মাধ্যমিক ইতিহাস প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা অষ্টম অধ্যায় ‘উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব’-এর দ্বিতীয় অংশ নিয়ে আলোচনা করব। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা যখন ভারত ছাড়ে, তখন ভারতের বুকে প্রায় ৬০০টি ছোটো-বড়ো দেশীয় রাজ্য (Princely States) ছিল। ব্রিটিশরা এদের স্বাধীন থাকার অথবা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার অধিকার দিয়েছিল। এর ফলে ভারতের অখণ্ডতা এক ভয়ংকর সংকটের মুখে পড়ে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কীভাবে তাঁর অসাধারণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় জুনাগড়, হায়দ্রাবাদ এবং কাশ্মীরকে ভারতের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা ও ভারতভুক্তির দলিল
স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বুঝতে পেরেছিলেন যে, দেশীয় রাজ্যগুলি স্বাধীন থাকলে ভারতের বুক অসংখ্য টুকরোয় ভাগ হয়ে যাবে। তাই তিনি ‘স্বরাষ্ট্র দপ্তর’ (States Department) গঠন করেন এবং তাঁর সচিব ভি. পি. মেনন-কে সাথে নিয়ে রাজাদের বোঝাতে শুরু করেন।
তাঁরা ‘ভারতভুক্তির দলিল’ (Instrument of Accession) নামে একটি চুক্তিপত্র তৈরি করেন, যাতে সই করে বেশিরভাগ রাজ্যই ভারতের সাথে যুক্ত হয়। প্যাটেলের এই দৃঢ়তা ও কঠোর নীতির জন্যই তাঁকে ‘ভারতের লৌহমানব’ (Iron Man of India) বলা হয়। কিন্তু জুনাগড়, হায়দ্রাবাদ এবং কাশ্মীর স্বাধীন থাকার জেদ ধরে বসে।
জুনাগড় ও হায়দ্রাবাদের ভারতভুক্তি
- জুনাগড়: গুজরাটের এই রাজ্যের নবাব ছিলেন মুসলিম, কিন্তু বেশিরভাগ প্রজা ছিল হিন্দু। নবাব পাকিস্তানে যোগ দিতে চাইলে প্রজারা বিদ্রোহ করে এবং নবাব পাকিস্তানে পালিয়ে যান। এরপর ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ‘গণভোট’ (Plebiscite)-এর মাধ্যমে জুনাগড় ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- হায়দ্রাবাদ: এটি ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় দেশীয় রাজ্য। এখানকার শাসক নিজাম ওসমান আলি খান স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। তিনি ‘রাজাকার’ (Razakars) নামে এক সশস্ত্র ও উগ্র বাহিনী গঠন করেন, যার নেতা ছিল কাসিম রিজভি। রাজাকাররা হিন্দুদের ওপর ভয়ংকর অত্যাচার শুরু করলে, ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত সরকার হায়দ্রাবাদে ‘অপারেশন পোলো’ (Operation Polo) নামে একটি সামরিক ও পুলিশি অভিযান চালায় এবং নিজাম আত্মসমর্পণ করেন।
কাশ্মীর সমস্যা
কাশ্মীরের মহারাজা ছিলেন হিন্দু রাজা হরি সিং, কিন্তু বেশিরভাগ প্রজা ছিল মুসলিম। হরি সিং স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট সশস্ত্র উপজাতিরা কাশ্মীর আক্রমণ করে।
ভীত হয়ে মহারাজা হরি সিং ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর ‘ভারতভুক্তির দলিলে’ স্বাক্ষর করে ভারতের সাহায্য চান। ভারতীয় সেনা গিয়ে কাশ্মীরকে রক্ষা করে। এই সময় কাশ্মীরের জনপ্রিয় মুসলিম নেতা শেখ আবদুল্লা (ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা) ভারতকে পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন। পরে ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয় এবং ‘নিয়ন্ত্রণ রেখা’ (Line of Control বা LOC) নির্ধারিত হয়।
দেশীয় রাজ্যের ভারতভুক্তি তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- অপারেশন পোলো, ভারতভুক্তির দলিল) এবং নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে: দেশীয় রাজ্য, সর্দার প্যাটেল এবং হায়দ্রাবাদ ও কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
