সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ (১৭৬৩-১৮০০ খ্রি.)
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এবং ব্রিটিশদের কঠোর রাজস্ব নীতির কারণে বাংলার কৃষকদের অবস্থা যখন শোচনীয়, তখন তাদের সাথে যোগ দেন তীর্থকর দিতে বাধ্য হওয়া সন্ন্যাসী ও ফকিররা। ভবানী পাঠক, মজনু শাহ, চিরাগ আলি এবং দেবী চৌধুরানি-র মতো নেতাদের নেতৃত্বে ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ প্রভৃতি অঞ্চলে এই দীর্ঘস্থায়ী বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে এই বিদ্রোহের উল্লেখ পাওয়া যায়।
ওয়াহাবি আন্দোলন বা তারিকা-ই-মুহম্মদিয়া
আরবি শব্দ ‘ওয়াহাবি’ কথার অর্থ হলো ‘নবজাগরণ’। আরব দেশে আবদুল ওয়াহাব এই আন্দোলন শুরু করলেও, ভারতে এর প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি। ভারতে এই আন্দোলনের প্রকৃত নাম ছিল ‘তারিকা-ই-মুহম্মদিয়া’ বা মুহম্মদের প্রদর্শিত পথ।
বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলন ও তিতুমীর
বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন মীর নিসার আলি বা তিতুমীর। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করা জরুরি। তিনি কৃষকদের একজোট করে বারাসাত বিদ্রোহের সূচনা করেন। ব্রিটিশ ও দেশীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের জন্য তিনি ২৪ পরগনার নারকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ করেছিলেন। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের পাঠানো ব্রিটিশ গোলন্দাজ বাহিনীর কামানের আঘাতে এই বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হয় এবং তিতুমীর বীরের মতো যুদ্ধ করে মারা যান।
ফরাজি আন্দোলন
‘ফরাজি’ শব্দের অর্থ হলো ‘ইসলাম নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক কর্তব্য’। উনিশ শতকের শুরুতে হাজি শরিয়তউল্লাহ ফরিদপুর অঞ্চলে এই ধর্মীয় আন্দোলন শুরু করেন।
তবে, তাঁর ছেলে দুদু মিয়াঁ (মহম্মদ মহসীন) এই আন্দোলনকে একটি শক্তিশালী কৃষক বিদ্রোহে পরিণত করেন। তিনি ফরাজিদের লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন এবং ঘোষণা করেন— “জমি ঈশ্বরের দান, তাই জমির ওপর কর ধার্য করার অধিকার কারও নেই।” নীলকর সাহেব ও অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে দুদু মিয়াঁর এই লড়াই বাংলার কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
ধর্মীয় আবরণে কৃষক বিদ্রোহ তথ্যমালা ও ক্যুইজ
নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- ওয়াহাবি, ফরাজি, বাঁশের কেল্লা) এবং নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যুইজ সম্পর্কে: সন্ন্যাসী-ফকির, ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলন সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।
Total Slides: 5
Rate this Quiz
Average Rating: 5 / 5 (5 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 26 | Total Marks: 38
সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ কবে শুরু হয়েছিল?
নিচের কে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন?
'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি কোন্ বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত?
'ওয়াহাবি' শব্দের অর্থ কী?
ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত নাম কী ছিল?
ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
তিতুমীর কোথায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন?
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা কত খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস হয়?
বারাসাত বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
'ফরাজি' শব্দের অর্থ কী?
ফরাজি আন্দোলনের প্রবর্তক কে ছিলেন?
কে ফরাজি আন্দোলনকে একটি শক্তিশালী কৃষক আন্দোলনে পরিণত করেছিলেন?
"জমি ঈশ্বরের দান, তাই জমির ওপর কর ধার্য করার অধিকার কারও নেই"—উক্তিটি কার?
ফরাজি আন্দোলন মূলত বাংলার কোন্ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিল?
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
তিতুমীর ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
ফরাজি শব্দের অর্থ হলো নবজাগরণ।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানি নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
দুদু মিয়াঁ ঘোষণা করেছিলেন যে জমি ঈশ্বরের দান এবং এর ওপর কর নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত নাম ছিল তারিকা-ই-মুহম্মদিয়া।
সঠিক সাল বা শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
মজনু শাহ এবং ভবানী পাঠকের নেতৃত্বে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ শুরু হয় খ্রিস্টাব্দে।
সঠিক সাল বা শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান নেতা তিতুমীরের আসল নাম ছিল মীর আলি।
সঠিক সাল বা শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
তিতুমীরের নারকেলবেড়িয়ার বাঁশের কেল্লা ব্রিটিশ গোলন্দাজ বাহিনীর আক্রমণে ধ্বংস হয় খ্রিস্টাব্দে।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- History Home: দশম শ্রেণির ইতিহাস-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ
প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ অধ্যায়ের চার পর্ব
- পর্ব ১: বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের ধারণা, অরণ্য আইন এবং চুয়াড় বিদ্রোহ
- পর্ব ২: আদিবাসী বিদ্রোহ: কোল, সাঁওতাল (হুল) এবং মুন্ডা (উলগুলান) বিদ্রোহ
- পর্ব ৩: তুমি এখানে পড়ছ (ধর্মীয় আবরণে কৃষক বিদ্রোহ: সন্ন্যাসী-ফকির, ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলন)
- পর্ব ৪: নীল বিদ্রোহ এবং সমকালীন শিক্ষিত সমাজের ভূমিকা
Leave a Reply