মাধ্যমিক ইতিহাস প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা ষষ্ঠ অধ্যায় ‘বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা’-এর প্রথম অংশ নিয়ে আলোচনা করব। বিশ শতকের শুরুতে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা বাংলার বুক চিরে ছড়িয়ে পড়েছিল সাধারণ কৃষক ও কলকারখানার শ্রমিকদের মধ্যে।
আজকে আমরা জানব বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন (১৯০৫) এবং অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) ভারতের কৃষক ও শ্রমিকদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর আলোচনা শেষে তোমাদের জন্য থাকছে ইন্টার্যাক্টিভ ক্যুইজ যা তোমাদের তোমাদের শিক্ষার মান যাচাই করতে সহযোগিতা করবে।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে কৃষক ও শ্রমিক
১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কার্জন যখন বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার ঘোষণা করেন, তখন গোটা বাংলায় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বা স্বদেশি আন্দোলন শুরু হয়। তবে এই আন্দোলনে কৃষকদের যোগদান খুব একটা চোখে পড়ার মতো ছিল না, কারণ এই আন্দোলনের নেতারা ছিলেন মূলত শহরের জমিদার ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
কিন্তু শ্রমিকদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। এই সময় বাংলার হাওড়া, কলকাতা ও রিষড়ার চটকল (Jute Mill), রেলওয়ে এবং ছাপাখানায় একের পর এক শ্রমিক ধর্মঘট শুরু হয়। বিপিনচন্দ্র পাল, চিত্তরঞ্জন দাশ এবং অশ্বিনীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা শ্রমিকদের একজোট করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
গান্ধিজির প্রথম সত্যাগ্রহ ও অসহযোগ আন্দোলন
১৯১৫ সালে মহাত্মা গান্ধী ভারতে ফেরার পর দেশের রাজনীতিতে এক বিরাট পরিবর্তন আসে। তিনি কৃষকদের অধিকারের জন্য ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বিহারের চম্পারণেনীলকরদের ‘তিনকাঠিয়া’ প্রথার বিরুদ্ধে এবং ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের খেদায় রাজস্ব মকুবের দাবিতে সফল সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেন।
এরপর ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয় ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলন। এই সময় কৃষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যোগ দেয়:
- যুক্তপ্রদেশের (অযোধ্যা) কৃষক আন্দোলন: বাবা রামচন্দ্রের নেতৃত্বে অযোধ্যার কৃষকরা একজোট হয়ে তালুকদার ও জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে প্রবল বিদ্রোহ করে এবং ‘অযোধ্যা কিসান সভা’ গঠন করে।
- মোপলা বিদ্রোহ (১৯২১ খ্রি.): দক্ষিণ ভারতের কেরালার মালাবার উপকূলে মুসলিম কৃষকরা (যাঁদের মোপলা বলা হতো) হিন্দু জমিদার (জেনমি) এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেছিল।
শ্রমিক সংগঠন: AITUC প্রতিষ্ঠা
অসহযোগ আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের শ্রমিক আন্দোলনও একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর বোম্বাই শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠন— নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (All India Trade Union Congress বা AITUC)। এর প্রথম সভাপতি ছিলেন লালা লাজপত রায়। এই সংগঠনের ছাতার তলায় ভারতের শ্রমিকরা তাদের মজুরি বৃদ্ধি এবং কাজের সময় কমানোর দাবিতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল।
কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- তিনকাঠিয়া প্রথা, মোপলা, এআইটিইউসি) এবং নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে:চম্পারণ সত্যাগ্রহ, বাবা রামচন্দ্র এবং AITUC সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
