Install our QSH India App. Less than 2 MB.

লেখায় জাতীয়তাবোধের বিকাশ: আনন্দমঠ ও গোরা

মাধ্যমিক ইতিহাস প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা চতুর্থ অধ্যায় ‘সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ’-এর তৃতীয় অংশ নিয়ে আলোচনা করব। পরাধীন ভারতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শুধু তলোয়ার বা সভাসমিতিই যথেষ্ট ছিল না, দরকার ছিল মানুষের মনে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালানো। আর এই কাজটি সবচেয়ে ভালোভাবে করেছিল সে যুগের বাংলা সাহিত্য। আজকে আমরা জানব বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’, স্বামী বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ উপন্যাসের মতো কালজয়ী সাহিত্যকর্ম কীভাবে ভারতীয়দের মনে জাতীয়তাবোধ ও স্বদেশপ্রেমের প্রবল জোয়ার এনেছিল।

বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ ও দেশপ্রেম

উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে অনেকে বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক উপন্যাস রচয়িতা বলেন। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি ছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এবং সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে লেখা এই উপন্যাসে তিনি দেশমাতাকে ‘মা’ এবং দেশপ্রেমকে ‘ধর্ম’ হিসেবে তুলে ধরেন।
এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ‘বন্দেমাতরম্’ গানটি (যা তিনি ১৮৭৫ সালে রচনা করেছিলেন)। পরবর্তীকালে স্বদেশি আন্দোলনের সময় এবং ফাঁসির মঞ্চে বিপ্লবীদের মুখে এই ‘বন্দেমাতরম্’ ধ্বনিই ছিল ব্রিটিশদের কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের কারণ। দেশপ্রেম জাগানোর জন্য এই উপন্যাসকে ‘স্বদেশপ্রেমের গীতা’ বলা হয়।

স্বামী বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’

ভারতবাসীর মনে আত্মবিশ্বাস এবং জাতীয়তাবোধ জাগাতে স্বামী বিবেকানন্দের অবদান অপরিসীম। ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মুখপত্র ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রবন্ধ ‘বর্তমান ভারত’ প্রকাশিত হয় (গ্রন্থাকারে ১৯০৫ সালে)।
এই বইটিতে তিনি ভারতের অতীত ইতিহাস ব্যাখ্যা করেছেন এবং সমাজের দলিত, শূদ্র ও খেটে-খাওয়া মানুষদের অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি দেশবাসীকে পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ বাদ দিয়ে স্বদেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসার ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর লেখা বিপ্লবীদের এতটাই অনুপ্রাণিত করেছিল যে তাঁকে ‘ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক’ বলা হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ উপন্যাস

জাতীয়তাবোধের বিকাশে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হলো ‘গোরা’ (১৯১০ খ্রি.)। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গৌরমোহন বা গোরা একজন আইরিশম্যানের সন্তান হয়েও নিজেকে একজন সাচ্চা ভারতীয় হিসেবে মনে করে।
রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসে উগ্র হিন্দুত্ববাদ এবং বর্ণবৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। উপন্যাসের শেষে গোরা বলে ওঠে— “আমি ভারতবর্ষীয়। … আজ ভারতের সব বর্ণই আমার বর্ণ।” অর্থাৎ, হিন্দু, মুসলিম বা খ্রিস্টানের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে এক নজরে দেখাই হলো সত্যিকারের দেশপ্রেম বা জাতীয়তাবাদ

লেখায় জাতীয়তাবোধের বিকাশ তথ্যমালা ও ক্যুইজ

নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বই (যেমন- আনন্দমঠ, গোরা) এবং লেখকদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যুইজ সম্পর্কে: আনন্দমঠ, বর্তমান ভারত ও গোরা উপন্যাসের চরিত্র, সাল এবং রচয়িতা সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।

Slow
সাহিত্য ও জাতীয়তাবাদ তথ্যমালা

Total Slides: 5

From: To:

Rate this Quiz

Average Rating: 5 / 5 (1 votes)

Click on a star to rate:

Slow
সাহিত্য ও জাতীয়তাবাদ কুইজ

Total Questions: 28 | Total Marks: 40


Share this:

Leave a Comment

×
History
ASK