোহ) বলা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ দমন করা হয়, তবুও ব্রিটিশরা ‘সাঁওতাল পরগনা’ নামে একটি পৃথক জেলা গঠন করতে বাধ্য হয়েছিল।
মুন্ডা বিদ্রোহ বা উলগুলান (১৮৯৯-১৯০০ খ্রি.)
মুন্ডাদের জমিতে যৌথ মালিকানা ছিল, যাকে ‘খুতকাঠি’ প্রথা বলা হতো। ব্রিটিশ ও জমিদাররা এই প্রথা ভেঙে দিয়ে জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা চালু করলে মুন্ডারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এই সময় বিরসা মুন্ডা নিজেকে ঈশ্বরের দূত (‘ধরিত্রী আবা’ বা পৃথিবীর পিতা) বলে ঘোষণা করেন। তাঁর ডাকে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে রাঁচি অঞ্চলে মুন্ডারা যে ভয়ংকর সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে, তা মুন্ডা ভাষায় ‘উলগুলান’ (প্রবল আলোড়ন বা ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা) নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহের ফলেই ব্রিটিশ সরকার ১৯০৮ সালে ‘ছোটোনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন’ পাস করে খুতকাঠি প্রথাকে স্বীকৃতি দেয়।
আদিবাসী বিদ্রোহ তথ্যমালা ও কুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- দিকু, দামিন-ই-কোহ, খুতকাঠি প্রথা, উলগুলান) এবং তাদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে তোমাদের কনসেপ্ট একেবারে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
ক্যুইজ সম্পর্কে: আদিবাসী বিদ্রোহের নেতা, সাল, কারণ এবং ফলাফল সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Total Questions: 26 | Total Marks: 38
