মাধ্যমিক ইতিহাস প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা পঞ্চম অধ্যায় ‘বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ (উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত)’-এর প্রথম অংশ নিয়ে আলোচনা করব। আগেকার দিনে বই হাতে লেখা হতো বলে তা ছিল অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য ও দামি। কিন্তু ছাপাখানার বা মুদ্রণযন্ত্রের আবিষ্কার শিক্ষার জগতে এক বিশাল বিপ্লব নিয়ে আসে। কীভাবে পর্তুগিজদের হাত ধরে ভারতে ছাপাখানা আসে এবং চার্লস উইলকিন্স, পঞ্চানন কর্মকার, শ্রীরামপুর মিশন ও উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর হাত ধরে কীভাবে বাংলায় ছাপাখানার অভাবনীয় বিকাশ ঘটে।
ছাপাখানার সূচনা এবং হ্যালহেডের ব্যাকরণ
১৪৫৪ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির জোহানেস গুটেনবার্গ আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কার করেন, তাই তাঁকে ‘ছাপাখানার জনক’ বলা হয়। ভারতে প্রথম ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে গোয়ায় পর্তুগিজরা ছাপাখানা স্থাপন করে।
বাংলায় মুদ্রণশিল্পের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হলো ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দ। এই বছর হুগলিতে ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেডের লেখা ‘আ গ্রামার অফ দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ (A Grammar of the Bengal Language) বইটি ছাপা হয়। এই বইতেই প্রথমবার বাংলা অক্ষরের ছাঁচ ব্যবহার করা হয়েছিল। এই বাংলা অক্ষরের ছাঁচ তৈরি করেছিলেন চার্লস উইলকিন্স (যাঁকে ‘বাংলার গুটেনবার্গ’ বলা হয়) এবং তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বাংলার এক প্রতিভাবান স্বর্ণকার পঞ্চানন কর্মকার।
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস ও শিক্ষার প্রসার
উনিশ শতকের শুরুতে, ১৮০০ খ্রিস্টাব্দেউইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড (যাঁদের একত্রে ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ বলা হয়) শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন প্রেস বা ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
এই ছাপাখানাটি বাংলার মুদ্রণশিল্প ও শিক্ষার প্রসারে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে। এখান থেকেই রামরাম বসুর ‘প্রতাপাদিত্য চরিত্র’, বাইবেলের বাংলা অনুবাদ এবং ‘দিগদর্শন’ ও ‘সমাচার দর্পণ’-এর মতো পত্রিকা ছাপা হতে শুরু করে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে খুব অল্প দামে প্রচুর বইপত্র পৌঁছাতে শুরু করে এবং বাংলায় শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটে।
বাঙালিদের উদ্যোগ ও উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ইংরেজদের পাশাপাশি বাঙালিরাও ছাপাখানার ব্যবসায় এগিয়ে আসেন। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ছিলেন প্রথম বাঙালি প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা।
তবে বাংলার মুদ্রণশিল্পকে বিশ্বমানের করে তুলেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। তিনি ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে ‘ইউ. রায় অ্যান্ড সন্স’ (U. Ray and Sons) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজে গবেষণা করে ছবি ছাপার জন্য ‘হাফ-টোন ব্লক’ (Half-tone block) প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন, যা বাংলার বইয়ের পাতায় সুন্দর সুন্দর ছবি ছাপার পথ সহজ করে দেয়। তাঁর লেখা ‘ছেলেদের রামায়ণ’, ‘টুনটুনির বই’ আজও বাঙালি শিশুদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
বাংলায় ছাপাখানার বিকাশ তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের নলেজ স্লাইডগুলো বা তথ্যমালা ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- শ্রীরামপুর ত্রয়ী, হাফ-টোন ব্লক) এবং ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে: ছাপাখানার ইতিহাস, প্রথম বাংলা বই এবং উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর অবদান সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
