Install our QSH India App. Less than 2 MB.

ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন | দশম শ্রেণি ইতিহাস ক্যুইজ

মাধ্যমিক ইতিহাস প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা অষ্টম অধ্যায় ‘উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব’-এর সর্বশেষ অংশ নিয়ে আলোচনা করব। ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করত, তখন তারা নিজেদের সুবিধার জন্য রাজ্যগুলোকে ভাগ করেছিল, সেখানে ভাষার কোনো গুরুত্ব ছিল না। কিন্তু স্বাধীন ভারতে মানুষ দাবি তুলল যে, একই ভাষায় কথা বলা মানুষদের জন্য আলাদা রাজ্য চাই। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানব পত্তি শ্রীরামুলুর আত্মত্যাগ, রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন এবং কীভাবে ভাষার ভিত্তিতে ভারতের বর্তমান মানচিত্রটি তৈরি হলো।

ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি ও প্রাথমিক কমিটি

ভারত স্বাধীন হওয়ার পরপরই দক্ষিণ ভারতে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য গঠনের দাবি তীব্র হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বিচার করার জন্য ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে দার কমিশন’ (Dar Commission) এবং ‘জে. ভি. পি. কমিটি’ (JVP Committee) গঠন করা হয়।
JVP কমিটিতে ছিলেন— জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল এবং পট্টভি সীতারামাইয়া। এই দুটি কমিটিই জানিয়ে দেয় যে, সদ্য স্বাধীন দেশে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য ভাগ করলে দেশের ঐক্য নষ্ট হতে পারে, তাই তারা এই দাবি খারিজ করে দেয়।

পত্তি শ্রীরামুলুর আত্মত্যাগ ও অন্ধ্রপ্রদেশ গঠন

কমিটির সিদ্ধান্তে দক্ষিণ ভারতের মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তেলেগু ভাষাভাষী মানুষদের জন্য মাদ্রাজ ভেঙে আলাদা অন্ধ্র রাজ্য গঠনের দাবিতে পত্তি শ্রীরামুলু ১৯৫২ সালে আমরণ অনশন শুরু করেন। টানা ৫৮ দিন অনশনের পর তাঁর মৃত্যু হলে অন্ধ্র অঞ্চলে ভয়ংকর দাঙ্গা ও আন্দোলন শুরু হয়।
পরিস্থিতি সামলাতে বাধ্য হয়ে ভারত সরকার ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে ভাষার ভিত্তিতে ভারতের প্রথম রাজ্য ‘অন্ধ্রপ্রদেশ’ গঠন করে।

রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন ও আইন (১৯৫৬)

অন্ধ্রপ্রদেশ গঠিত হওয়ার পর সারা ভারতে মারাঠি, গুজরাটি, কন্নড়, শিখ প্রভৃতি সম্প্রদায় ভাষার ভিত্তিতে নিজেদের রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এই দাবিগুলো খতিয়ে দেখার জন্য ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে বিচারপতি ফজল আলির সভাপতিত্বে ‘রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন’ (State Reorganization Commission) গঠিত হয়। এই কমিশনের অন্য দুই সদস্য ছিলেন কে. এম. পানিক্কর এবং হৃদয়নাথ কুঞ্জরু।

এই কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নয়, বরং ভারতীয় পার্লামেন্টে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ‘রাজ্য পুনর্গঠন আইন’ (State Reorganization Act) পাস হয়। এই আইন অনুযায়ী ভারতে মোট ১৪টি রাজ্য এবং ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠিত হয়।
পরবর্তীতে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাই রাজ্য ভেঙে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট এবং ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ‘অপারেশন বিজয়’-এর মাধ্যমে গোয়াকে পর্তুগিজদের হাত থেকে মুক্ত করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন তথ্যমালা ও ক্যুইজ

নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা (যেমন- রাজ্য পুনর্গঠন আইন, জে. ভি. পি. কমিটি) এবং নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যুইজ সম্পর্কে: ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠন, রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন এবং ভারতের বর্তমান মানচিত্র গঠন সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।

Slow
ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন বিষয়ক তথ্যমালা

Total Slides: 5

From: To:

Rate this Quiz

Average Rating: 5 / 5 (8 votes)

Click on a star to rate:

Slow
Quiz Iconভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন বিষয়ক ক্যুইজ

Total Questions: 28 | Total Marks: 40


গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

অষ্টম অধ্যায়ের তিন পর্ব

Share this:

Leave a Comment

×
History
ASK