মাধ্যমিক ইতিহাস প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা পঞ্চম অধ্যায় ‘বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ’-এর দ্বিতীয় অংশ নিয়ে আলোচনা করব। ব্রিটিশ শাসকরা ভারতে যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিল, তাতে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার কোনো স্থান ছিল না—তাদের লক্ষ্য ছিল ভারতীয়রা শুধু কেরানি হয়ে কাজ করুক। কিন্তু উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলার কয়েকজন দূরদর্শী মানুষ বুঝতে পেরেছিলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নতি না ঘটালে প্রকৃত জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজকের আর্টিকেলে আমরা IACS, বসু বিজ্ঞান মন্দির এবং জাতীয় শিক্ষা পরিষদ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বাংলায় আধুনিক বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার ভিত রচনা করেছিল, তা জানব।
এখন যে কুইজটি দিচ্ছি, তার আগে একটি তথ্যমালা (নলেজ স্লাইড) দেখানো হবে—সেটি ভালো করে পড়ো, তারপর কুইজ খেলো। এখানে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- IACS, বসু বিজ্ঞান মন্দির, জাতীয় শিক্ষা পরিষদ) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে তথ্য সাজানো আছে। মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক ধারণা তৈরি হবে এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য তা দারুণ কাজে লাগবে।
Total Slides: 5
Rate this Quiz
Average Rating: 4.75 / 5 (4 votes)
Click on a star to rate:
Total Questions: 28 | Total Marks: 40
IACS (ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স) কে প্রতিষ্ঠা করেন?
IACS কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?
IACS-এ গবেষণা করে কে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?
'বসু বিজ্ঞান মন্দির' (Bose Institute) কে প্রতিষ্ঠা করেন?
বসু বিজ্ঞান মন্দির কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?
কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ (Calcutta Science College) কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?
কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠায় কাদের আর্থিক অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল?
'জাতীয় শিক্ষা পরিষদ' (National Council of Education) কবে গঠিত হয়?
জাতীয় শিক্ষা পরিষদের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
'বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজ'-এর প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিলেন?
'বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট' (BTI) কে প্রতিষ্ঠা করেন?
বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
'বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
'অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি' কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
ফাদার ইউজিন লাঁফো কোন্ প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন?
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
ডা. মহেন্দ্রলাল সরকার বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠায় তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষ জমি ও অর্থ দান করেছিলেন।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
জাতীয় শিক্ষা পরিষদ ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়েছিল।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (BTI) বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত।
সত্য না মিথ্যা নির্ণয় করো।
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় 'বেঙ্গল কেমিক্যালস' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
ডা. মহেন্দ্রলাল সরকারের উদ্যোগে IACS (ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স) প্রতিষ্ঠিত হয় খ্রিস্টাব্দে।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু বিজ্ঞান বিষয়ক উচ্চতর গবেষণার জন্য বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন খ্রিস্টাব্দে।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
স্বদেশি আন্দোলনের সময় কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (BTI) প্রতিষ্ঠিত হয় খ্রিস্টাব্দে।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় খ্রিস্টাব্দে।
সঠিক সাল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ব্রিটিশ শিক্ষার বিকল্প হিসেবে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হয় খ্রিস্টাব্দে।
বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার: IACS থেকে বসু বিজ্ঞান মন্দির
ভারতে বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে সবচেয়ে পুরনো ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স (IACS)। প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. মহেন্দ্রলাল সরকারের উদ্যোগে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে এটি গড়ে ওঠে। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি সম্পূর্ণ দেশীয় বিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করা, যেখানে ভারতীয়রাই গবেষণার সুযোগ পাবে। ফাদার ইউজিন লাঁফো এখানকার একজন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই গবেষণা করে সি. ভি. রমন ১৯৩০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। পরে মেঘনাদ সাহা ও কে. এস. কৃষ্ণনের মতো বিজ্ঞানীরাও এখানে কাজ করেছেন।
এরপর ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জোরালো উদ্যোগে এবং তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষের আর্থিক সহায়তায় কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ (Calcutta Science College) বা রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, গণিত ও উদ্ভিদবিদ্যায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়, যা বাংলার বিজ্ঞান-শিক্ষাকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যায়।
এছাড়া, ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতায় ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ (Bose Institute) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি উদ্ভিদের প্রাণ আছে তা প্রমাণ করতে ক্রেসকোগ্রাফ নামের এক যন্ত্র তৈরি করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা ও মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠান দেশীয় বিজ্ঞানশিক্ষাকে বিশ্বমানের স্তরে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।
কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিকাশ
লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫) প্রতিবাদে স্বদেশি আন্দোলন যখন তীব্র হয়, তখন ভারতীয়রা নিজেদের উদ্যোগেই কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভব করে। এই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (National Council of Education) গঠিত হয়। এই পরিষদ ব্রিটিশ শিক্ষানীতির সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে একটি ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিল, যেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তির পাশাপাশি জাতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির চর্চাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হত।
একই বছর, ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে, বাঙালি যুবকদের স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্যে তারকনাথ পালিত বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (BTI) প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিটিআই-ই পরবর্তীকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে আত্মপ্রকাশ করে, যা বর্তমানে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ১৮৯২ সালে ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস’ প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়ে দেন যে ভারতীয়রাও আধুনিক রসায়ন ও ওষুধ শিল্পে স্বনির্ভর হতে পারে। এটি নিছক একটি কোম্পানি ছিল না, বরং স্বদেশি উদ্যোগের এক জ্বলন্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।
গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:
- Class 10 Home: দশম শ্রেণি মূল পাতা
- History Home: দশম শ্রেণির ইতিহাস-সকল অধ্যায়
- Current Chapter Home: বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা
বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ অধ্যায়ের তিন পর্ব
- পর্ব ১: বাংলায় ছাপাখানার বিকাশ এবং শিক্ষার প্রসার
- পর্ব ২: তুমি এখানে পড়ছ (বাংলায় বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ: IACS থেকে বসু বিজ্ঞান মন্দির)
- পর্ব ৩: ঔপনিবেশিক শিক্ষার সমালোচনা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাচিন্তা
Leave a Reply