🎓 Log in to save your performance and get free courses
My Course My Report Log In

Install the QSH India App

⭐ Thousands of students installed

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যথা দলিত ও নমঃশূদ্রের আন্দোলন

মাধ্যমিক ইতিহাস প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা সপ্তম অধ্যায় ‘বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন’-এর সর্বশেষ অংশ নিয়ে আলোচনা করব। বিশ শতকের ভারতের ইতিহাসে শুধুমাত্র ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, সমাজের ভেতরেও এক দীর্ঘ লড়াই চলেছিল অস্পৃশ্যতা এবং জাতিভেদের বিরুদ্ধে। সমাজের যে অংশকে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল, তাদের অধিকার আদায়ের এই সংগ্রামই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ড. বি. আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বে দলিত আন্দোলন এবং বাংলায় শ্রীহরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে নমঃশূদ্র আন্দোলন সম্পর্কে জানব।

দলিত আন্দোলন ও ড. বি. আর. আম্বেদকর

‘দলিত’ বলতে সমাজের সেই পিছিয়ে পড়া অংশকে বোঝায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে বর্ণ হিন্দুদের দ্বারা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে শোষিত ও অবহেলিত হয়েছে। মহাত্মা গান্ধী অস্পৃশ্যতা দূর করার জন্য এদের হরিজন (ঈশ্বরের সন্তান) নাম দিয়েছিলেন।

তবে ভারতে দলিতদের অধিকার আদায়ের সবচেয়ে বড় নেতা ছিলেন ড. বি. আর. আম্বেদকর (Dr. B.R. Ambedkar)। তিনি দলিতদের জন্য আলাদা নির্বাচন ও সংরক্ষণের দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি অস্পৃশ্যদের জলাশয় ব্যবহারের অধিকার আদায়ের জন্য ঐতিহাসিক ‘মাহার সত্যাগ্রহ’ করেছিলেন। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‍্যামসে ম্যাকডোনাল্ড ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি’ ঘোষণা করলে মহাত্মা গান্ধী এর প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধী ও ড. আম্বেদকরের মধ্যে ‘পুনা চুক্তি’ (Poona Pact) স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে দলিতদের জন্য নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণ করা হয়।

বাংলায় নমঃশূদ্র আন্দোলন

অবিভক্ত বাংলার ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বাখরগঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চলে মূলত কৃষিজীবী চণ্ডাল সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করত। তারা নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য ‘নমঃশূদ্র’ হিসেবে পরিচিতি লাভের আন্দোলন শুরু করে। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের জনগণনায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নমঃশূদ্র’ স্বীকৃতি পায়।

হরিচাঁদ ঠাকুরগুরুচাঁদ ঠাকুর

নমঃশূদ্রদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল শ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের। তিনি ফরিদপুর জেলার ওড়াকান্দিতে মতুয়া মহাসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মতে, ভক্তিই হলো মুক্তির একমাত্র পথ।
তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সুযোগ্য পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনের হাল ধরেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, শিক্ষা ছাড়া সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতি সম্ভব নয়। তাই তিনি নমঃশূদ্রদের মধ্যে ব্যাপকভাবে শিক্ষার প্রসার ঘটান। তাঁর মূল মন্ত্র ছিল— “হাতে কাম, মুখে নাম”। পরবর্তীকালে প্রমথরঞ্জন ঠাকুর এবং যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল বাংলার এই নমঃশূদ্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছিলেন।

দলিত ও নমঃশূদ্র আন্দোলন তথ্যমালা ও ক্যুইজ

নিচের তথ্যমালা বা নলেজ স্লাইডগুলো ভালো করে পড়ো। এখানে তোমাদের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন- পুনা চুক্তি, মতুয়া মহাসংঘ) এবং নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বা শুনলে তোমার সম্যক ধারনা হয়ে যাবে এবং পরীক্ষার পরিপেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যুইজ সম্পর্কে: দলিত আন্দোলন, পুনা চুক্তি এবং বাংলার নমঃশূদ্র আন্দোলন সংক্রান্ত এই ক্যুইজটি খেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।

Slow
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যথা দলিত ও নমঃশূদ্রের আন্দোলন তথ্যমালা

Total Slides: 5

From: To:

Rate this Quiz

Average Rating: 5 / 5 (3 votes)

Click on a star to rate:

Slow
Quiz Icon প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যথা দলিত ও নমঃশূদ্রের আন্দোলন কুইজ

Total Questions: 28 | Total Marks: 40


Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

×
History
ASK