Install our QSH India App. Less than 2 MB.

নীল বিদ্রোহ ও শিক্ষিত সমাজের ভূমিকা ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্যুইজ

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ  অধ্যায়ের অন্তর্গত নীল বিদ্রোহ ও সমকালীন শিক্ষিত সমাজের ভূমিকা বিষয়ের পরীক্ষা উপযোগী তথ্য ও ক্যুইজ এখানে প্রদান করা হয়েছে। আগের পর্বগুলিতে আমরা বিভিন্ন উপজাতি ও ধর্মীয় আবরণে কৃষক বিদ্রোহের কথা জেনেছি। এই পর্বে আমরা জানব বাংলার ইতিহাসের অন্যতম সফল গণ-আন্দোলন নীল বিদ্রোহ (Indigo Rebellion) সম্পর্কে। নীলকর সাহেবদের অত্যাচার, দাদন প্রথা এবং এই বিদ্রোহে দিগম্বর বিশ্বাসবিষ্ণুচরণ বিশ্বাস-এর নেতৃত্বের পাশাপাশি, কীভাবে বাংলার শিক্ষিত সমাজ ও সংবাদপত্র কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, তা এখানে খুব সহজ ও সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

নীল চাষের প্রেক্ষাপট এবং নীলকরদের অত্যাচার

ইতিহাসের পাতায় নীল বিদ্রোহ এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের ফলে কাপড়ে রং করার জন্য নীলের চাহিদা প্রবলভাবে বেড়ে যায়। ব্রিটিশ নীলকর সাহেবরা তখন বাংলার কৃষকদের ধান বা পাটের বদলে জোর করে নীল চাষ করতে বাধ্য করে।
কৃষকদের চরম অভাবের সুযোগ নিয়ে নীলকররা তাদের নামমাত্র কিছু টাকা অগ্রিম দিত, যাকে ‘দাদন’ বলা হতো। একবার কোনো কৃষক দাদন নিলে সে আর ওই চুক্তি থেকে বেরোতে পারত না। নীল চাষে রাজি না হলে কৃষকদের ওপর চলত অকথ্য শারীরিক নির্যাতন, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হতো এবং পরিবারের নারীদের ওপর অত্যাচার করা হতো।

নীল বিদ্রোহের সূচনা (১৮৫৯-৬০ খ্রি.)

দেয়ালের পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ যেমন ঘুরে দাঁড়ায়, বাংলার কৃষকরাও তাই করেছিল। ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে নদিয়া জেলার চৌগাছা গ্রামে দুই ভাই— দিগম্বর বিশ্বাস এবং বিষ্ণুচরণ বিশ্বাসের নেতৃত্বে নীল বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। কৃষকরা একজোট হয়ে ঘোষণা করে যে তারা আর নীল বুনবে না। দেখতে দেখতে এই ধর্মঘটযশোর, খুলনা, পাবনা, ফরিদপুর থেকে শুরু করে গোটা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে।

সমকালীন শিক্ষিত সমাজের ভূমিকা

আগের বিদ্রোহগুলির সাথে নীল বিদ্রোহের একটি বড় পার্থক্য হলো, এই বিদ্রোহে বাংলার শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী সমাজ কৃষকদের পুরোপুরি সমর্থন করেছিল।

  • হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়: তাঁর সম্পাদিত হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় তিনি দিনের পর দিন নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের কথা ছেপে গোটা ভারত ও ইংল্যান্ডের মানুষের চোখ খুলে দিয়েছিলেন।
  • দীনবন্ধু মিত্র: তিনি ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে নীলদর্পণ নাটকটি রচনা করেন। এই নাটকে নীলকরদের পাশবিক অত্যাচার এবং বাংলার চাষিদের করুণ অবস্থার নিখুঁত ছবি ফুটে উঠেছিল। এর ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত

এই সম্মিলিত প্রতিবাদের ফলেই ব্রিটিশ সরকার ভয় পেয়ে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ‘নীল কমিশন’ (Indigo Commission) গঠন করতে বাধ্য হয় এবং ঘোষণা করে যে কৃষকদের জোর করে নীল চাষ করানো যাবে না।

নীল বিদ্রোহ ও শিক্ষিত সমাজের ভূমিকা তথ্যমালা ও ক্যুইজ

নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- দাদন প্রথা, নীলদর্পণ, হিন্দু প্যাট্রিয়ট) এবং নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে: নীলকরদের অত্যাচার, নীল বিদ্রোহের নেতৃত্ব ও বুদ্ধিজীবীদের অবদান সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।

Slow
নীল বিদ্রোহ ও শিক্ষিত সমাজের ভূমিকা তথ্যমালা

Total Slides: 5

From: To:

Rate this Quiz

Average Rating: 5 / 5 (1 votes)

Click on a star to rate:

Slow
নীল বিদ্রোহ ও শিক্ষিত সমাজের ভূমিকা সম্পর্কিত কুইজ

Total Questions: 28 | Total Marks: 40


Share this:

Leave a Comment

×
History
ASK